ঘূর্ণিঝড় কোমেনে সারাদেশে নিহত ৪ : অনেকটা দুর্বল কোমেন : সাতক্ষীরা উপকূলীয় ভেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা


604 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘূর্ণিঝড় কোমেনে সারাদেশে নিহত ৪ : অনেকটা দুর্বল কোমেন : সাতক্ষীরা উপকূলীয় ভেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা
জুলাই ৩১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ৪ জেলায় ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এ অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি এখন অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্থলভাগ অতিক্রমের ফলে ঝড়ো হাওয়া বইছে উপকূলজুড়ে।সন্দ্বীপের কাছ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে উত্তর দিকে সরে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে দূর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে নোয়াখালী ও তৎসংলগ্ন স্থলভাগ এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় আবহাওয়া অধিদফতর এক বুলেটিনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সাতক্ষীরার পরিস্থিতি :
———————-
শুক্রবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরা জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে।শ্যামনগরে সকাল থেকেই আকাশ পরিস্কার রয়েছে।তবে হালকা দমকা হাওয়া বইছে বলে জানাগেছে।আমাদের শ্যামনগর প্রতিনিধি মেহেদি হাসান মারুফ সকাল সাড়ে ৯ টায় জানান, আকাশ পরিস্কার। সকাল থেকেই হালকা হাওয়া বইছে। তবে কোন বৃষ্টি হচ্ছে না। উপকূলীয় নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উকূলীয় ভেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। নদীর পানি ভেড়িবাঁধ ছুঁই ছুঁই অবস্থা। সুন্দরবনের জেলে বাওয়ালীরা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আমাদের আশাশুনি উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল কুমার জানান, সেখানে সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও দমকা হাওয়া নেই। উপকূলীয় চাকলা, শুভদ্রকাটি, নাকনা, প্রতাপনগর, চুইবাড়িয়া, হরিসখালী ও হিজলা এলাকায় উপকূলীয় ভেড়িবাঁধে ব্যাপক ফাঁটল দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুত্বে এসব এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এলাকার মানুষ আতন্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ফুট বৃদ্ধি পয়েছে। বৃষ্টি পানি নিস্কাশন হচ্ছেনা বিধায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রুপ ধারণ করছে।

দেমশর অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি :
———————————-

ঘূর্ণিঝড় কোমেন-এর প্রভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়।

এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার পর আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৩ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ মোকাবেলার জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পর্যাপ্ত ত্রাণও রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ, চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে যাত্রীবাহী নৌযান চালাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের আওতাধীন উপকূলীয় জেলাগুলোতে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার ও সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।