জীবন বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গি


188 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জীবন বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গি
অক্টোবর ২১, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

পরম যত্নে মা যখন মুখে খাবার তুলে দেয় তার চোখের পাতায় স্বপ্নের মাপ কাঠিটা তখনই বিস্তার লাভ করে। আর বাবার কঠোর পরিশ্রমে চোখ রাঙ্গানো ভালবাসার শাসনের পরিচ্ছন্ন আকাশের নীল মেঘে স্বপ্নের রংধনু বীজ বুনতে থাকে। হাঁটি হাঁটি পায়ে খেলা থেকে শুরু করে জীবনের বিস্তার লাভ করে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে প্রত্যেকে তার স্বপ্নের ক্যারিয়ারের দিকে ছুটতে শুরু করে। হতাশা কিংবা সফলতারর সময়ের মধ্যে যখন নিজেকে অতিক্রম করতে হয় কেউবা পার হয় আবার কেউ নিস্তেজের অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে স্বপ্নের বীজ থেকে মরুভূমির পথে। জীবনে একমুখী গঠনের ফলেই একরোখা সময় পার করতে হয়। সবার গন্তব্য যদি এক হয় তাহলে ট্রাফিক জ্যামের মত আটকে থাকতে হবে সময়ের পর সময়। বিকল্প পথের কথা মস্তিষ্কে রাখা খুবই প্রয়োজন, সেটা দূরের সীমানা হতে পারে, আবার নদী সাঁতরিয়ে পার হওয়ার কথা চিন্তায় রাখতে হবে। কিন্তু এখানে নদী পার হওয়ার জন্য সাঁতার শেখা মুখ্য। এ জন্যই জ্ঞানের বিস্তারটা বহু মুখি হওয়া খুব জরুরী। জ্ঞানের বহুমুখীতা যত বৃদ্ধি করা যাবে সফলতার গন্ডি খুব তাড়াতাড়ি রেখা পেতে ধরা দেবে।
অনেকের ভাবনাচিন্তার মাঝে এটাই ধরা দেয় যে ভাল কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নই অনেক কিছু। হ্যা সেটা অনেক সুন্দর সাজানো গোছান লক্ষ্য স্থির করার একটি বড় মাধ্যম। সব বিষয় এই রাস্তাটা আপনার দেখেশুনে রাখার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন, ‘জ্ঞানের চেয়ে কল্পনার জোর অনেক বেশি।’ তাই আমাদের লক্ষ্যকে স্বপ্নে পরিণত করা জরুরি।
So success is not a destination. Success is a Journey. আমি কি চাই, Follow your heart.You’ll win. এটাই যে আমি বা আপনি নিজেই বীর। সফলতার অগ্রগামী পথিক আমরা নিজেই। মনে করেন নদী পার হচ্ছেন, হঠাৎ নৌকা ডুবে যাচ্ছে, আপনি কি ঠাই দাঁড়িয়ে থাকবেন না অন্যদের মত সাঁতরিয়ে নদীপার হবেন? তখন কিন্তু নিজের জীবন নিজেকেই বাঁচাতে হবে। নদীর মত প্রবাহ মান জীবনে গতির পথ ঠিক না করলে আশেপাশে নালায় ভেতরে ডুকলে কিন্তু শেওলায় আটকিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক।তাই কাজের মাধ্যমে অালস্য দূর করতে হবে।
পৃথিবীতে বেকার অকর্মণ্য ও অনুৎপাদনশীল তারাই, যারা অলস, অনুৎসাহী ও গল্প গুজর করে সময় নষ্ট করে।(সুরা তওবা : ৮৭)
সুতরাং তারা পিছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়। লক্ষ্যের দৃষ্টিটা সুদূর প্রসারিত হওয়া অধিক প্রয়োজন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য সকল হতাশা ঝেড়ে ফেলতে হবে। অতীত কিন্তু কিছুই দেবে না। আপনি আজকের জন্য বেঁচে থাকেন এবং সফল হন। ভবিষ্যতের অন্ধকার কোঠায় নিজেকে নিমজ্জিত করবেন না। ভবিষ্যত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন শুধু এটাই যে আমি আজকের দিনের জন্য বেঁচে আছি, শুধু এই দিনটা আমার।
নিজেকে উহুদ পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় রাখতে হবে। এমন শক্ত পাথরে পরিণত হতে হবে,যাতে শিলা পড়লে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় কিন্তু পাথর নিজ জায়গায় স্থির থাকে। প্রত্যেকে কিন্তু তার জীবন নিয়ে ভাবে তাকে কি করতে হবে সেটা নাম, যশ, খ্যাতি,বা অর্থ। সফলতার মূল্যায়নে সার্বিক বিষয় যদি খেয়াল রাখা যায় তাহলে চলার পথে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
যখন অবসর সময় কাটবে তখন নামাজে দাঁড়িয়ে যান, তিলাওয়াত করুন, বই পড়ুন,লেখালেখি করুন,ব্যায়াম করুন, বিজ্ঞ ডাক্তার ও চিকিৎসকগন এর সাথে সময় বিনিময়ে আপনাকে পঞ্চাশ ভাগ সুখের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। একটা বিষয় খুবই জানা প্রয়োজন যে অন্য কে অনুকরণ করা যাবে না। নিজের স্বতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে। অন্যের অনুকরণের মধ্যে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সত্তা সম্পূর্নরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। লৌকিকতা,অহংকার ও অন্তর্দাহ এমন লোকদের স্থায়ী রোগে পরিনত হয়। সুতরাং নিজের স্থানে অন্য ছাড়া সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র সত্তা, তাই নিজের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র অনুযায়ী স্বতন্ত্র ভাবে চলতে থাকে হবে।
সকল কথা এটাই যে পরিশ্রম। “পরিশ্রম সৌভাগ্য প্রতিশ্রুতি” এই মূল মন্ত্রটা আমাদের জীবনের গঠন তন্ত্র। এই পর্যন্ত যা কিছু আমাদের সামনে আবিষ্কার সব কিছু পরিশ্রমের ফল।
কিন্তু জোয়ারের বিপরীতে বালির বাধ কিংবা ডালে বসে সেই ডাল কাটা শুধু পণ্ডশ্রমই নয় আত্মঘাতীও হতে পারে। সুতরাং সৌভাগ্য অথবা সাফল্যের সোনার হরিণ করায়ত্ব করতে শুধু পরিশ্রম করলেই হবেনা চাই সঠিক প্রচেষ্টা আর কিছু সাধারণ কৌশল। পরিশ্রম না করলে জাতি সামনের উন্নতি সিড়ি কখন প্রসার লাভ করতে পারে না। এই সংক্ষিপ্ত ও ক্ষনস্থায়ী জীবনকে মধুর ও ছন্দময় করে তুলতে করতে হবে কঠোর পরিশ্রম। আপনার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি যদি যথার্থ হয়ে থাকে, সামনে যে কোন বাধা আসুক না কেন,আপনি মাথা তুলে দাঁড়াবেন। বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে সাফল্যকে একবার করায়ত্ত করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, কারণ সাফল্যের শেষ নেই। সুতরাং সাফল্যকে ধরে রাখতে হবে দৃঢ় ভাবে। সব কিছু শেষ কথা এটাই এক মূহুর্তের জন্য ও ভরসা হারাবেন না,সফলতা আসবেই।

লেখক : মোঃ আশরাফুজ্জামান শাওন।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ,
ব্যবস্থাপনা বিভাগ