জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ : গৌরবের তিন দশক


408 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ : গৌরবের তিন দশক
মে ২৯, ২০১৮ জাতীয় প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
আজ ২৯ মে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি পালন করা হবে। এদিকে, চলতি বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অংশগ্রহণেরও তিন দশক পূর্তি হচ্ছে। তাই এবার এ দিবসকে ঘিরে থাকছে ভিন্ন আবহ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এ সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের সদস্যরা বিপদসংকুল ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিয়োজিত থাকেন। এ দেশের শান্তিরক্ষীদের দৃষ্টান্তমূলক সেবা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ, নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং সাহসিকতা সারাবিশ্বে প্রশংসিত।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাণীতে বলেন, তিন হাজার সাত শতাধিক ব্লু হেলমেটধারীকে সম্মান জানাই- যাদের চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়েছে। স্বীকৃতি দেই বিশ্বজুড়ে ত্যাগ আর সেবার প্রবহমান ধারাকে।

১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। সে বছর ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক দলে ১৫ জনকে পাঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তখন থেকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে লাল-সবুজের বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। এরপর যত দিন পেরিয়েছে, ততই আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় দেশের সাফল্যে নতুন নতুন পালক যুক্ত হয়েছে। যা বিশ্বে বাংলাদেশকেও নতুন এক মর্যাদায় উন্নীত করেছে। পৃথিবীর বুকে দেশের নতুুন এক পরিচিতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। আর পুলিশ নামিবিয়া মিশনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৯ সালে শান্তিরক্ষী মিশনে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর পদাতিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, কমান্ডো ও মেডিকেলসহ ১৭টি কন্টিনজেন্ট অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে তাদের অপারেশন পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা বিজয় লেবানন ও ভূমধ্যসাগর এলাকায় টহলের কাজে নিয়োজিত। বিমান বাহিনীর ইউলিটি এভিয়েশন, এয়ার ট্রান্সপোর্টেশনসহ চারটি কন্টিনজেন্ট সি-১৩০ বিমান ও এমআই সিরিজের হেলিকপ্টার নিয়ে মিশন এলাকায় জরুরি সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত। পুলিশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা মিশন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান, দাঙ্গা দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে চলেছে।

বর্তমানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিশ্বের ১০টি মিশনে সাত হাজার ৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত। তাদের মধ্যে পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৮১৫ জন। বাকিরা সশস্ত্র বাহিনীর। কঙ্গোতে এক হাজার ৯২০, মালিতে এক হাজার ৬৭০, দক্ষিণ সুদানে এক হাজার ৬১১, কারে এক হাজার ৪৮, সুদানে ৫২৪, হাইতিতে ১৪৮, লেবাননে ১১৫, পশ্চিম সাহারায় ২৭, সাইপ্রাসে ৩, লাইবেরিয়ায় ১ ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আট জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪০৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪৩৫ জন নারী শান্তিরক্ষী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন। বর্তমানে ১৫৭ জন নারী শান্তিরক্ষী মিশনে রয়েছেন। সংঘাতময় পরিস্থিতি ও জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৪২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আহত হয়েছেন ২২০ জন।

কর্মসূচি : শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ‘পিসকিপার্স রান’-এর মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শান্তির অন্বেষণে জীবন উৎসর্গকারী শান্তিরক্ষীদের স্বজন ও আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।