ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে তালার খেশরা ও খলিশখালী ইউনিয়নে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি


732 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র তান্ডবে তালার খেশরা ও খলিশখালী ইউনিয়নে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি
নভেম্বর ১৩, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র পরিবার গুলোর মাঝে হতাশার ছাপ !

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

ধ্বংসাত্বক ঘুর্নিঝড় বুলবুল’র ছোবল থেকে মানুষের জীবন রক্ষা সহ সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে তালায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। ঝড়ে আহত হওয়া উপজেলার মহান্দি গ্রামের নিছার সরদার নামের এক ব্যক্তির চিকিৎসাধিন অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এছাড়া উপজেলার সর্বত্র মাছের ঘের, গাছ, ঘরবাড়ি, আমন ক্ষেত ও শীতকালীন ফসল সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে সবচে’ বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে উপজেলার খলিশখালী এবং খেশরা ইউনিয়নে।
খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব হোসেন রাজু জানান, বুলবল’র তান্ডবে ইউনিয়নের ৩শতাধিক ঘর বাড়ি আংশিক এবং শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আমন ধান, ক্ষেতের বিভিন্ন ফসল ও মাছের ঘের সহ বিভিন্ন গাছপালা পড়ে যাওয়ায় কোটি টাকার উর্দ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ জাহিদুর রহমান জানান, মুড়াগাছা, হরিহরনগর ও মুকুন্দপুর গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামে ভয়ংকর ঘূর্নিঝড় বুলবুল’র আঘাতে কাচা ও আধাপাকা ঘর বাড়ির ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এদেরমধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের অসহায় ৩শতাধিক মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। তাদের খাদ্য সংকট তৈরি হলেও সরকারি ভাবে তাদের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়নি। এই ওয়ার্ডে ১৮৩টি কাচা ও আধাপাকা বাড়ি আংশিক এবং ৫৪টি বাড়ি সম্পূর্ন ভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো অমানবিক জীবন-যাপন করছে। এছাড়া এলাকার বিলঘরালির চক, বারুইখালি খাল ও বাঁশতলার খাল সহ উন্মুক্ত খালে নেট-পাটা দিয়ে পানি নিস্কাশন বাঁধাগ্রস্থ করায় এলাকার নি¤œাঞ্চল জলাবদ্ধ রয়েছে। এসব ঘটনায় ইউপি সদস্য শেখ জাহিদুর রহমান সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
এদিকে, খলিশখালী ইউনিয়নে বুলবল’র অনুরুপ তান্ডবে গাছপালা, ফসল, মাছের ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যপক ক্ষতি হয়। একাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়া সহ তারের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়া এবং বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়ায় বিগত ৩দিন ধরে অন্য এলাকার ন্যায় খলিশখালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
খলিশখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফ্ফর রহমান জানান, ইউনিয়নে ১৫৭টি ঘরবাড়ির সম্পূর্ন এবং ১৭৫টি ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মাছের ঘের, গাছপালা, পানবরজ, শীত কালীন ফসল ও আমন ক্ষেত সহ অন্যান্য ফসলের মিলিয়ে ২ কোটি উর্দ্ধে ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্য দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার’র মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এব্যপারে গনেশপুর গ্রামের দরিদ্র শওকাত আলী মোড়ল’র ছেলে মো. রুহুল আমিন (২৭) জানান, পোল্ট্রি খামারে লাভবান হওয়ায় তাদের সংসারের দারিদ্রতা দূর হয়। পরবর্তিতে বাড়ির পাশে অন্যের জমি হারি নিয়ে ৩হাজার মুরগীর উপযোগী একটি খামার গড়ে তোলে সে। এই খামার করতে তাঁর ব্যাংক, এনজিও এবং মহাজন এর কাছে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা ঋনগ্রস্থ হতে হয়েছে। খামারে অবস্থিত ১ হাজার ৩শ ব্রীড থেকে তার মাসে ৪ লক্ষ টাকা আয় হবে এবং সব ঋন পরিশোধ করে সে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বি হবে- এমন স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সর্বনাশা ঘূর্নিঝড় সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে তাকে সর্বশান্ত করেছে। ঝড়ে খামারের চাল, বেড়া ও টিন নষ্ট হওয়ায় তার শতাধিক ব্রীড মুরগী মারা যায়। এছাড়া মুরগীর খাবার ও ২ হাজার ডিম নষ্ট হয়ে হয়ে যাওয়ায় রুহুল আমীনের ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে- ঋনের আতংক এবং চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে। রুহুল আমীনের মতো করুন অবস্থা একই গ্রামের হতদরিদ্র পাচু শেখ’র ছেলে রওশন শেখ’র। রওশন অন্যের ২৫ শতক জমি হারি নিয়ে সেখানে পান বরজ করে। এই বরজ থেকে আয়ের টাকা এবং স্ত্রী শামু বেগম’র মাঠে শ্রম বিক্রির টাকায় তাদের সংসার চলতো। কিন্তু বুলবুল’র আঘাতে তাদের বসত ঘর এবং পান বরজ ভেঙ্গে যাওয়ায় তাদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এই ক্ষতি পূরন করার সামর্থ না থাকায় তাদের চোখে-মুখে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ঋন-দেনা পরিশোধ, বসত ঘর সংস্কার ও সংসার কি ভাবে চলবে তানিয়ে তারা আতংকিত অবস্থায় রয়েছে।
এব্যপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলায় মোট কতগুলো পরিবার ও কি পরিমান সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ত এখনও সঠিক ভাবে নিরপন করা সম্ভব হয়নি। দু’ একদিনের মধ্যে ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি ভাবে সহায়তা প্রদানের বিষয় প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

#