ঘূর্ণিঝড় সিডরের ৮ বছর পুর্তি : এখনো শোনা যায় কান্নার আওয়াজ


285 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘূর্ণিঝড় সিডরের ৮ বছর পুর্তি : এখনো শোনা যায় কান্নার আওয়াজ
নভেম্বর ১৫, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
আজ ১৫ নভেম্বর। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ৮বছর পূর্তি। ২০০৭ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দক্ষিন উপকূলে আঘাত হানে এ ঝড়। সে রাতে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে বঙ্গোপসাগর থেকে সিডর দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। তবে ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগ কবলিত এলাকায় হাহাকার থামেনি, এখনো শোনা যায় কান্নার আওয়াজ। শতাব্দীর ভয়াবহ ঐ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ৫ হাজার মানুষ। নিখোঁজ হয়েছিল কয়েক হাজার। রাত ৩ টায় প্রথমে বরিশাল-খুলনার উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে গিয়ে ধ্বংসের থাবা বসায়।

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ১৬ জেলায় চলে ভয়াবহ তন্ডবলীলা। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও আঘাত আনে। সিডরের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘরের ভেতর-বাইরে সবখানে লাশের ওপর লাশ পড়ে থাকে। হাজার হাজার বসতবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত আর বনাঞ্চল মাটির সঙ্গে মিশে উজাড় হয়ে যায়। অনেক জায়গায় ঘর-বাড়ি পুরোপুরি বিলীন হয়ে পড়ে।

সরকারি হিসেবে ২০ লাখ ঘরবাড়ি ভেসে যায় পানির ¯্রােতে। সাতক্ষীরায় এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি পার হয়ে আসতে পারেন নি। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও উপকূলবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের খুব কম মানুষকেই পুনর্বাসন করতে পেরেছে সরকার। এছাড়া ২০০৯ সালের আইলায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল সাতক্ষীরা চেহারা। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের দিন কাটছে চরম দুঃখ-দুর্দশায়। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন,“ আমাগো এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ দুর্বিসহ জীবন-যাপন করতেছে। সরকার কোন সাহায্য আমরা পাচ্ছিনি। আগে কদিন পাইলাম। এখন আমাগো দেখার কেউ নেই, আপনারা শুনে কি করবেন? আমাগো কি ঘর-বাড়ি বানাই নেবেন। নাকি আমাগো জন্যে খবার পাঠাই দেবেন।” একই এলাকার গৃহীনী রহিমা খাতুনের কাছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,“আইলা আর সিডর আমাগো সব কেডে নিয়ে গেছে। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করাতি পাততিছনি।”  শ্যামনগর এলাকার গাবুরা ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানায়,“আংগা গ্রাম খুব গরিব, আগে মানুষ ধান লাগাতি পারতো, এখন লোনা পানি উঠে আর ধান তো হয়না আর কোন গাছ  গাছালি ও হচ্ছেনা।

তাতে আবার সিডর,আইলা আর নদীর বাধ ভাংগায় এই গবাদী পশুও শূন্য হয়ে পড়েছে।” সিডরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা। সিডর আক্রান্ত এলাকায় কাফনের কাপড়ের অভাবে অনেকে নিহতের লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে দাফন করেন। এছাড়া কবরের জায়গার অভাবে গণকবরও দেওয়া হয়। এমনও হয়েছে একটি কবরে এক সঙ্গে দাফন করা হয় ২৪ জনকে। বহু লাশের কোনো পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। তাদেরকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাফন করা হয়। এ সময় চারদিকে মানুষের লাশ আর মরা জীবজন্তুর পচা গন্ধে পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে ওঠে। প্রায় ১ মাস পরও ধানক্ষেত, নদীর চর, বেড়িবাঁধ, গাছের গোড়া আর জঙ্গলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয় অনেক হতভাগার কঙ্কাল। কেউ কেউ সিডর আঘাত হানার অনেক দিন পর স্বজনদের কাছে ফিরেও আসেন। তবে না ফেরার সংখ্যাই ছিল বেশি।