জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষা


396 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষা
অক্টোবর ৪, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর ::

কোন জাতির উন্নতির মূলে যে জিনিসটা অতি গুরুত্ব পূর্ণ সেটি হলো শিক্ষা। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। এটি একটি সর্বজন স্বীকৃত বিশ্বব্যাপি গ্রহণযোগ্য,সত্য। কী প্রাচীন? কী আধুনিক? সাম্প্রতিক সর্ব সময়েই শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই মানুষ উন্নতি লাভ করেছে অন্য কোন মাধ্যমে নয়। আর প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার ভীত। সারা বিশ্ব ব্যাপি প্রাথমিক শিক্ষার উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই জাতির জনক ১৯৭৩ সালে ৩৭৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এবং প্রায় দেড়লাখ শিক্ষককে একযোগে সরকারি করণের মতো দুঃসাহসিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে প্রাথমিক শিক্ষা কিছুটা হলেও অবহেলিত ছিল। কিন্তু পিতার পদাংক অনুসরন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।সে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিগত প্রায় দুইদশক ধরে প্রাথমিকের শিক্ষক স্বল্লতা দূরীকরণ, প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্প মেয়াদীর প্রশিক্ষন বিদেশের প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রশিক্ষন আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত এবং প্রযুক্তি নির্ভর পাঠদানে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া, প্রজেক্টর প্রদান এবং শিক্ষকদের আই সি টি বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান, শিক্ষা উপকরণ হিসাবে পাঠ্যপুস্তক সহ আনুসঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন দূশ্যমান। ইতিমধ্যে বিগত দুই দশক ধরে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্টার মাধ্যমে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক সহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত যথেষ্ট উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কোন সুউচ্চ ভবন বা স্থাপনা নির্মানে যদি ভীত বা ফাউন্ডেশন মজবুত না হয় তাহলে সে স্থাপনা স্থায়ীত্ব হুমকীর মুখে পড়ে। সে কারনে কোন জাতির উন্নতির মূলে যে বিষয়টি সর্বধিক গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হবে প্রাথমিক শিক্ষা। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তিতে ২৯ টি প্রান্তিক যোগ্যতা বিদ্যমান। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তিতে ২৯ টি যোগ্যতা নিয়ে বের হবে। সেই ২৯টি যোগ্যতা অর্জিত হলে একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক শিক্ষা মোটামুটি ভাবে সমাপ্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবেএবং সে তার বাস্তব জীবনেও এটি কাজে লাগাতে সক্ষম হবে। বিশ্বের সাম্প্রতিক প্রযুক্তি নির্ভর তার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষকরা যাতে শিশুদেরকে বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান নিয়ে শিশুদেরকে শিক্ষা দিতে পারে তাহলে বিশ্বয়নের এই যুগে বাংলাদেশে ও বিশ্বের সাথে সাথে সমান তালে খাপ খাইয়ে প্রতিযোগিতার টিকে থেকে বাংলাদেশ তথা বিশ্ব উন্নয়নের অংশিদার হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

লেখক
শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর
সহকারী শিক্ষক
তালা বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
তালা, সাতক্ষীরা।