চোরাচালানী পন্যবাহি বেপরোয়া যান চলাচলে স্কুলগামী শিশু-কিশোরা চরম হুমকির মুখে


432 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চোরাচালানী পন্যবাহি বেপরোয়া যান চলাচলে স্কুলগামী শিশু-কিশোরা চরম হুমকির মুখে
এপ্রিল ৩, ২০১৭ কলারোয়া
Print Friendly, PDF & Email

কে.এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া ::
কলারোয়ায় আবারো প্রকাশ্য দিবালকে রাজপথে চোরাচালানি পন্যবাহি বেপরোয়া গতির যান চলাচলে স্কুলগামী শিশু কিশোররা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এতে এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বিগ্নের মধ্যে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক মাস আগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সীমান্তে চোরাচালানীদের দৌরাত্ব আংশিক ভাবে হ্রাস পায়।

সম্প্রতি আবার প্রকাশ্য রাজপথে বেপরোয়া গতির চোরাচালানী পন্যবাহি যান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রাতের আধারে ভারতীয় পন্য এনে সীমান্তের নো-ম্যানন্সল্যা- সংলগ্ন চোরাচালানী আখড়ায় মজুত করা হয়।

অসাধু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফকে ম্যানেজ করে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে তারকাটার বেড়ার গেট খুলে এসব পন্য আনা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী কেঁড়াগাছি চারাবাড়ি, কেঁড়াগাছি রথখোলা, কেঁড়াগাছি কুটিবাড়ি, কেঁড়াগাছি গাড়াখালী, দক্ষিণ ভাদিয়ালী, ভাদিয়ালী তেঁতুলতলা, উত্তর ভাদিয়ালী কামারপাড়া,

রাজপুর খা বাগান, চান্দা স্লুইচ গেট, বড়ালী, হিজলদী ভদ্রশাল, হিজলদী শিশুতলা, সুলতানপুর, সুলতানপুর তালসারি, গোয়ালপাড়া, চান্দুড়িয়ায় ঘাট দিয়ে এসব ভারতীয় পন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে।

নানা প্রকার সহায়তা করার নামে ছদ্মবেশী চোরাচালানী এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে বিজিবিকে ভূল বুঝিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে ভারতীয় পন্য আনায় সহায়তা করে বলে সীমান্তবর্তী একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়।

রাতের আধারে ভারতীয় এসব পণ্যের সিংহভাগ মটর সাইকেলে, ইঞ্জিন ভ্যানে, নসিমনে, মাইক্রো, প্রাইভেটে বা পিকআপে বহন করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ প্রকাশ্য দিবালোকে সীমান্তের কেঁড়াগাছি ও ভাদিয়ালী থেকে লাঙ্গলঝাড়া হয়ে কলারোয়াগামী সড়কে

বোয়ালিয়া হয়ে কলারোয়া সড়কে; দমদম হয়ে কলারোয়া বা ব্রজবাকসা সড়কে এবং সোনাবাড়িয়া হয়ে বাগআঁচড়া সড়কে চোরাচালানী পন্যবাহি বেপরোয়া গতির মটর সাইকেলে ভারতীয় পন্য বহনে স্কুলগামী শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

এছাড়া চান্দা ও বড়ালী সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পন্যগুলো একই ভাবে বেপরোয়া গতির যানে রামকৃষ্ণপুর বা বুঝতলা হয়ে বাগআচঁড়ায় প্রবেশ করে। হিজলদী সুলতানপুর ও চান্দুড়িয়া সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পন্য ন’কাটির বিলের ভিতরের রাস্তায় বাগআঁচড়ায় প্রবেশ করে।

এসব সড়কের পাশে প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু কিশোর এসব রাস্তায় স্কুলে যাতায়াত করে। এসব শিশু কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয় উপেক্ষা করে হটাৎ করে চোরাচালানী পন্যবাহি বেপরোয়া যানবাহনের বহর চলা শুরু করছে।

বেপরোয়া দ্রুতগতির চোরাচালানী পন্যবাহি যানগুলো চলার সময় একটানা বিকট শব্দে হুইসেল বাজায়ে কেবল স্কুলগামী শিশু কিশোরদের নয় বরং পথচারী জনসাধারণকে আতংকিত করে তোলে তারা।

ফলে আতংকে চোরাচালানী পন্যবাহি বহর যাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী ৫/৭ বছরের শিশুরা আতংকে দুরু দুরু বুকে রাস্তার পাশে যেয়ে কাঁপতে থাকে।

সোমবার সকাল ৭ টায় সোনাবাড়িয়া মোড়ে বেপরোয়া গতির চোরাচালানী পন্যবাহি মটর সাইকেলের ( সাতক্ষীরা হ ২৩-৬৪৬০) ধাক্কায় সোনার বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মাদ্রা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের কন্যা সুমাইয়া (১৭) গুরুতর আহত হয়।

রাস্তায় বেপরোয়া গতির দ্রুতগতির চোরাচালানী পন্যবাহি যানের ভয়ে এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।

সীমান্তে কাকডাঙ্গা গ্রামের রহিমা বোয়ালিয়া গ্রামের সুফিয়া, কোমরপুর গ্রামের আছিয়া জানায়, চোরাচালানী পন্যবাহি বেপরোয়া যান চলার কারণে শিশু সন্তানরা স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তারা দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিজিবিসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
##