চড়–ই পাখি বিলুপ্তর পথে !


741 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
চড়–ই পাখি বিলুপ্তর পথে !
অক্টোবর ১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি :
চড়–ই পাখির কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যেতে বসেছি। শুধু গ্রাম নয়, শহরেও লক্ষ্য করা যায় চড়–ই পাখিকে। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুডে এরা বিস্তৃত। প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।  বেশ বিস্তৃত ও সংখ্যায় অগণিত হলেও বিগত ককেক দশক ধরে বেশ কিছু জায়গয় এর সংখ্যা কমে আসছে। তবে এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে আই.ইউ.সি.এন.এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চড়–ই পাখি সাধারণত দৈর্ঘ্যে মাত্র ১৬ সেমি (৬.৩ ইঞ্চি) ও ওজনে ২৪-৩৯.৫ গ্রাম হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও স্ত্রী চড়ুইের দেহ মন্দা বাদামি ও ধূসরে মেশানো। পুরুষ পাখির দেহ উজ্জ্বল কালো, বাদামি ও ধূসর চিহ্নযুক্ত। মানববসতির আশেপাশে সহসাই দেখা মেলে। শহরে বা গ্রামে, মানববসতির কাছাকাছি যেকোন পরিবেশে এরা নিজেদের স্বচ্ছন্দে মানিয়ে নিতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে খাপখাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। শস্যদানা ও আগাছার বীজ এর প্রধান খাদ্য হলেও সুযোগ পেলে পোকামাকড়, উচ্ছিষ্ট ও নানান রকমের খাবার পেলে ছাড়ে না।
বিড়াল, বাজ, প্যাঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শিকারী পাখি এবং স্থন্যপায়ী এর প্রধান শত্রু। কোথাও কোথাও এটি ক্ষেতখামারের বালাই হিসেবে চিহ্নিত। পাতি চড়ুই কামনা, যৌনক্ষমতা, যৌনবিকৃতি ও অতি-সাধারণতার প্রতীক। দেহে প্রধানত ধূসর ও বাদামি রঙের বিচিত্র সব প্রকরণ লক্ষ্য করা যায়। স্ত্রী ও পুরুষ পাখিতে উল্লেখযোগ্য যৌন দ্বিরূপতা দেখা যায়: স্ত্রী পাখির দেহতল ও উপরিভাগ মূলত মেটে রঙা এবং পুরুষ পাখির মাথার কাছে গাড় দাগ থাকে, দেহের উপরিতল লালচে ও দেহতল ধূসর।  পুরুষ চড়–য়ের ঠোঁটের গোড়া থেকে শুরু করে মাথার চাঁদি পর্যন্ত ধূসর।
অধিকাংশ  ঠোঁটের চারপাশ, থুতনি, চোখের চারপাশের কিয়দংশ, চোখের কোণ এবং ঠোঁট ও চোখের মাঝখানের অংশ কালো। ভুরু ও চাঁদির মাঝখানে একটি সাদা সরু দাগ থাকে এবং ঠিক চোখের পেছনে একটি ছোট সাদা ছোপ দেখা যায়। দেহতল হালকা ধূসর বা সাদাটে। পিঠের নিচ, কোমর ও লেজের গোড়া ধূসর বাদামি। এদের দেখতে বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু এরা এক স্থানে বেশি সময় দাড়ায় না। চঞ্চলতার মত এরা ফুরুত করেই উড়ে চলে যায়। এ পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি। একটি কেবল অতীত ঐতিহ্য।