ঘেরের চিংড়ি মাছ ও পাড়ে সবজি চাষ করে নারায়নের ভাগ্য পরিবর্তন


2326 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘেরের চিংড়ি মাছ ও পাড়ে সবজি চাষ করে নারায়নের ভাগ্য পরিবর্তন
ডিসেম্বর ৬, ২০১৫ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা :
দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের নারিকেলি গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন মন্ডল। পিতা, মাতা, স্ত্রী ও ১ ছেলে মেয়ে নিয়ে টানাপোড়েনর সংসার। অভাব অনাটনের সংসার। মাঠে ১১০ শতকের একটি ঘের তার একমাত্র সম্বল।

২০১৩ সালে এ.আই.এন প্রকল্পের সে একজন বাগদা চিংড়ি চাষী হিসেবে তালিকাভুক্তি হয়। প্রকল্পটি ইউ.এস এইড এর অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিস কর্তৃক সাতক্ষীরা সহ ২২টি জেলাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নারায়নদের ২০ জনের এ গ্রুপ দেখাশুনা করে মাঠ সহায়ক প্রদীপ চক্রবর্তী। ২০১৩ সালে পাক্ষিক ৮টি প্রশিক্ষণ ও ২০১৪ সালে ৪ টি প্রশিক্ষণ নারায়ণ সহ অনেককে স্বচ্ছলতার মুখ দেখিয়েছে। এ বছর সে তার ১১০ শতকের ঘেরে বাগদা চিংড়ির সাথে সাদা মাছ ও গলদার পোনা ছেড়েছিল।

তাছাড়া ঘেরের পাড়ে ঢেড়স, শিম, বরবটির, কুমড়ার চাষও করেছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সব্জি বীজও তারা প্রকল্প থেকে বিনা মূল্যে পেয়েছিল । মাদা তৈরী, কৃত্তিম পরাগায়ন, জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ, বৈর্দ্য মিক্সার,  ঘেরে সাদা মাছ কয়টি ছাড়তে হবে, কি খেতে দিতে হবে, নমুনায়ন কিভাবে কখন করতে হবে এ সবকিছুই তার প্রশিক্ষণ থেকে শেখা ।

তার আগ্রহের জন্য তার স্বামীও তার কাজে সাহায্য করে।  পাড় থেকে সব্জিতোলা ও তা ফড়িয়াদেও কাছে সঠিক মূল্যে বিক্রি করা এখন তার নিত্যদিনের কাজ। তার এসব বেচাকেনার  তথ্য সে তার রেকর্ড বইতে নিয়মিত লিখেও রাখে। এ বছর সে তার ঘের থেকে ৩৯০ কেজি বাগদা বিক্রি করেছে যার বিক্রয় মূল্য ২,৫১,২৫০ টাকা। তার ঘেরে বাগদার উৎপাদন হয়েছে শতক প্রতি ৩.৫৫ কেজি। এই শীতে ঘেরের জল যখন আর একটু কমতে থাকবে তখন সে তার ঘেরের মাছ বিক্রি করবে।

গত বছর সে এ ঘের থেকে শুধুমাত্র রুই, কাতলা, সিলভার কার্প,তেলাপিয়া বিক্রি করে ৫৫ হাজার টাকা মুনাফা করে। পাড়ের সব্জি থেকে আরও পায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। এ বছর তার আশা আরও বেশী। ইতোমধ্যে সে ১৫ হাজার টাকার সব্জি, ২৮ হাজার টাকার সাদা মাছ বিক্রীও করেছে।

তাছাড়া এ বছর প্রথমবারের মতো সে ঘেরে ২৫০০ পিছ গলদাও মজুদ করেছে। এসব মাছের বর্তমান মূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা। নারায়নের মতো এ গ্রামে আরো অনেকে লাভবান হচ্ছে।তারা ওয়ার্ল্ড ফিসের এ.আই.এন প্রকল্পের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের আশা ওয়ার্ল্ডফিসের এ প্রকল্প কার্যক্রম যেন আগামীতে গ্রামের অন্য প্রান্তে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে। তাহলে দ্রুতই সমাজ ও দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে।