চারু মুন্ডার বসত ভিটা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ


428 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চারু মুন্ডার বসত ভিটা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ
জুলাই ৫, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

আমি কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নির্বাহী পরিচালক, সামস্ ::
উপস্থিত সকলকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে. শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামে ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি)কে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য আপনাদের সামনে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করলাম।
শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামে চারু মুন্ডা, পিতা- মৃত ভরত মুন্ডা, মাতা- ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) প্রায় ২০ বছর ধরে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সম্প্রতি সময়ে চারু মুন্ডার গোয়াল ঘর ঝড়ে ভেঙে যায় এবং গরুগুলো রাখার জন্য বসত ঘরের পিছনে কোন রকম একটি চালা নামিয়ে অস্থায়ীভাবে গরু রাখতে শুরু করেন। কিন্তু বিশেষ করে রাতের বেলা গরু সেই ঘরের পিছনে না রেখে বসত ঘরে রাখা শুরু করেন। সেই বসত ঘরের একপাশে ফুলকি মুন্ডা থাকেন এবং অপরদিকে গরু থাকে। চারু মুন্ডা দীর্ঘদিন ধরে তার পুরানো জায়গায় গোয়াল ঘর বাঁধার জন্য চেষ্টা করেন কিন্তু তার প্রতিবেশি রাশেদুল ইসলাম, পিতা- মোঃ জামাল গাজী, মাতা-রাশিদা সেই ঘর বাঁধার জন্য বাধা প্রদান করেন। অপরদিকে রাশেদুল চারু মুন্ডার ভিটার পূর্ব পাশে কিছু রেকর্ডের জমি ক্রয় করেন এবং তিনি যখন তার জমি পরিমাপ করেন তখন চারু মুন্ডার বসতভিটার উপর এসে সীমানা খুঁটি পড়ে। এক্ষেত্রে চারু মুন্ডা বাধা প্রদান করেন। তবে এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, যেখানে গোয়াল ঘর ছিল সেখানেই রাশেদুল ইসলামের জমির সীমানা এসে পড়ে। এরপর যখন রাশেদুল তার ক্রয়কৃত জমির চারিদিকে রেড়া দেওয়া শুরু করে তখন চারু মুন্ডাও তার বসতভিটার পূর্ব পাশে বেড়া দেওয়া শুরু করে। পরবর্তী সময়ে রাশেদুল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগীতা নিয়ে এবং তার নির্দেশে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠান এবং চারু মুন্ডার দেওয়া বেড়া অর্ধেক ভেঙে দেওয়া হয়। সেই সময়ে চারু মুন্ডা আবার বাধা প্রদান করলে বেড়া ভাঙা স্থগিত করা হয়।
এই ঘটনা যখন আমি জানতে পারি তখন গত ২৯শে জুন, ২০১৭ প্রথমে আমি চারু মুন্ডার বাড়ীতে যাই এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরিদর্শনের মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে, চলতি বছরের বৈশাখ মাসে তার গোয়াল ঘরটি ঝড়ে ভেঙে যায় এবং তখন থেকেই দিনের বেলায় গরু বসতঘরের পিছনে অস্থায়ী ঘরে অর্থাৎ বসতঘরের সাথে একটি চালা নামিয়ে সেখানে রাখেন এবং রাতে বসত ঘরের ভিতরে রাখেন। কারণ, তিনি যে অস্থায়ী ঘরে গরু রাখেন সেটির চারিদিকে কোন বেড়া নেই এবং চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। যেহেতু চারু মুন্ডা সহায় সম্বল বলতে তার এই গরুগুলো। এই জন্য গরুগুলোর নিরাপত্তার জন্য তিনি তার বসত ঘরে রাখেন। তিনি এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়ান। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের শরণাপন্ন হন। অপরদিকে তার জায়গার সমস্যার সমাধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে যান। কিন্তু সেই সমস্যার কোন সমাধান তিনি পাননি। উক্ত বিষয়টি নিয়ে আমি গত বৃহস্পতিবার (২৯-০৬-২০১৭) আমি ও চারু মুন্ডা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করি এবং তিনি বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশস্ত করেছেন।
এরপর আমি গত ৩০শে জুন, ২০১৭ তারিখে উক্ত ঘটনাটি আমার ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করি। যেখানে লেখা ছিল শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামের ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তার বসত ভিটায় উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘর বাঁধতে না পারায় বাস ঘরে বাধ্য হয়ে গরু রাখতে হচ্ছে। এখানে গরু ও মানুষের সহবস্থান। হায় মানবতা!!! আমি উপজেলা প্রশাসনকে ফুলকি মুন্ডার সমস্যাটি তাড়াতাড়ি সমাধানের জন্য অনুরোধ করছি। কারণ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাদের থাকতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।।
আমার এই ছবি পোষ্ট হওয়ার পরপরই বিভিন্ন দিকে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং আমার ধারণা প্রশাসনের উপর কিছু চাপ সৃষ্টি হয়। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে লেখেন, গত ২ জুলাই, ২০১৭ তারিখ সকালে তিনিসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তার ছেলে চারু মুন্ডার পরিবারের সাথে সরকারী খাস জমিতে বসবাস করে। তাদের গরু রাখার জন্য অলাদা গোয়াল ঘর আছে এবং বর্তমানে সেখানেই গরু রাখা হচ্ছে। তাদের বসবাসকৃত সরকারী খাস জমির পাশে রেকর্ডীয় জমির সীমানা ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের যাতায়াতের পথের জন্য ৫ ফুট জায়গা প্রদানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তার ছেলের পরিবারের সাথে শান্তিতে বসবাস করছে। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে আরো লেখেন, পরবর্তীতে এ ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার বক্তব্যে যে কথা বলেছেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় যে সকল নিউজ ছাপা হলো সেখানে বলা হয়েছে যে, চারু মুন্ডার গোয়াল ঘর আছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সেখানে কোন গোয়াল ঘর নেই। চারু মুন্ডা অস্থায়ীভাবে দিনের বেলায় গরু রাখার জন্য বসত ঘরের সাথে একটি ছাউনি দিয়ে গরু রাখেন। তবে সেখানে কোন নিরাপত্তা না থাকায় চারু মুন্ডা তার গরুগুলো বসত ঘরে রাখেন।

উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চেয়েছিলাম ফুলকি মুন্ডার বসত ভিটার সাথে রাশেদুল ইসলামের সীমানা নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেই সমস্যাটি যেন দ্রুত সমাধান হয় এবং ফুলকি মুন্ডার ছেলে যেন তার পুরানো জায়গায় গোয়াল ঘর বাধতে পারে।

কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমার পোষ্ট দেওয়াটাই অপরাধ হয়েছে। আসলে আমি যে দাবী তুলে ধরেছি সেটিকে অন্য দিকে প্রবাহিত করে আমাকেই দোষারোপ করা হলো। সেই সাথে আমাদের সংস্থার কার্যক্রমের উপর দোষারোপ করা হয়েছে।

আজ বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় আমার ফেসবুক এর নিউজ কে কেন্দ্র করে এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পত্রিকায় এমন কথাও লেখা হয়েছে যে, সামস্ এর নির্বাহী পরিচালক কে স্থানীয় মানুষ ধিক্কার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে আমি আদিবাসী মুন্ডাদের অধিকার নিয়ে কাজ করি বলে আমাকে বিভিন্নভাবে আমার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করা প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।

উক্ত পরিস্থিতি নিরসনে আমাদের দাবী সমূহঃ
১। ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) এর বসতভিটার সমস্যা নিরসন ও সীমানা খুঁটি দ্বারা চিহ্ণিত করণ।
২। সরকারী খাস জমির মালিকানা নিশ্চিত করা।

কৃষ্ণপদ মুন্ডা,
নির্বাহী পরিচালক, সামস্
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।
০৩-০৭-২০১৭