চাঁদা না দেয়ায় কেশবপুরে এক সংখ্যালঘুর ঘের দখলের চেষ্টা


326 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চাঁদা না দেয়ায় কেশবপুরে এক সংখ্যালঘুর ঘের দখলের চেষ্টা
জুন ৪, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ::
কেশবপুরে মোটা অংকের চাঁদা না পেয়ে উপজেলার চাতরার বিলের বড় ঘেরের মালিককে উচ্ছেদে এলাকার একটি মহল ষড়যন্ত্রসহ একের পর এক হামলা, মামলাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মহলটি এলাকার কিছু কৃষকের প্রলোভন দেখিয়ে ডিডে স্বাক্ষর করে নিয়ে বর্তমান ঘেরের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে এলাকার কৃষকরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। এ ঘটনায় ঘের মালিক পলাশ বৈরাগী ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঢোঙ্গাঘাটা গ্রামের মৃত বাদল বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী ১০৮ নং বেলকাটি ও ১০৯ নং সাগরদত্তকাটি মৌজার আওতায় চাতরার বিলের বড় ঘের কমিটির আহবানে গত ৫ মে চতুর্থ বারের টেন্ডারে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরে (বাংলা ১৪২৯ সালের ৩০ ফাল্গুন থেকে ১৪২৫ সালের ১ বৈশাখ) ৫ বছর মেয়াদে ঘেরটি ক্রয় করে ঘেরের বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ করতে থাকেন। যে চুক্তিপত্রে সাদা জমির হারি ১১ হাজার টাকা, ক্যানেল বেঁড়ি ৩১ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করে ৩০০ বিঘার ওই বিলের শতভাগ কৃষক ডিডে স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকে এলাকার আশরাফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বুলু, ব্জব্বার মোড়লসহ একটি মহল ওই ঘের মালিকের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেয়ায় ওই মহলটি পলাশ বৈরাগীর ঘেরের টোঙ ঘর ভেঙে ক্ষতি সাধনসহ ঘেরের মাছ মেরে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। ঘের মালিক পলাশ বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় ওই মহলটি তাকে ওই ঘের থেকে উচ্ছেদ করতে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। তাদের বাঁধার কারণে ঘেরের কর্মচারীরা সঠিকভাবে ঘের পরিচর্যা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঘের কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলম গাজী জানান, গত ৫ বছর ওই ঘের বেলকাটি গ্রামের জব্বার মোড়লকে দেয়া হয়। কিন্তু সে ডিডের শর্ত ভঙ্গ করে সাদা জমি ৯ হাজার টাকার স্থলে ৫ হাজার টাকা এবং ক্যানেল বেঁড়ি ৩৪ হাজার টাকার স্থলে ২৫ হাজার টাকা করে কৃষকদের হারি দিয়ে অবশিষ্ট সমুদয় টাকা সে আত্নসাৎ করে। এছাড়া ১০ অগ্রহায়ণের মধ্যে কৃষকদের হারির টাকা পরিশোধ করে ৩০ অগ্রহায়ণের মধ্যে ঘেরে পানি নিষ্কাশন করে কৃষকদের বোরো আবাদের সুযোগ করে দেয়ার কথা থাকলেও তাঁর তাল বাহানার কারণে কৃষকরা সময় মত ঘেরে বোরো আবাদ করতে ব্যর্থ হয়। এসব কারণে কৃষকরা তাঁর কাছে পুনরায় ঘের ডিড করে দিতে অস্বীকার করে। গত ৭ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে গড়ভাঙ্গা ঈদগাহ মাঠে এক সালিসি বৈঠক বসলেও বিষয়টি নিরসন না হওয়ায় অবশেষ ঘের কমিটির ক্যাশিয়ার মশিয়ার রহমান জব্বারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। ঘের কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন জানান, সাবেক ঘের মালিক জব্বার মোড়লের ডিডের মেয়াদ ৩০ চৈত্র শেষ হওয়ার পর সে আশরাফুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে ঘের কমিটির কাছে ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করে। এরই ফাকে আশরাফুল ইসলাম প্রলোভন দেখিয়ে কিছু কৃষকের ডিডে স্বাক্ষর নিলে ঘেরের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, আমি জেলে থাকায় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা গোপনের পলাশ বৈরাগীর কাছে বিলটি লিজ দিয়ে দেয়। কমিটির সদস্যরা অনিয়ম ও দূর্নিতীতে জড়িয়ে পড়ায় জেল থেকে বেরিয়ে আমি সভাপতি হিসেবে কমিটি ভেঙ্গে দি। পরবর্তীতে নতুন ভাবে ঘের কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি আশরাফুল ইসলামকে চাতরার বিল লিজ প্রদান করেন। এবিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, কাউকে হুমকি দেয়া বা জোর করে ঘের দখল করার ঘটনা মিথ্যা।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক নাজিমউদ্দীন জানান, পলাশ বৈরাগী সঠিক পন্থায় জনগণের দ্বারা স্বৃকৃত কমিটির কাছ থেকে ঘেরটি ৫ বছরের জন্যে লিজ নিয়েছে। যে ডিডি শতভাগ কৃষকের স্বাক্ষর রয়েছে। এরই ফাকে আশরাফুল ইসলাম হারির টাকা বেশী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এর ভেতর কিছু কৃষকের স্বাক্ষর গ্রহণ করে আদালতে ১৪৪ ধারার আবেদন করেছে। যার নং-৫২৪/১৮। গত ২৯ এপ্রিল উভয় পক্ষকে নোটিশ করে ডেকে ঘেরটি পলাশ বৈরাগীকে বুঝে দেয়া হয়েছে। ২ জুন পলাশ বৈরাগী তাঁর ঘেরে মাছ ছেড়েছে। কেউ ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #