জমজমাট ঈদ রাজনীতি


540 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জমজমাট ঈদ রাজনীতি
আগস্ট ১৮, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার মাস। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী তৎপরতায় জমজমাট হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ। ভোটের হাওয়া বইছে দেশে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী বুধবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আমেজ নির্বাচনী আবহে যুক্ত করেছে ভিন্ন মাত্রা। ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তাদের মন জয় করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ছুটছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ।

নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে আনন্দময় ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে তাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। অন্যবারের চেয়ে প্রার্থীরা এবার আর্থিক অনুদান এবং উপহারও বিতরণ করছেন বেশি। বিশাল আকৃতির পশু কোরবানির মাধ্যমেও নজর কাড়তে চান অনেকে। বেশিরভাগ প্রার্থী ঈদ উপলক্ষে নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভূরিভোজ করানোর প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের চিত্র অনুযায়ী, এবারের ঈদে বিএনপি ও অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা অন্যবারের তুলনায় বেড়েছে। অবশ্য বিগত বছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ নেতারা ঈদকেন্দ্রিক নির্বাচনী প্রচারে এগিয়ে আছেন। আগামী নির্বাচনে আবারও নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার তৎপরতায় নেমেছেন বর্তমান এমপিরা। সমানতালে সক্রিয় রয়েছেন নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও। কেউ কেউ পশু কোরবানি, দান-খয়রাত ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমেও মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন বা করবেন। দীর্ঘদিন যারা এলাকায় যাননি; নির্বাচন সামনে রেখে তারাও ছুটে যাচ্ছেন ভোটারের দুয়ারে। খোঁজ নিচ্ছেন নেতাকর্মী-সমর্থকদের। ঈদের মতো সামাজিক উৎসবকে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সম্ভাব্য প্রার্থীদের। ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার ও ফেস্টুনে তারা ছেয়ে ফেলেছেন শহর ও গ্রাম। হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি দিয়েও বসে নেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। মামলা-মোকদ্দমার চাপে আড়ালে থাকা অনেকেই ঈদ সামনে রেখে সরব হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ  বলেন, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে এটাই শেষ ঈদ। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনের আগে বেশিমাত্রায় সক্রিয় হবেন- এটাই স্বাভাবিক। ঈদকেন্দ্রিক নির্বাচনী রাজনীতি অধিকমাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে আওয়ামী লীগে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর আধিক্য থাকে। দল এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় যাবেন। দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, দেরিতে হলেও সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে। সে আশায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলেই মনে করছে আওয়ামী লীগ। প্রায় সব এলাকায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও আগামী নির্বাচনে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব দলের প্রার্থীরাই আসন্ন ঈদুল আজহাকে বেছে নিয়েছেন আগামী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্র হিসেবে।

বিএনপির সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী জানান, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের নির্দেশনা না পেলেও তারা প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছেন। অনেকের দাবি, হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েই তারা নিজ নিজ এলাকায় তৎপরতা চালাবেন। অনেকে এলাকায় পোস্টার-ব্যানার লাগানোর সুযোগ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য উপায়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ঈদ সামনে রেখে তারা শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ঈদ উপহার এবং আর্থিক অনুদান নিয়ে মানুষের মন জোগাতে চাইছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান-আয়োজনেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।