জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে করোনা : জাতিসংঘ


204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে করোনা : জাতিসংঘ
মে ১৪, ২০২০ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

চারিদিকে শুধু মৃত্যু আর রোগের কথা। করোনাভাইরাস মহামারি এমন এক সংকট তৈরি করেছে যা নজিরবিহীন। লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় দিশেহারা বহু মানুষ। এ পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষকে জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডেভোরা কেস্টেল বলেছেন, ‘ঘরবন্দি, ভয়, অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা- এই সবগুলো একসঙ্গে অথবা যে কোনো একটি কারণ মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে’।

করোনাভাইরাস ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কেস্টেল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মানসিক অসুস্থতার শিকার মানুষের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি ‘সামনে ও কেন্দ্রে’ রেখে সরকারগুলোকে তার মোকাবিলা করতে হবে।

বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ওপর গবেষণা করে জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে, বন্ধু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরবন্দি থাকায় শিশু ও তরুণদের মনোজগতে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে। এতে স্বাস্থ্য কর্মীদের কথাও উঠে এসেছে, যারা প্রতিদিন চোখের সামনে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু দেখছেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, শিশুরা উদ্বিগ্ন ও বিষাদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এমন চিত্র পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশে।

বিশ্বব্যাপী পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। অনেক স্বাস্থ্য কর্মী বলেছেন, তাদের জরুরিভিত্তিতে মানসিক সমর্থন দরকার। আতঙ্ক, ভয়, দুঃস্বপ্ন তাদের পেয়ে বসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক বিচ্ছিন্নতা সাধারণ মানুষকে অবসাদগ্রস্থ করে তুলেছে। তারা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে ভীত থাকেন সর্বক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৃত্যুভীতি এবং প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কা।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, মহামারির কারণে লাখ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক অস্থিরতার শিকার হতে শুরু করেছে। জীবিকা হারানোর ভয়ে তারা ভীত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহামারি সংক্রান্ত ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি।

সবমিলিয়ে সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ এমন মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হয়নি। জরুরিভিত্তিতে সরকারগুলো এ সংকটের বিষয়টি আমলে না নিলে আরও বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।