জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বানিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ লাভজনক


689 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বানিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ লাভজনক
নভেম্বর ৬, ২০১৬ কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ॥
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বানিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ হচ্ছে। আর এ ফলের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ, পৌরসভার যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’ধারে চোখে পড়ে পানিফলের বানিজ্যিক চাষ।

দিনদিন এ ফলের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে চাষিরা ক্ষেত থেকে ফল তুলেই বাজার ঘাট ও ফুটপাত এবং মহাসড়কের ধারে বিক্রি করতে বসে যান। প্রতি কেজি পানি স্থান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়।

কলারোয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় এ বছর প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে পানি ফলের চাষ হয়েছে। পুষ্ঠিকর ও সুস্বাদু এই ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম ট্রাপানাটান্স।

মুলত ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত চাষিরা পানিফলের আবাদ করেন। আর বেচাকেনা চলে অগ্রহায়ন থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত। লতার মতো গাছটির শিকড় নীচে থাকলেও পাতাগুলো পানিতে ভেসে থাকে। অনেকটা কচুরিপানার মতো।

আর ফলগুলিতে দুটো শিঙের মতো কাঁটা থাকে, তাই স্থানীয়দের কাছে এটি পানিশিঙাড়া নামে পরিচিত। ফলগুলো দেখতে সবুজ বা লাল রং। খোসা ছাড়ালে বেরিয়ে আসে মিষ্টি সু-স্বাধু শাঁস।

স্থানীয় মতে,পানিফলের চাষাবাদ কলারোয়া ছাড়াও সাতক্ষীরাসদর উপজেলা ও  দেবহাটা উপজেলায় দেখা যায়। কলারোয়া পৌর সদরের মুরারীকাটি গ্রামের আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি ভারত থেকে বীজ এনে এই ফলের চাষ শুরু করেন। যদিও তার আগে থেকে জলাভুমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাতো পানিফলের গাছ।

এলাকাবাসি বলেছেন, আবু সাঈদের দেখাদেখি অনেকেই পরে পানিফল চাষ শুরু করেছেন। বছর পাচেক হলো কলারোয়ার পতিত ও জলাবদ্ধ জমিতে বানিজ্যিকভাবে চলছে পানি ফল চাষ। কম খরচে অধিক লাভ ও পতিত জমি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় কলারোয়াসহ জেলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পানি ফলের চাষাবাদ।

কলারোয়া পৌর সদরের মুরারীকাটি এলাকার সাঈদ, খলিলসহ কয়েকজন চাষী জানান, জলাবদ্ধ জমিতে পানিফলের চাষ করা হয়। প্রতিবিঘা জমিতে পানিফল আবাদে ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ফল বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে এর চাষাবাদ বেশ লাভজনক।

সাধারণত প্রতিকেজি পানিফল ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে মৌসুমের শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এ ব্যাপারে কলারোয়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী মনিরুজ্জামান জানান, এ উপজেলায় দিনদিন পানিফলের চাষ বাড়ছে। এতে পতিত জমির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি অনেকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

##