ঘেরের মাছ ও সব্জি চাষ করে নুরুল ইসলামের ভাগ্য বদল !


367 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘেরের মাছ ও সব্জি চাষ করে নুরুল ইসলামের ভাগ্য বদল !
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা :
দরিদ্র কৃষক নূরুল ইসলামস্ত্রী ও ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে তার অভাবের সংসার। ৬ বিঘার একটি ঘের তার একমাত্র সম্বল। ২০১৪ সালে এ.আই.এন প্রকল্পের সে একজন সাদা মাছ চাষী হিসেবে তালিকাভুক্তি হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের প্রকল্পটি ইউ.এস এইড এর অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিস কর্তৃক সাতক্ষীরা সহ দেশের দক্ষিনাঞ্চলের ২২টি জেলাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নূরুল ইসলামের ২০ জনের এ গ্রুপ দেখাশুনা করে মাঠ সহায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন। গত বছরে পাক্ষিক ৮টি প্রশিক্ষণ ও এবছর ৪ টি প্রশিক্ষণ নূরুল ইসলামসহ অনেককে স্বচ্ছলতার মুখ দেখিয়েছে। এ বছর সে তার৬ বিঘা ঘেরে সাদা মাছের সাথে গলদার পোনা ছেড়েছিল। তাছাড়া ঘেরের পাড়ে ঢেড়স, শিম, বরবটির, কুমড়ার চাষও করেছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশিসব্জি বীজও তারা প্রকল্প থেকে বিনা মূল্যে পেয়েছিল । মাদা তৈরী, কৃত্তিম পরাগায়ন, জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ, বৈর্দ্য মিক্সার,  ঘেরে সাদা মাছ কয়টি ছাড়তে হবে, কি খেতে দিতে হবে, নমুনায়ন কিভাবে কখন করতে হবে এ সবকিছুই তার প্রশিক্ষণ থেকে শেখা। এই শীতে ঘেরের জল যখন আর একটু কমতে থাকবে তখন সে তার ঘেরের মাছ বিক্রি করবে। গত বছর সে এ ঘের থেকে শুধুমাত্র রুই, কাতলা, সিলভার কার্প,তেলাপিয়া বিক্রি করে৭০ হাজার টাকা মুনাফা করে। পাড়ের সব্জি থেকে আরও পায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এ বছর তার আশা আরও বেশী। ইতোমধ্যে সে গ্রীষ্মকালীন সব্জি  থেকে ২০ হাজার টাকা ও ২০ হাজার টাকার সাদা মাছ বিক্রীও করেছে। তাছাড়া এ বছর প্রথমবারের মতো সে ঘেরে ৫০০০ পিছ গলদাও মজুদ করেছে। আশা করছে শীতের সব্জি যেমন শীম, টমোটা, ওলকপি থেকে ৩০ হাজার টাকা ও সাদা মাছ ও গলদা থেকে আরও দুই লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবে। নূরল ইসলামের মতো এ গ্রামে আরো অনেকে লাভবান হচ্ছে। তারা ওয়ার্ল্ড ফিসের এ.আই.এন প্রকল্পের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের আশা ওয়ার্ল্ডফিসের এ প্রকল্প কার্যক্রম যেন আগামীতে গ্রামের অন্য প্রান্তে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে। নূরল ইসলামের এ সাফল্যগাঁথা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। সে তার ছেলেকে ছেলে মেয়েকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছে। নতুন ঘর তুলেছে। সংসারের অভাব ও অনেক কমেছে।