চিতলমারীতে ১১০ বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতা, মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সরস্বতী


425 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চিতলমারীতে ১১০ বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতা, মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সরস্বতী
জানুয়ারি ১৬, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির ::
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরস্বতী রাণীর এতদিন কেউ খবর রাখেনি। এখন বিদায় নেয়ার পালা। ফলে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বাঁচার আশা । যে কোন মুহূর্তে নিভে যেতে পারে ১১০ বছর  বয়সী অসুস্থ সরস্বতী রাণীর জীবন প্রদীপ। এক সময়  স্বামী-সন্তান সবই ছিল কিন্তু আজ সকলে গত হয়েছেন। জীবনের অন্তিম সময়ে রোগে-শোকে জ্বরা-জীর্ণ দেহ নিয়ে পড়ে আছেন উঠানে।
চিতলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের খড়িযা গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল সরস্বতী রাণীর করুন দুরাবস্থা। অযতœ-অবহেলায় উঠানে পড়ে আছেন। উঠে দাঁড়ানোর মত কোন  শক্তি নেই। কঙ্কালসার দেহ নিয়ে পড়ে আছেন মাটিতে। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। জীবন প্রদীপ নিভু নিভু অবস্থা। দেখার মত আর তেমন কেউ নেই পাশে। একমাত্র পুত্রবধূ বেঁচে থাকলেও, অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকার সন্ধানে ছুটতে হয় তাকে।
বৃদ্ধা সরস্বতীর পুত্রবধূ কনক বিশ্বাস জানান, তার শাশুড়ীর বয়স এখন ১১০ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে নানা অসুখে ভুগছেন। সহায়-সম্বল সবই তার চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন। ভারতসহ দেশের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে তাকে নেয়া হয়েছে। এখন সংসারে উপার্জনের মত কেউ নেই। ফলে শাশুড়ীর এই অন্তিম সময় কোন চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সরস্বতীর জন্য একটি বয়স্ক ভাতার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ অনেকের কাছে  ছুটেছেন কিন্তু এত বছরেও ভাগ্যে জোটেনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। এ পরিস্থিতিতে ভাগ্যের উপর ছেড়ে  দিয়েছেন তাকে।
স্থানীয় সাংবাদিক সাংবাদিক পংকজ মন্ডল জানান, সরস্বতীর সমবয়সী লোক এলাকায় কেউই আর বেঁচে নেই। বর্তমান সময় এত দীর্ঘায়ু  নিয়ে বেঁচে  থাকা লোক খুব  কমই  আছেন।
এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা  হলেও কথা বলা  সম্ভব হয়নি।

চিতলমারীতে চিত্রা পাড়ের নতুন সুন্দরবন রক্ষার উদ্যোগ

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনাঅফিস  ::বাগেরহাটের চিতলমারীতে চিত্রা নদীর বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের এলাকায় প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে  ওঠা বনরাজির বিভিন্ন গাছপালা ও বনাঞ্চল রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এলাকাবাসি এ বনকে ঘিরে দ্রুত পর্যটন কেন্দ্র্র  গড়ে তোলার জোর  দাবি জানিয়েছেন। এটি বাস্তবায়নের  জন্য  স্থানীয়  সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে,শুক্রবার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ মজুমদার দ্বিতীয় দফায় চিত্রা চরের এ বনাঞ্চল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে কথা বলেন। এ বনকে রক্ষার জন্য তিনি নানা ধরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি ইকোপার্ক তৈরির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সূত্র মতে,চিত্রা চরের এ বনাঞ্চল পরিদর্শন কালে তার  সাথে উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ ও চিতলমারী  সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম  উদ্দিন,  আওয়ামী লীগ নেতা রজত শুভ্র রায়, চিতলমারী উপজেলা বন কর্মকর্তা চিন্ময় মধু, সাংবাদিক পংকজ মন্ডল, শেখর ভক্ত, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমত শেখ, প্রভাষক শেখর রায়, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ওমর, মসিউর রহমান,  ডাঃ হরেন্দ্র্র  নাথ বাড়ৈ, সুভাস সমাদ্দার, ইন্দ্রিজিত মন্ডল, শুব্র্রত বিশ্বাস, বিকাশ  বাড়ৈ প্রমূখ ।
এ সময় এলাকাবাসি এ বনাঞ্চলকে রক্ষা করাসহ  একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর  দাবি করেন।  এটি বাস্তবায়নের জন্য এলাকাবাসি স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগীতা কামনা করেছেন।

