ছাত্রলীগকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


111 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ছাত্রলীগকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জুন ২, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

‘সততা ছিল বলেই পদ্মা সেতু নির্মাণে চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছি’

অনলাইন ডেস্ক ::

ছাত্রলীগকে মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, অনেকে রাজনীতির মাঠে এখন লাশ চায়। তাদের সেই স্বার্থ যেন হাসিল না হয়।

গতকাল বুধবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে তা গঠনমূলকভাবে প্রতিহত করব। রাজনীতিকে আসলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। কেউ সহিংসতা করলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই ব্যবস্থা নেবে।

করোনার কারণে প্রায় আড়াই বছর পর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠকে দেশ ও বিশ্বের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সংকট, আগামী জাতীয় নির্বাচন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণসহ দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকেল ৪টা থেকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার এ বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এটাই ছিল এককভাবে প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক।

বৈঠক শেষে গণভবনের গেটে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। এ দলের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হবে। সেসব ষড়যন্ত্র গঠনমূলকভাবে মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, অনেকে রাজনীতির মাঠে এখন লাশ চায়; একটা লাশ পড়ূক ইত্যাদি। তাদের সেই স্বার্থ যেন হাসিল না হয়।

তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের পক্ষ থেকেও বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছাত্রলীগসহ দলের সব সংগঠনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মধ্যকার ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন সতর্কতার সঙ্গে চলে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সতর্কতার সঙ্গে গঠনমূলকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টারা। দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্র বিষয়ে দলকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছে আওয়ামী লীগের এই থিংকট্যাংক গ্রুপ।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগকে মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার বিষয়ে নেতাদের সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন তাঁরা।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই নিজস্ব অর্থে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন এ সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবমুখর আয়োজনে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের দলের ‘থিংকট্যাংক’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শও চেয়েছেন। তিনি বলেন, দলের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে দলীয় গঠনতন্ত্র, ইশতেহার ও ঘোষণাপত্রের যুগোপযোগী সংস্কার, দলের আগামী দিনের পরিকল্পনা অর্থাৎ আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দেশের উন্নয়নে কী কী করা হবে; এসব বিষয়েও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা পরামর্শ দিতে পারেন।

উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
বৈঠকে এ ছাড়া আগামী ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগপ্রধান।
‘ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই জাতীয় বাজেট’
দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে লক্ষ্য রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কিছু ভুলে যাই না। প্রতিবার বাজেট ঘোষণার সময় ইশতেহার হাতে নিয়ে কতটুকু অর্জন করতে পারলাম, কতটুকু সামনে করতে হবে- সে বিবেচনা থেকেই বাজেট প্রণয়ন করি।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন করা হবে।
পদ্মা সেতু নির্মাণ তাঁর সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা ছিল বলেই এ চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছি। নিজেদের অর্থে সেই সেতু করেছি। ২৫ জুন এই সেতুর উদ্বোধন করব- ইনশাআল্লাহ।
পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কানাডা কোর্ট তার রায়ে বলেছে, পদ্মা সেতু নিয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার সবই ভুয়া ও মিথ্যা। ড. ইউনূস এটা করেছেন শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদের জন্য। ৭১ বছর বয়স পর্যন্ত ড. ইউনূস বেআইনিভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থেকেছেন। এ নিয়ে মামলা করে তিনি হেরে যান। পরে ক্ষোভ মেটাতে পদ্মা সেতুতে কথিত দুর্নীতির নানা মিথ্যা অভিযোগ করেন। বিশ্বব্যাংক তাঁর কথায় পদ্মা সেতুতে ফান্ড বন্ধ করে দেয়। পরে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে। দেশের ৯০ ভাগ উন্নয়ন কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে।

পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দুঃখজনক ছিল। কারণ, ক্ষমতা তো জনগণের হাতে ছিল না। ক্ষমতা চলে গিয়েছিল সেই মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে, যাঁরা উর্দি পরে ক্ষমতা দখল করতেন। যার ফলে দেশের উন্নয়ন না করে তাঁরা তাঁদের নিজেদের উন্নয়ন করেছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময় ১৯-২০টা ক্যু হয়। হাজার হাজার সেনাসদস্যকে হত্যা করা হয়। প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালানো হতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল; সেশনজট ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তাঁর সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. মসিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।