জবেদ আলীর ১৩ বছর কারাভোগ: ক্ষতিপূরণের বিষয়ে হাইকোর্টের রুল


352 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জবেদ আলীর ১৩ বছর কারাভোগ: ক্ষতিপূরণের বিষয়ে হাইকোর্টের রুল
মে ২৪, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক:
সাতক্ষীরার জবেদ আলী বিশ্বাসকে অবৈধভাবে ১৩ বছর কারাগারে আটক রাখার ঘটনায় কেন ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিটের শুনানি করে বিচারপতি মঈনুল আসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দায়রা জজ (৩ নম্বর আদালত) কারা মহাপরিদর্শক, জেল সুপার (সাতক্ষীরা) সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন একটি সংগঠন গত ১৯ মে এ রিট আবেদনটি দায়ের করে। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের মৃত আমজেল বিশ্বাসের ছেলে জবেদ আলী বিশ্বাস। স্ত্রী ফরিদা খাতুন মারা যাওয়ার পর তার দুই মেয়ে লিলি (৮) ও রেক্সোনা (৫) জেলার তালা উপজেলার মানিকহার গ্রামে মামা আবুল কাসেমের বাড়িতে থাকতো। ১৯৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জবেদ আলী শ্যালকের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিন লিলি মারা যায়। এ ঘটনায় শ্যালক আবুল কাসেম বিষ খাইয়ে লিলিকে হত্যার অভিযোগ এনে জবেদ আলীর বিরুদ্ধে তালা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ওই মামলায় জবেদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মামলায় ২০০১ সালের ১ মার্চ জবেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে জবেদ আলী হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। ওই বছরের ১১ মে জবেদ আলীকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরে ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট জবেদ আলীকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দেন। ওই বছরের ২৬ মার্চ হাইকোর্ট থেকে খালাসের আদেশ সাতক্ষীরা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এ পৌঁছায়। এই খালাসের আদেশ সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে পৌঁছার পর, তা কার্যকরের জন্য কারাগারে না পাঠিয়ে সাতক্ষীরার তৎকালীন অতিরিক্ত দায়রা জজ তাপস কুমার দে এটি আদালতের রেকর্ড রুমে নথিভুক্ত করে রাখেন।

জবেদ আলী বিশ্বাস বিভিন্ন সময় এ খালাসের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও বিচারিক আদালতকে জানালেও তারা ব্যবস্থা নেননি। সম্প্রতি জবেদ আলী সাতক্ষীরার অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি (পিপি) জিল্লুর রহমানকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জিল্লুর রহমান ও আরেক অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক সাতক্ষীরার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে জবেদ আলীর মুক্তির জন্য আবেদন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি আবেদনটির ওপর শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশে ২৯ ফেব্রুয়ারি জবেদ আলীকে যশোর থেকে সাতক্ষীরা কারাগারে নিয়ে আসা হয়। কারাগারে খালাসের আদেশ না পৌঁছায় জোবেদ আলী গত ১৩ বছরে মুক্তি পাননি।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর দীর্ঘ ১৩ বিনা দোষে কারাভোগের পর চলতি বছর ২ মার্চ সাতক্ষীরা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

গত ১৯ মে চিল্ড্রেন চ্যরিটেবল ফাউন্টেশনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়। ওই আবেদনে বলা হয়, দায়রা জজ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গাফিলতির কারণেই জোবেদ আলীকে ১৩ বছর বিনা অপরাধে কারাভোগ করতে হয়েছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারে পক্ষ থেকে তাকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হোক।

মঙ্গলবার সকালে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত ক্ষতিপূরণের ২০ লাখ টাকা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বলেন, উচ্চ আদালতের খালাসের রায়ের পরেও একজন ব্যক্তিতে মুক্তি না দিয়ে নথি আটকে রাখা সংবিধানের লংঘন।###