সুন্দরবন অভিমুখি লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে-অধ্যাপক আনু মুহম্মদ

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনাঅফিস  ::তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মহম্মদ বলেছেন আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের বিরুদ্ধে নই। তবে তা সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। দেশের অন্যত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান সম্ভব। তবে হাজার- হাজার কোটি টাকা খরচ করেও আর একটি ম্যনগ্রোভ সুন্দরবন তৈরী করা সম্ভব না- এটা সরকারকে বুঝতে হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারনে প্রথমে সুন্দরবনের পানি নষ্ট হয়ে জলজ প্রাণী মারা পড়বে। এরপর খাদ্য চক্র বিনষ্ট হয়ে মারা যেতে থাকবে বনজ সম্পদ। আর সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলে প্রাকৃতিক দূর্যোগে মারা যাবে উপকূলের লাখ-লাখ নিরীহ মানুষ। উপকূলের সাড়ে ৪ কোটি মানুষের প্রাকৃতিক দূর্যোগের রক্ষা কবজ জীববৈচিত্রে ভরপুর বিশ্ববাসির গর্ব- আমাদের সুন্দরবনকে বাঁচাতে সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় তেল-গ্যাস- খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে সারা দেশ থেকে আগামী ১০ থেকে ১৫ মার্চ সুন্দরবন অভিমুখি লংমার্চ করা হবে।
বাগেরহাটে জেলা সিপিবি কার্যালয়ে এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   তিনি আরো বলেন, আন্দোলন করে সরকারকে সুন্দরবন বিনাশি রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে। সরকার এই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান থেকে সরে না আসলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।তেল-গ্যাস- খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বাগেরহাটের জেলা আহবায়ক রণজিৎ চট্রোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে  মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস- খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স, কমরেড আজিজুর রহমান, বাগেরহাটের সদস্য সচিব ফররুখ হাসান জুয়েল, মানিক লাল মজুমদার, তুষার কান্তি দাস প্রমুখ।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের
হামলার প্রতিবাদে আওয়ামীলীগের মানববন্ধন

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনাঅফিস  ::বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকড়াতলী বাজারে ঝিউধারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে। মানববন্ধনে সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নারী পুরুষ সহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শত শত নেতাকর্মীবৃন্দ অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন, ঝিউধারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তরুন কান্তি মিস্ত্রি, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জিত ঘরামী, মুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ছেলে হাসিবুর রহমান শান্ত’র নেতৃত্বে ঝিউধারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাদশার লোকজন সহ আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। গত ১৫ দিনে ঐ সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় নারী পুরুষ সহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়। এদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঐ সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার সহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।##

বাগেরহাটের বিসিক শিল্প নগরীতে ৫৬২ বস্তা ডাল লুট
এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনাঅফিস  ::বাগেরহাটের বিসিক শিল্প নগরীর একটি মিল থেকে ট্রাক যোগে ৫৬২ বস্তা মুশুরীর ডাল লুটে নিয়েছে সংঘবদ্ধ দুবৃর্ত্তরা। শুক্রবার রাতে বিসিকে’র মেসার্স শক্তি ডাল মিলে এই লুটের ঘটনা ঘটে। দুবৃর্ত্তরা মিলের গুদামের গেট ভেঙ্গে প্রবেশ করে দুই শ্রমিকদের বেঁধে রেখে ডাল লুটে নেয় বলে অভিযোগ করেন মিলের মালিক স্বপন কুমার বসু। লুট হওয়া ডালের মুল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা । পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিলের তিন শ্রমিককে আটক করেছে। এরা হলেন – মুকুল মন্ডল (২৫), তাপস মন্ডল (৩৭), উত্তম কুমার পাল (৩০)।মিল মালিক স্বপন কুমার বসু জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মিলের গোডাউনের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুজন শ্রমিককে বেঁধে ফেলে দুবৃর্ত্তরা। পরে তারা ২৫ কেজির ৪০৩ টি ও ৫০ কেজির ১৫৯টি মূশুর ডালের বস্তা ট্রাকে লোড দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া ডালের অনুমানিক বাজার মূল্যর প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা।  বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান খাঁন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিলের ৩ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক উল্লেখ্য করে এবিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে হলে জানান তিনি। ##