জলবদ্ধতার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় তালায় ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে কমমূল্যে


455 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জলবদ্ধতার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় তালায় ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে কমমূল্যে
আগস্ট ১৪, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
চলতি আমন মৌসুমে তালা উপজেলার অধিকাংশ বিল ও ধান ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি এখনও নিস্কাশন না হওয়ায় আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যেকারনে হ্রাস পেয়েছে ইউরিয়া সহ প্রয়োজনীয় সব সারের চাহিদা। তবে, জলাবদ্ধ সৃষ্টি হওয়া বিলগুলোতে বাঁধ দিয়ে সাদা মাছের চাষ বৃদ্ধির ফলে সেখানে প্রয়োগ হচ্ছে ইউরিয়া সার। তারপরও চলতি মাসে তালায় ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টি হয়নি- বলে সূত্র জানিয়েছে।

এব্যপারে কৃষক শহিদুল ইসলাম খাঁ, কাজী এনামুল ইসলাম বিপ্লব, শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস, ইদ্রিস আলী, শেখ ছিদ্দিকুর রহমান ও আব্বাচ আলী বিশ্বাস সহ একাধিক কৃষক জানান, উপজেলার প্রায় সকল বিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আমন ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শুধুমাত্র শবজি ক্ষেতের জন্য কৃষকদের অল্পমাত্রায় সারের প্রয়োজন হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এবার সারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। তালার বিশিষ্ট ঘের ব্যাবসায়ী রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, অধিকাংশ সাদা মাছের ঘেরে চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবছর সারের কোনও সংকট নেই বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর তালা সদর ইউনিয়ন ডিলার আলহাজ্ব মোখলেছুর রহমান, তালা বাজারের সার ব্যবসায়ী সরদার কবির হোসেন ও খোরশেদ আলম সহ একাধিক সার ব্যবসায়ী জানান, বর্ষার পানিতে আমন ধান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কৃষকদের সারের প্রয়োজন একেবারেই নেই, যে কারনে ঘরে পর্যাপ্ত সার জমা হয়েছে। এই সার বিক্রয়ের জন্য প্রতি বস্তা ইউরিয়া সরকারি মূল্য অপেক্ষা ২২/২৫ টাকা কমে বিক্রয় করতে হচ্ছে। তবে, তিউনিশিয়ান ফসফেট বাজারে পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক ক্ষেতে সরকারি মূল্য অপেক্ষা ৫/৭টা বেশি দামে বিক্রয় হচ্ছে বলেও এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।
এব্যপারে তালা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো. সামছুল আলম বলেন, চলতি মাসে তালা উপজেলার জন্য ৯৭২টন ইউরিয়া সারের চাহিদা দেয়া হয়েছে, যা সময়মত পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমন  চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। যে কারনে বাজারে ইউরিয়া, ফসফেট ও পটাশ সহ অন্যান্য সকল সার পর্যাপ্ত রয়েছে। এজন্য এবার সারের কোনও সংকট সৃষ্টি হয়নি। তবে, মাছের ঘেরের জন্য এই সার ব্যবহার করা যাবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।