জনসেবার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন


139 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জনসেবার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন
মার্চ ৭, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

জুলফিকার আলী ::

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভবনের দোতলায় সিঁড়ির উপরে উঠতেই চোখে পড়ে, জনসেবার জন্য প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের অফিসে গেলেই লেখাটি চোখে পড়লে মনে হয় আসলেই কি ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন ? সাতক্ষীরায় গত ১৫ বছরে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের রদ-বদল হয়েছে। সেই সমেয়ে অনেক মানুষ জেলা প্রশাসকের কাছে সমস্যার কথা বলতে পেরেছে, অনেকের সমাধানও হয়েছে। আর বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মানুষ কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি বলেও অনেকের অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদকর্মী হিসেবে যখন কোন ভুক্তভোগী মানুষের কথা শুনি মাঝে মাঝেই মনে হতো জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভবনের দোতলায় সিঁড়ির উপরের বাক্যটি ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ মনে হয় সত্য নয়! কিন্তু সম্প্রতি সাতক্ষীরা এখন আমার মনে হচ্ছে আসলেই জনসেবার জন্য প্রশাসন। উপরোক্ত কথা বলার কারণগুলো হলো- ৯ অক্টোবর ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহন করেন এসএম মোস্তফা কামাল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই তিনি সাতক্ষীরার সকল পেশাজীবী মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। সাতক্ষীরার সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়নসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে পরামর্শ নেন। তারপর পর থেকে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সাতক্ষীরায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সাতক্ষীরা উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেন। এসএম মোস্তফা কামাল সাতক্ষীরায় দায়িত্ব গ্রহণ করার পর জেলায় বড় ধরণের কোন ঘটনা, হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি তাৎক্ষণিক উপস্থিত হন। কোন ঘটনায় যখন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ছুটে যান তখন সাধারণ মানুষও আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

দুর্যোগে দুর্দিনে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পরামর্শ দেন। দুর্গতদের জন্য খাবার, ওষুধ, পানির ব্যবস্থা করেন। করোনাকালে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। মাস্ক ও খাবার বিতরণ করেছেন। সাতক্ষীরা বাইপাশ সড়ক নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে বিনোদন সেন্টার করা, জেলা পরিস্কার পরিছন্ন রাখার বিষয়ে এক প্রকার নীরবে কাজ করেছেন। যা চোখে পড়ান মতো। আমলাদের মনের মধ্যে জনসেবা করার ইচ্ছে থাকলেও বিভিন্ন ব্যক্তির প্রভাবের কারণে নানাভাবে বাঁধার মুখে পড়তে হয়। আমার বিশ্বাস আমার দেশ একদিন ‘সোনার বাংলাদেশ’ হিসেবে বিশ্বে মানচিত্রে স্থান লাভ করবে। সেজন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের মতো আন্তরিকভাবে দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তাদের যদি জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। তাহলে একটি সুন্দর রাষ্ট্র, সমাজ গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের বাণী বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার তথ্য প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বিশ্ব ঐতিহ্য সাইট সুন্দরবন ঘেরা দীপ্তমান নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বলে জনপদ সাতক্ষীরা জেলার ওয়েব-সাইট খোলা হয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে সাতক্ষীরা অনেক ক্ষেত্রেই উজ্জ্বল। শিল্প সাহিত্য, সংগীত, ক্রীড়াঙ্গন থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদন, ফল উৎপাদন, চিংড়ি চাষ ও মৎস্য রপ্তানী,স্থল বন্দরে আমদানী-রপ্তানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার অবদান অনশীকার্য। সাতক্ষীরার কৃষি, অর্থনীতি, জীবনজীবিকা, সমাজ, পুরাকীর্তি, প্রতœতত্ত্ব, ইতিহাস, শিক্ষা, সাহিত্য, ক্রীড়া, সঙ্গীত জাতীয় জীবনের এক অনন্য সম্পদ।

সাতক্ষীরার মহকুমার প্রকৃত জন্ম হয় ১৮৫২ সালে যশোর জেলার চতুর্থ মহকুমা হিসেবে এবং কলারোয়াতে এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। প্রথম মহকুমা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নবাব আব্দুল লতিফ। ১৮৬১ সালে মহকুমা কার্যালয় সাতক্ষীরাতে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমান সরকারের বিশেষ অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ ও ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ এর মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ এবং যুব সমাজকে মূল্যবান সম্পদে রুপান্তর করে একটি সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর। একটি উন্নতদেশ, সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মূলত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান। সাতক্ষীরার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রাচুর্য আর সম্ভাবনা নিয়ে আমরা বিশ্বব্যাপী পরিচিত হতে চাই।
লেখক: সভাপতি, পৌর প্রেসক্লাব, কলারোয়া