চীন চায় আগামী নির্বাচনে আমি হারি : ট্রাম্প


208 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চীন চায় আগামী নির্বাচনে আমি হারি : ট্রাম্প
এপ্রিল ৩০, ২০২০ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

করোনাভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে চীনের পিছু ছাড়ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে চায় চীন। এজন্য তারা ‘যা শক্তিতে কুলায়’ তাই করতে পারে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। মহামারি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে আরও আগে জানানো উচিত ছিল চীনের- এ কথা উল্লেখ করে তিনি এ সময় চীনকে হুমকি দিয়ে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটানোর জন্য দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শাস্তি পেতে হবে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত দুই লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষ মারা গেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ হাজার। এছাড়া দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১০ লাখ মানুষ। লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও পড়েছে সংকটে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য বরাবরই চীনকে দোষারোপ করে আসছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, চীন শুরুতেই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানালে এতো প্রাণহানি হতো না।

ক্ষমতায় এসেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে লিপ্ত হওয়া ট্রাম্প বলেন, বিশ্ববাসীকে অন্ধকারে রাখার জন্য চীনকে খারাপ ফল ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এজন্য তাদের ভয়ানক শাস্তি দেবে।

অবশ্য শাস্তির কথা বললেও কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন, তা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু করতে পারি। তবে দেখছি, আর কি ঘটে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাকে হারানোর জন্য চীন তাদের দিয়ে সম্ভব অনেক কিছুই করতে পারে।’

রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বেইজিং চায় ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেনকে আগামী নির্বাচনে জেতাতে। তবে বাইডেনের জেতা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি ভোটাভুটিতে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি দেশের জনগণ অনেক স্মার্ট। তারা অপদার্থ কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসাবে না। আর আমি জো বাইডেনের কাছে হারবো না।’

করোনা মহামারির কারণে দেশের অর্থনীতি বিপাকে পড়ায় এটিকেই আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৈতরণী পাড়ি দেওয়ার ইস্যু করতে চাইছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে করোনার এই সময়ে বেকারত্ব বহুলাংশে বেড়েছে, বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আড়াই কোটিতে। আর বৈশ্বিক মন্দার সময়কার চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। তিনি করোনা নিয়ে চীনকে দোষারোপ করে এলেও ভাইরাস মোকাবিলায় নিজের করণীয় ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সম্পর্কে একটি কথাও বলছেন না। উপরন্তু তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার জাতীয়ভাবে ঘোষিত লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলে, তার আর বাড়াবেন না। শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহে তিনি নিজেও ঘরের বাইরে যাবেন, অ্যারিজোনা সফরে যাবেন ট্রাম্প।