ছেলের মুক্তির দাবিতে এক অসহায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন


643 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ছেলের মুক্তির দাবিতে এক অসহায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন
এপ্রিল ২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ছেলের মুক্তির দাবীতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক অসহায় বৃদ্ধা মায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত তমেজ উদ্দীন সরদারের স্ত্রী রাবিয়া খাতুন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৯ মার্চ আমার বড় ছেলে সেলিম বাবুকে সদর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেন। তাকে নাশকতার একটি পেন্ডিং মামলায় চালান দেয়া হয়। এ নিয়ে আমার ছেলেকে অনেকবারই গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের কোথাও কিছু ঘটলে এবং যে কোন ধরনের অভিযান শুরু হলে আমার ছেলে সেলিম বাবু গ্রেফতার হয়। এটি আমাদের নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে। আর তাকে বার বার জেল থেকে বের করতে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তির অধিকাংশই বিক্রি হয়ে গেছে। যদিও আমার ছেলে কখনোই পালিয়ে থাকেনি। জেলের বাইরে থাকার সময়টা সে মাহেন্দ্র চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। সে সাতক্ষীরা জেলা মাহেন্দ্র চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছে। তার সততার কারণে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকায় আমার স্বামীর পৈত্তিক ৩ বিঘা জমি ছিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি। এই জমিই আমার কাল হয়েছে। আমার স্বামীর চাচাতো ভাই দেছের মুহুরীর ছেলে আরশাদ ও হাসান এই জমি আত্মসাত করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। আর সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেং ২১/০৫, দেং ২৮৩/১১, দেং ৩৭/০৫, দেং ২৩৩/১১, দেং ১৪০/০৬ মামলাগুলো সাতক্ষীরার দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন আছে। আর এই জমি জমা নিয়েই ননজিআর ১৯৪/১১, ননজিআর ৩৪৫/১১, পি-১২২৩/১০, জিআর ৮৭৯/১১, জিআর ৪২৬/১১ মামলাগুলো বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলের নামে দায়ের করা হয়। যদিও সব মামলাতেই আমার ছেলে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছে। অথচ ৭১ সালে ঐ দেছের মুহুরির বাড়িতেই খান সেনারা থাকতো। তিনি আরো বলেন, আমার ছোট ছেলে শামীম হোসেন তার পিতার বকাবকি ও শাসনের কারণে ২০০৫ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সারাদেশে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পর সে চাঁদপুর জেলায় গ্রেফতার হয়। সেই থেকে শামীম জেলে আছে। জেলখানায় শামীমকে দেখে বাড়ি ফিরে এসে ঐদিনই মারা যান তার পিতা। এর পূর্ব থেকেই আমার বড় ছেলে সেলিম বাবু শহরের বাঙ্গালের মোড়ে হোটেলের ব্যবসা করতো। কিন্তু ব্যবসা ভাল না যাওয়ায় এক সময় সেলিম মধুর ব্যবসা শুরু করে। সে বিভিন্ন জেলায় মধু বিক্রি করতো। ২০১০ সালে সেলিম বাবু গোপালগঞ্জ থেকে মধু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং গোপালগঞ্জ ব্যাংক ডাকাতির মামলায় তাকে চালান দেয়া হয়। দীর্ঘ ৬ বছর জেলে থাকার পর ঐ মামলায় খালাস পেয়ে সেলিম বাড়ি ফিরে আসে। এরপর থেকে সে একের পর এক গ্রেফতার হয়েই চলেছে।  তিনি বলেন, সেলিম বাবু তিন সন্তানের জনক। বছরের অধিকাংশ সময় জেলে থাকায় তার বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন লেখাপড়া ছেড়ে এখন মাহেন্দ্র চালাচ্ছে। সে পলিপস রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা ও অপারেশন করতে আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয়ে যায়। ছোট ছেলে সাতক্ষীরা নাইট স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। একমাত্র মেয়ে পড়ে ক্লাস ফাইভে। আমিসহ ৬ সদস্যের সংসার চালানোর একমাত্র পথ মাহেন্দ্র চালানো। কিন্তু মামলা মোকদ্দমা ঠেকাতে সংসার আর চালাতে পারছি না। একইসাথে ৬ সদস্য পরিবারের মুখে অধিকাংশ সময় কিছু দিতে পারছি না। এর ফলে অনেক সময় উপোষ থাকতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে র‌্যাব-৬ সেলিম বাবুকে গ্রেফতার করে ওর কাছ থেকে কিছু না পেয়ে ওকে ছেড়ে দেয়। পুলিশ সেলিম বাবুকে বারবার গ্রেফতার করলেও আজ পর্যন্ত ওর কাছ থেকে জেএমবি বা জঙ্গি সংক্রান্ত কিছু পাননি। ওর নামে এ সম্পর্কিত কোন মামলাও কখনো হয়নি। তারপরও ওকে নিয়ে বার বার টানা হেঁচড়া বন্ধ হচ্ছে না।
তাই অসহায় মায়ের দাবি, যদি আমার ছেলে জেএমবি বা অন্য কোন জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকে তবে তার বিচার করা হোক। আর যদি সে নির্দোষ হয় তাহলে তাকে মুক্তি দেয়া হোক।
তিনি এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##

প্রেস বিজ্ঞপ্তি