চুকনগরে মতিয়ার বাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত মাগুরাঘোনা গ্রামের ৮০টি সংখ্যালঘু পরিবার


334 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চুকনগরে মতিয়ার বাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত মাগুরাঘোনা গ্রামের ৮০টি সংখ্যালঘু পরিবার
জুলাই ১৫, ২০১৫ খুলনা বিভাগ
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান,খুলনা প্রতিনিধি :
চুকনগরে মতিয়ার বাহিনীর অত্যাচারে জর্জরিত মাগুরাঘোনা গ্রামের ৮০টি সংখ্যালঘু পরিবার। একের পর এক চাঁদাবাজী,মারপিঠ,নারীদের সম্ভ্রমহানী  কোনটা করতে বাদ রাখেনি এই বাহিনীর ক্যাডাররা। তাদের নির্যাতনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া খেটে খাওয়া মানুষেরা এবার প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। প্রাপ্ত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা গ্রামের মতিয়ার বাহিনীর অত্যাচারের চিত্র। উল্লেখ্য ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা গ্রামের ঋষি পল্ল¬ীতে বংশ পরম্পরায়  ৮০ টির মত পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন যাবৎ ওই গ্রামে বসবাস করলেও কোন সমস্যা হয়নি তাদের। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের উপর নেমে আসতে শুরু করে নির্যাতন। দিন দিন সেই নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। আর এই নির্যাতনের মুল হোতা মাগুরাঘোনা গ্রামেরই আফসার আলী সরদারের পুত্র আ,লীগ কর্মী মতিয়ার রহমান ও তার ভাগ্নে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে উঠেছে নব্য কচাঁ বাহিনী। উক্ত বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মাগুরাঘোনা ঋষি পল্ল¬ীর ৮০টি পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্র-ছায়ায় চলে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ্পায়না কেউ। তবে সম্প্রতি একটি নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে ঋষি পল্লীর আবাল বৃদ্ধ বণিতা। জানা যায় গত ৩ জুলাই মৃত নীলকন্ঠ দাসের পুত্র ভ্যানচালক দিপাংকর দাস ৩২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে। এ কথা জানতে পেরে মতিয়ারের ভাগ্নে (সোহরাব মোড়লের পুত্র) সোহেল নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে দল চালানোর খরচ বাবদ দিপাংকরের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ৫ জুলাইয়ের মধ্যে উক্ত টাকা তার কাছে পৌছে দেয়ার জন্যে সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিপাংকর টাকা না দিলে ৫ জুলাই বেলা ১২টার দিকে মতিয়ারের ভাগ্নে সোহেল ও শহিদুল দিপাংকরকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে করিম বখস্ মোড়ের পার্শ্ববর্তী ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন একটি বটগাছের সাথে বেধেঁ রাখে। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষা করছিল বাহিনী প্রধান মতিয়ার সহ আরও কয়েকজন। এর পর দিপাংকরকে বেদম মারপিঠ করতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে দিপাংকরের আর্তচিৎকারে তাকে উদ্ধারের জন্যে ছুটে আসে প্রতিবেশী কৃষ্ণ দাস। সে সোহেল গংদের কাছে দিপাংকরকে ছেড়ে দেয়ার জন্যে অনুরোধ জানায়,তখন তারা বলে ওকে নিয়ে যেতে হলে আমাদের ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। এমতাবস্থায় কৃষ্ণ নিজে টাকা দেয়ার অঙ্গীকার তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় চুকনগরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে দিপাংকরের কোন উন্নতি না হলে পরদিন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎিসার পর গত ১০ জুলাই বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে রেখে দিপাংকরকে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এ দিকে উক্ত ঘটনায় ঋষি পল্লীর মুকুন্দ দাস বাদি হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১২/১৮৩। মামলায় সোহেল মোড়ল,শহিদুল শেখ,মতিয়ার রহমান সহ ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।  এদের মধ্যে শহিদুল শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আব্দুল হালিম। অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে উক্ত গ্রামে গেলে সেখানকার আবাল বৃদ্ধ বণিতা মামা মতিয়ার ও ভাগ্নে সোহেল সিন্ডিকেটের অত্যাচারের বর্ণনা দিতে থাকে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ত্রাতা দাসী (৬৫),জনাব আলী শেখ (৫২),মুকুন্দ দাস (৬২),কৌশলা দাসী,কৃষ্ণ দাস সহ আরও অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন সারা জীবন আওয়ামীলীগে ভোট দিয়েছি আর এখন সেই দলের নেতারাই আমাদের উপর অত্যাচারের ষ্টিম রোলার চালাচ্ছে এ কষ্টের কথা কার কাছে বলব?
এ সময় সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বে-সরকারী সংস্থা পরিত্রাণের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ভবতোষ মন্ডল,প্রশাসনিক কর্মকর্তা  এস এম আবুল হোসেন,প্রোগ্রাম অফিসার উজ্জ্বল দাস,তারেক সরকার,সন্তোষ দাস,স্নেহলতা মল্লিক,বাংলদেশ দলিত পরিষদের খুলনা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুধাংশু দাস,ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি পবন দাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে মতিয়ার বাহিনীর সকল ক্যাডারকে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে জানার জন্যে মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি চৌধুরী হামিদুর রহমানের মুঠোফোণে বার বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।