জামায়াত শিবিরের নির্যাতনে হাত থেকে রক্ষা পেতে মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন


391 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জামায়াত শিবিরের নির্যাতনে হাত থেকে রক্ষা পেতে মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন
ডিসেম্বর ২০, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কে কেন্দ্র করে জামায়াত শিবিরের নির্যাতন হাত থেকে রক্ষা পেতে এক মুক্তিযোদ্ধা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

রোববার দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ৭১’র পরাজিত শক্তির দেওয়া মামলা, হামলা, দখলবাজি ও মারপিটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া দাবি জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনির কাপসন্ডা মৌজায় প্রায় ৯৪ বিঘা (ঢালীর চক) জমি বাব দাদার আমল থেকে বনকাটা সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছি। ওই জমি প্রতিপক্ষরা একটি জাল বয়নামা ও ডিগ্রি তৈরি করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষরা কয়েকদফায় আমাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট করেছে।

সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ও ৭১’র সালে গঠিত পিচ কমিটির সেক্রেটারী মৃত. রেজাউল করিম সানার ছেলে নাশকতা মামলার আসামী হান্নান সানা খুলনা, বুধহাটা, ও গদাইপুরের চিহ্নিত ক্যাডারদের ভাড়া করে এক/দেড় শত লোক নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে।

এসময় তারা আক্রমন চালায় ও পেট্রোল বোমা মেরে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং বাড়ির লোকজনকে বেদম মারপিট করে। এতে আমেনা (৫০), সুফিয়া (২৫), সাজেদা (৩০), ময়না (২২), জাহানারা (৩৫), নুন্টু ঢালি (৪৮), কাবিল ঢালী (৬০) ও আফিল ঢালী (৫৫) আহত হয়। গুরুতর আহত ৬ জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় বাড়িতে থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থানে পৌছলে আক্রমন কারীরা পালিয়ে যায়। আগুনে বকুল, আফিল ও নুন্টুর ঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে দু’লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
উল্লেখ্য: আশাশুনিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় আব্দুল্লাহ সানা(২৫), রকিব সানা (২২), খলিল সানা(১৮), এছাড়া চিহ্নিত জামায়াত- শিবিরের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত আয়ুব আলী সানার নাম রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার। কিন্তু তারপরও ৭১’র পরাজিত শক্তির নির্যাতনে আমরা অতিষ্ঠ উঠেছি। ওই জমি নিয়ে সিবিল আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তারা ঢাল, বোমা, রামদা, বল¬ম, কালা, রড নিয়ে ঘের দখল করার চেষ্টা করছে।

এঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ নাশকতা মামলার আসামী হান্নানসহ উভয় পক্ষের নামে এএস আই আছাফুর বাদী হয়ে ১৯জনের নামে একটি মামলা করেছে। বর্তমান গ্রেফতার এড়াতে এলাকায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি ওই চিহ্নিত জামায়াত শিবিরের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।