‘চুরি নয় : সাতক্ষীরায় নবজাতক শিশুটিকে হত্যা করে তার বাবা-মা’


349 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘চুরি নয় : সাতক্ষীরায় নবজাতক শিশুটিকে হত্যা করে তার বাবা-মা’
নভেম্বর ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর সাতক্ষীরার নবজাতক শিশুপুত্র সোহানের (১৪ দিনের শিশু) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাত ১ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের তাদের বাড়ির সামনের সেফটি ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন ও মা ফাতেমা খাতুনকে। পুলিশ বাদি হয়ে তার পাষান্ড বাবা-মার নানে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ জানায়, দু’বছর আগে নানির বাড়িতে আশ্রিতা ফাতেমা খাতুনের কলারোয়া উপজেলার সাহাপুর গ্রামের সোহাগ হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। শ^শুর বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর পারিবারিক কলহের কারণে আবারও স্বামীকে নিয়ে তাকে আশ্রয় নিতে হয় নানির বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালিতে।

গত ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা শহরের আনোয়ারা ক্লিনিকে জন্ম নেয় তাদের একটি পুত্র সন্তান। শিশুটির নাম রাখা হয় সোহান হোসেন। এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যেতে হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৫ নভেম্বর বুধবার তারা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে শিশুটি হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেভাজন শিশুটির মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, যে শিশুটি খুবই অসুস্থ ছিল। সে জন্ডিস, রিকেট ও নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। তিনি জানান, এ সমস্ত কারনে ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনের যোগসাজশে শিশু হত্যা করেছে এবং মরদেহ গুমের ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন শিশশুটিকে মেরে তাদের বাড়ির সামনের সেফটি ট্যাংকির ভিতরে মরদেহটি ফেলে দেয়। আর এ কাজে সহযোগিতা করে তার মা ফাতেমা খাতুন। পুলিশ বিষয়টি জানার পর শনিবার ভোর রাতে মরদেহটি উদ্ধার করেছে।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং

শনিবার বিকালে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, শিশুটি অসুস্থ্য ছিলো। তার জন্ডিস, রিকেট ও নিউমোনিয়া, হার্টের সমস্যা জানতে পেরে তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেয় যে শিশুটিকে তারা হত্যা করবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা শিশুটিকে হত্যা করে সেফটি ট্যাংক এর ভিতর ফেলে রাখে। শিশুটির পিতা-মাতার আচরনে পুলিশের সন্দেহ হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কাছে এক পর্যায় তারা স্বীকার করে ১৪ দিন বয়েসের শিশু সোহানকে তারা হত্যা করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আটক বাবা-মাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

#