জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানই র‌্যাবের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


416 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানই র‌্যাবের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
এপ্রিল ২৬, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
র‌্যাব সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনারা একটি শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৈতিক স্খলন যেকোন বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয়। মনে রাখবেন, জনগণের পয়সায় আমাদের-আপনাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। আমরা সকলেই জনগণের সেবক। সেই জনগণ যেন কোনভাবেই নিগৃহীত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদরদফতরে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। খবর বাসসের

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, পুলিশের আইজিপি মো. শহীদুল হকসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদরদফতরে এসে পৌঁছালে মেজর মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাব ফোর্সেস অনার গার্ড প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

অপরাধ ও জঙ্গিদমনে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশের র‌্যাব ইউনিট গঠন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং আনসার সদস্যদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, জঙ্গি, চরমপন্থি দমনসহ সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থি দমনেও র‌্যাব কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদস্যদের একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা না থাকলে দেশে বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে না।’

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাই র‌্যাব সদস্যদের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন-কানুন এবং নিয়ম-নীতি মেনে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন-এটাই আমার প্রত্যাশা।’

তিনি আরও বলেন, “বিগত ৮ বছর ধরে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছি। জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আজ আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ বাহিনীর নতুন নতুন ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে। র‌্যাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। র‌্যাব সদরদফতর এবং র‌্যাব ট্রেনিং স্কুলসহ সকল ব্যাটালিয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাব সদরদফতর, র‌্যাব-১৩ এবং ১৪ ব্যতীত সকল ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।’

অপরাধী সনাক্ত করতে র‌্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাহিনীতে অস্পষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, টেলিফোন সেট ট্রাকিং যন্ত্রসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। র‌্যাবের অপারেশনাল শক্তি বৃদ্ধি করতে দুটি হেলিকপ্টারসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন বরাদ্দ দিয়েছি আমরা। ফলে র‌্যাব জল, স্থল ও আকাশপথে দ্রুত অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে। পরিণত হয়েছে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে।’

র‌্যাব ফোর্সেসের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা ও র‌্যাব স্পেশাল ফোর্সেসের ওপর অনুষ্ঠানে দুটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে সুন্দরবনে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়েও একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশিত হয়।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৯ এর জন্য নবনির্মিত হেডকোয়াটার্স ভবনেরও ফলক উন্মোচন করেন।