‘জঙ্গিবাদ থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে মায়েদের নজর দিতে হবে’


271 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘জঙ্গিবাদ থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে মায়েদের নজর দিতে হবে’
ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবা-মাকে বিশেষ করে মায়েদের তাদের সন্তানকে বেগম রোকেয়ার আদর্শে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যত্নবান হবার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের নারীরা সুশিক্ষিত হবে এবং নিজের সন্তানকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক থেকে ছেলে-মেয়েরা যেন দূরে থাকে সেজন্য মায়েদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘রোকেয়া পদক-২০১৮’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কোন দূরত্ব না রেখে বরং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য মায়েদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘যাতে করে কোন সমস্যা হলেই ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজেদের মনের কথা মা’কে বলতে পারে। কারণ মা-বাবাই হচ্ছে সন্তানের সব থেকে বড় বন্ধু। কাজেই সেই ধরনের একটা পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ মা’কেই নিতে হবে।’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

এ বছর নারীর ক্ষমতায়নে আসামান্য অবদানের স্বীকৃাত স্বরূপ দেশের বিশিষ্ট ৫ জন মহিলাকে বেগম রোকেয়া পদক -২০১৮ তে ভূষিত করা হয়।

তারা হচ্ছেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী জেবুন্নেসা তালুকদার, কুমিল্লা মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষয়িত্রী অধ্যাপক জোহরা আনিস, সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী শিলা চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখিকা এবং সমাজকর্মী রমা চৌধুরী এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার লেখিকা ও সমাজকর্মী রোকেয়া বেগম।

এরমধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জেবুন্নেসা তালুকদার অনুষ্ঠানে পদক বিজয়ীদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়াকে নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং সত্যিকারের প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব আখ্যায়িত করে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া আমাদের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং তাঁর যে স্বপ্ন ছিল আজকে কিন্তু পৃথিবী সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে এইদিকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি।’

তিনি এ সময় নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার একটি বাণী প্রণিধানযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, ‘পুরুষের সক্ষমতা লাভের জন্য আমাদের যাহা করিতে হয় তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয় তবে তাহাই করিব।’

‘কাজেই তাঁর এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং আজকে যদি আমরা বাংলাদেশের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখবো তাঁর এই আহবানটা বৃথা যায়নি,’ যোগ করেন তিনি।

সরকার প্রধান এ সময় নারীর প্রগতির জন্য বেগম রোকেয়া পদাংক অনুসরণ করেই তার সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং করবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও শতকরা ৬০ ভাগ নিয়োগ নারীদের মধ্য থেকেই করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশে রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া, তথ্য-প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং খেলাধুলাসহ পেশাভিত্তিক সকল স্তরে নারীদের গর্বিত পদচারণা রয়েছে।

তিনি বলেন, এভারেস্ট বিজয় থেকে শুরু করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের কর্মকাণ্ডে নারীরা সাফল্যের সঙ্গে ভূমিকা রাখছেন। অর্জন করছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, এদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা এবং সংসদ উপনেতা এই চারটি পদেই নারীরা আসীন, যার নজীর বিশ্বে বিরল।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের অবদান চির স্মরণীয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আমাদের দেশের নারী সমাজের ওপর বর্বর অত্যাচার চালানো সত্বেও তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবদান রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে আমার বাবা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন সংগ্রাম করেছেন তেমনি পাশে থেকে তাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন আমার মা শেখ ফজিলাতুন নেছা। মা তাঁর জীবনে যে আত্মত্যাগ করেছেন বড় সন্তান হিসেবে আমি তা জানি। তাই, আজ তার কথা বারবার মনে পড়ছে।

বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবনের একটি বড় সময় কারাগারে কাটানো শেখ মুজিবের পরিবার ও দল পরিচালনা এবং সে সময়কার আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠনে তার মায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা এ সময় স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের ইউনেস্কোর প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রাক্কালে তার মায়ের বলিষ্ঠ ভূমিকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে কতজন কত রকম কথা বলেছে (পরামর্শ দিয়েছে)। আমার মা’ শুধু বলেছেন তোমার মনে যেটা আছে তুমি সেটাই বলবা, কারো কথা শোনার দরকার নাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কোর ৭ মার্চের ভাষণকে সারাবিশ্বের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সংবাদটি যখন পেলাম তখন কেবলই আমার মা’য়ের কথাই বার বার মনে পড়েছে। কারণ, সবসময় দেখেছি মায়ের সেই দৃঢ় মনভাব বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে, স্বাধীন করতে হবে। সেই চিন্তা চেতনা সবসময় তার মাঝে জাগ্রত ছিল।

তিনি এ সময় নারীদের বেশি বেশি সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে কবিগুরুর ভাষায় বলেন- ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দেবে অধিকার হে বিধাতা’- এই কান্না আমরা কাঁদতে চাই না।

প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার শেষ দিকে এই ৯ ডিসেম্বর দিনটি তাঁর কন্যা এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রসেনানী সায়মা হোসেনের জন্মদিন উল্লেখ করে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।