জনদাবির মুখে তালায় সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ উদ্বোধন


371 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জনদাবির মুখে তালায় সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ উদ্বোধন
জানুয়ারি ১৫, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা)
সিএস ম্যাপ অনুযায়ী তালা উপজেলার কানাইদিয়া ও জেঠুয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদ খননের আন্দোলন অবশেষে স্বার্থকতা লাভ করলো। শুক্রবার সকার থেকে জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ পূনঃখনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ নদ পূনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সরকারের প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যায়ের কপোতাক্ষ নদের জলবাদ্ধতা দূরীকরন প্রকল্প’র আওতায় এই নদ পূনঃখনন করা হচ্ছে।

উক্ত প্রকল্পের অধিন ইতোমধ্যে কপোতাক্ষ নদের উজান থেকে শুরু করে পাইকগাছার কাশিমনগর পর্যন্ত খনন করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী কাশিমনগর থেকে তালা উপজেলার বালিয়া পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার কপোতাক্ষ নদ খনন কার্যক্রম বাকি ছিল।

সম্প্রতি নদের এই অংশ খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ২২ কোটি টাকার প্রাথমিক ব্যায় নির্ধারন করে টেন্ডার আহবান করে। টেন্ডারের মাধ্যমে ১৮ কিলোমিটার নদ খননের ৫টি প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য ২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হন।

কিন্তু জেঠুয়া, কানাইদিয়া ও চরকানাইদিয়া এলাকায় নদের বর্তমান অবস্থান ধরে খনন করা হলে বহু মানুষ জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতো এবং নদ খননে দীর্ঘ মেয়াদী ফল পাওয়া যেত না। একারনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশিদ, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম মুক্তি ও সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস’র নেতৃত্বে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী সুষ্ঠভাবে কপোতাক্ষ নদ খননের দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে ওঠে।

আন্দোলনের ফলে স্থানীয় ও পাইকগাছা সংসদ সদস্য, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, দুই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও দুই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২ দফায় জেঠুয়া, কপিলমুনি এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে দুইজন সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা জনগনের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদের জেঠুয়া-কানাইদিয়া অংশ খননের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরপরই যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের জন্য সার্ভে শুরু করে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সার্ভে সম্পন্ন করে শুক্রবার সকালে জেঠুয়া বাজারে কপোতাক্ষ নদ’র তীরে এক সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে নদ খনন শুরু করা হয়।

নদ খনন উপলক্ষ্যে উদ্বোধনী সভা জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম মুক্তি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও সুষ্ঠ নদ খনন আন্দোলনের নেতা অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের তালা উপজেলার সাবেক সভাপতি ও তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহা-বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, তালা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ইখতিয়ার হোসেন, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী সুষ্ঠভাবে কপোতাক্ষ নদ পূনঃখনন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশিদ, কমিটির সদস্য সচিব ও খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এম. ফজলুল হক, আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার, প্রভাষক সরদার রফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শওকাত হোসেন, এসও জাকারিয়া হোসেন, মাওলানা মো. তাওহিদুর রহমান, আ.লীগ নেতা মহিউদ্দীন সরদার ও কার্তিক চন্দ্র প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, কপোতাক্ষ নদ সুষ্ঠভাবে পূনঃখনন আনন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কপোতাক্ষ নদ অববাহিকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সিএস ম্যাপ অনুযায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ে কপোতাক্ষ নদ পূনঃখনন প্রসঙ্গে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর থেকে তালা উপজেলার বালিয়া পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার নদ পূনঃখননন টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়। কিন্তু নদের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের জন্য এলাকার মানুষ দাবী জানায়। এরপ্রেক্ষিতে জেঠুয়া ও কানাইদিয়া অঞ্চলে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খনন হচ্ছে। এরফলে নদ খনন প্রকল্প’র ১৮ কিলোমিটার নদের স্থলে ১৪ কিলোমিটার খনন করা হবে। যে কারনে একদিকে সরকারের অর্থ সাশ্রয়ী হবে, অপরদিকে জমি মালিকরা উপকৃত হবে। তাছাড়া, আঁকাবাঁকা নদের স্থলে সোজা ভাবে নদ খনন হওয়ায়, নদ খনন প্রকল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যাবে।

চলতি বছর কপোতাক্ষ নদ পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।