চালু হল কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমান কাঁচা বাজার


138 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চালু হল কালিগঞ্জে ভ্রাম্যমান কাঁচা বাজার
এপ্রিল ২৩, ২০২০ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) থেকেঃ
করোনাভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল নির্দেশনা উপজেলার ইউনিয়ন উপজেলা কৃষি অফিস ব্যবস্থাপনায় ও কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা মৎস্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় মোবাইলের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে মালামাল বিক্রয় ও ভ্রাম্যমান বাজার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। ১১০ টি ভ্যানযোগে ভ্রাম্যমান বাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের বাড়িতে সবজি বিক্রয় করছে। এছাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার শফিকুল ইসলাম এর ব্যবস্থাপনায় অন্যের মোবাইলের মাধ্যমে কালিগঞ্জ ফ্রেশ এন্ড সেভফিস মার্কেট চালু হয়েছে। মোবাইলে অর্ডার পেলে বাগদা গলদা চিংড়ি, হরিনা চিংড়ি, ভেটকি, টেংরা, মনোসেক্স তেলাপিয়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রয় হচ্ছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাঈদ মেহেদী জানান, উপজেলা প্রশাসন পরামর্শে বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে উপজেলা মৎস্য অফিস ও কৃষি অফিস অনলাইন মোবাইল মার্কেটিং কার্যক্রম শুরু করেছে। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, বর্তমান ঘরে থেকে মালামাল ক্রয়ের জন্য এই বাজারের কার্যক্রমকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঘরে বসে কেনাকাটা করছে সাধারণ মানুষ। উপজেলায় প্রায় সকল ব্যবসাকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ যাতে তাদের প্রয়োজনীয় বাজারের মাছ ঘরে বসে পেতে পারে সেজন্য কালিগঞ্জ ফ্রেশ এন্ড সেভফিশ মার্কেট চালু করা হয়েছে। ক্রেতাসাধারণ অনলাইন ফোনকলের মাধ্যমে চাহিদা জানালেই ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন ধরনের মাছ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকা মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর অনুপ্রেরণায় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে এই কালিগঞ্জ ফ্রেস এন্ড সেভফিশ মার্কেট।
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুহুল আমিন জানান, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১১০টি ভ্যানযোগে ভ্রাম্যমান বাজার গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় শাকসবজি, ফলমূলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছি, ফলে ক্রেতা সাধারণ বাইরে না এসে সুলভ মূল্যে বাড়িতে বসেই বাজার করতে পারছে। অন্যদিকে কর্মহীন মানুষ ভ্যানযোগে বাজার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়ে তারা ভালো আয়-রোজগার করছে। তিনি আরো বলেন, শুধু করোনাভাইরাসের সময় নয় সারাবছর এ কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। বর্তমান ভ্রাম্যমান ভ্যানযোগে কাঁচা বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া জাগিয়েছে।

#

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কালিগঞ্জের সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী ও জনপ্রতিনিধির কাজ করে চলেছে নিঃস্বার্থ ভাবে

সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) থেকেঃ
করোনাভাইরাস মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে দেশে একটি উপযুক্ত আইন রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধিতে মানুষ যেন নিজে বাঁচার পাশাপাশি অন্যকে সংক্রমিত না করতে পারে সে লক্ষ্যে আইনটি করা হয়। এই আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধানও অত্যন্ত সুস্পষ্ট। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ নামে বাংলাদেশেও কার্যকরী আইন আছে। জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এই আইনের আওতায় ইতিমধ্যে সার দেশের বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় কালিগঞ্জ উপজেলায়ও সামাজিক দুরত্ব না মানায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রায় দুই লক্ষাধীক টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল ও উপজেলার চৌকস সহকারী কমিশনার( ভূমি) সিফাত উদ্দিন এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। উপজেলা এলাকায় জগনের মাঝে যথেষ্ট সচেতনতা ফিরে এসেছে। থেমে নেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি আর অভিযান। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নেতৃত্বে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যহত আছে। চলছে অবহেলিত, দুঃস্থ ও অসহায়দের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী প্রদানের কাজ।
উপজেলার মধ্যে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সেচ্ছাসেবী সংস্থা ও কিছু এনজিও কর্মিরা মাঠে অবিরত কাজ করে আসছে। কর্মরত তাদের ভিতরে ছুকি নিয়ে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে মিডিয়া কর্মীরা। তাই মিডিয়া কর্মীরা মনে করেন যদি উপজেলা প্রশাসন সংবাদকর্মীদেও জন্য অতি দ্রুত পিপিইর ব্যবস্থা করে তাহলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করা সম্ভাব হবে। ফলশ্রতিতে এখানকার জনগন অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। তবে ত্রাণ নিয়ে অতৃপ্ততার বিষয়টা আলোচনায় বেশ জোরে শোরে চলছে নিন্ম ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে।