জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ


366 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিউস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। ক্ষতির প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ প্রশংসনীয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ-সংক্রান্ত গ্রিন ফান্ডে যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়ার কথা তা না পড়া। জলবায়ু-সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিলের এ বিষয় নিয়ে আগামী প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনেও ঐকমত্যে পেঁৗছা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপের দুই প্রভাবশালী দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে উগ্রপন্থা বিস্তারের কোনো সম্ভাবনা নেই।

একদিনের বাংলাদেশ সফর শেষে গতকাল সোমবার ঢাকা ছাড়ার আগে রাজধানীর বারিধারায় ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। তার সঙ্গে ঢাকা সফরে আসা জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টেইনমেয়ার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও আগেই ঢাকা ছাড়ার কারণে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টেইনমেয়ার ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিউসকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।

সফরসূচি অনুযায়ী তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের পটুয়াখালীর লেবুখালী এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত প্রকল্প পরিদর্শনের কথা থাকলেও সে সফর সূচি বাতিল করা হয়। পরে তারা সাভারের বংশী নদী পরিদর্শনে যান। সেখানে তারা নৌভ্রমণ করেন।

সন্ধ্যায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার বারিধারায় জার্মানি ও ফ্রান্সের যৌথ দূতাবাস কার্যালয় ফ্রাঙ্কো-জার্মান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী উপস্থিত সে সময় ছিলেন। এ সময় ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশে একত্রে ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাস ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসন্ন প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে মূল লক্ষ্য হবে গ্রিন ফান্ডে কাঙ্ক্ষিত অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি। যাদের কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা প্রতিশ্রুত অর্থ না দেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট সহায়তা পাচ্ছে না। আগামী জলবায়ু সম্মেলনেও এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পেঁৗছা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এ ব্যাপারে যে ধরনের ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, ঢাকা সফরে আসা জার্মানি ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থা বিস্তারের কোনো সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং উগ্রপন্থার ব্যাপারে খুবই সতর্ক রয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।