‘ছক্কা মারতে’ চেয়েছিলেন শিক্ষা সচিব


467 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘ছক্কা মারতে’ চেয়েছিলেন শিক্ষা সচিব
জুলাই ৬, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান
শিক্ষা সচিব লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে নীতিমালা জারি করায় একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে এবার সংকট তৈরি হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠলেও ‘কারো সঙ্গে বিরোধ না খোঁজার’ অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
আর শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তিনি টি২০ খেলে ‘ছক্কা মারার’ চেষ্টা করছেন।
১১ লাখ শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি নিয়ে অভাবনীয় বিশৃঙ্খলার পর রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। অনলাইনে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে তিনি বিষয়টিকে ‘ক্ষমাসুন্দরভাবে’ দেখার অনুরোধ করেন। নাহিদ বলেন, ‘বড় কাজ করতে গেলে ছোট ভুল হতেই পারে। তবে এটা হোক আমরা তা চাই না। এটা উন্নয়নের সমস্যা, উন্নয়নের বেদনা।’
শিক্ষা সচিবের কাছে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি কি টি২০ খেলছেন?’
উত্তরে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে স্পেসিফিকালি টি২০ খেলছি। শুধু টি২০ না, টি২০র লাস্ট ওভার খেলছি। লাস্ট ওভার খেললে লাস্টের দিকে… সঙ্গে পরামর্শ করে। সুতরাং পরামর্শ করে টিম স্পিরিট নিয়ে ডেফেনেটলি কাজ করছি।’
শিক্ষা সচিব বলেন, ‘ছক্কা মারার চেষ্টা করছি, ছক্কা মারতে গেলে অনেক সময়… আউট হয়, সেটা হতে পারে।’
গত কয়েক বছরের মতো এবারো একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে। এবার এই কার্যক্রম চলে অনলাইনে, শিক্ষার্থীদের ফি জমা দিতে হয়েছে এসএমএসের মাধ্যমে।
অনলাইনে সব কলেজে ভর্তির নির্দেশনা জারি করা হলেও ১১ লাখ শিক্ষার্থীর ৩৩ লাখ আবেদন সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তির জন্য মেধা তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে বুয়েটের সহায়তায় তৈরি সফটওয়্যার।
সেই কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত তারিখের তিন দিন পর ২৮ জুন মধ্যরাতে ভর্তির জন্য প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় হাজারো ভুলের কারণে পরেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রীর লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে তার অনুপস্থিতিতে শিক্ষা সচিব এবার ভর্তি নীতিমালা জারি করেন।
সংসদ অধিবেশনে অংশ নেয়ার ব্যস্ততা দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন না করার অনুরোধ করলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন নাহিদ।
ভর্তি নীতিমালা জারির বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সবাই মিলেই কাজ করব, সফল হলে সবাই হব, ব্যর্থ হলেও সবাই হব। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে অনুরোধ, আমাদের মাঝে বিরোধ খোঁজার কোনো কারণ নেই।’
শিক্ষা সচিব বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আলাপ-আলোচনা করতে হবে, সেখানে দ্বিমত হতে পারে। তবে যখন সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে একবার তখন সিদ্ধান্তটা পালন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মর্কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ মে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইজ) শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে ভর্তি নীতিমালা নিয়ে সভা হয়। এরপর সচিব ২৫ মে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে মন্ত্রীর অনুমোদন চান।
কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী তাতে অনুমোদন না দিয়ে হাতে লেখেন, যেসব কলেজে ৩০০ বা তার বেশি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে সে সব কলেজে এবার অনলাইন বা এসএমএসে ভর্তি করে আগামীতে সব কলেজে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়।
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুন ভর্তি নীতিমালা জারি করা হলেও ‘কাউকে কিছু না জানিয়ে’ শিক্ষা সচিব পরদিন নতুন নীতিমালা জারি করেন যাতে বোর্ড অনুমোদিত সব প্রতিষ্ঠানে অনলাইন অথবা এসএমএসে ভর্তি প্রক্রিয়া চালাতে বলা হয়।

চার ধাপে একাদশে ভর্তি
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, সব শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তির আওতায় আনতে বিলম্ব ফি ছাড়া চার ধাপে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, গত ২৮ জুন মধ্যরাতে অনলাইনে আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। মোট আবেদন করেছিল ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা ২১ দিন ভর্তির সময় বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এখনো যারা ভর্তি হতে পারেনি তারা কোনো বিলম্ব ফি ছাড়াই আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে একাদশে ভর্তি হতে পারবে। চার ধাপে এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে গত ২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি শেষ হয়েছে।
প্রথম ধাপে যারা পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেননি অথবা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চান তারা দ্বিতীয় ধাপে ৬ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৭ ও ৮ জুলাই তারা ভর্তি হতে পারবেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় যারা নির্বাচিত হননি বা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি তারা তৃতীয় ধাপে ৯ ও ১০ জুলাই ভর্তি হতে পারবেন। এছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অপশন দিয়ে আবেদনকারীদের ফল ১১ জুলাই প্রকাশ করা হবে। তারা ১২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, যারা অনলাইনে আবেদন করেননি বা সুযোগ পেয়েও ভর্তি হননি তারা চতুর্থ ধাপে সুযোগ পাবেন। ১৩-২১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করে ২৩ জুলাই ফল প্রকাশ করা হবে। তারা ২৫-২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবেন।
আগে নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিয়ে ভর্তির সময় থাকলেও নতুন ঘোষণায় তিন সপ্তাহে বিলম্ব্ব ফি ছাড়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলো।