জীবন সংগ্রামে হার মানেননি কপিলমুনির প্রতিবন্ধি সুজন


148 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জীবন সংগ্রামে হার মানেননি কপিলমুনির প্রতিবন্ধি সুজন
নভেম্বর ২৯, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::

জীবন সংগ্রামে হার মানেননি প্রতিবন্ধি সুজন, অন্যের কাধের বোঝা হয়ে বাঁচতে চান না তিনি। প্রতিবন্ধি জীবনের অভিশাপ থেকে কিছুটা হলেও নিজেকে মুক্ত করতে অবশেষে ইলেকট্রনিকের কাজ বেছে নিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী সুজন অরফে পচা।
জানাযায়, খুলনা জেলার কপিলমুনির পার্শ¦বর্তী মামুদকাটী গ্রামের দীলিপ দত্তের ছোট ছেলে সুজন দত্ত পচা। একেবারে ঠিকঠাক জানা না গেলেও ১৯৮৪ সালের কোন এক সময় মাতা গীতা রানী দত্ত’র কোল জুড়ে আসে সুজন। প্রতিবন্ধি হয়ে সে জন্ম না নিলেও বয়স যখন ৬ মাস তখন পোলিও রোগে অক্রান্ত হওয়ায় তার ২ টি পা বিকলঙ্গ হয়ে যায়। প্রায়ই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পিতামাতা তার নাম দেন পচা। তার পা’দুটি বিকলঙ্গ হওয়ায় গ্রামের অন্য ছেলে মেয়ের মত হতভাগ্য পচার বেড়ে ওঠা সম্ভাব হয়নি। সারাক্ষণ তার বাড়ীর অঙ্গিনায় কোন রকমে ঘুরে ফিরে তার বেড়ে ওঠা। অতি কষ্টে লেখা পড়া হয় ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত। ব্যক্তি জীবনে ২০০৯ সালে বিবাহ করে সে, তার সংসার জুড়ে আসে এক ছেলে এক মেয়ে। শারীরিকভাবে পচা সামর্থবান না হলেও মানষিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী, তার ভেতর রয়েছে প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি, রয়েছে মেধা শক্তিও। তিনি যেন জীবন সংগ্রামে এক অকুতোভয় বীর। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর জড়ো পদার্থের ন্যায় জীবন যাপন নয়। কর্মের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করে জড়ো জীবনকে বিসর্জন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। আর তাইতো শুরু হলো সংগ্রামী কর্ম জীবনের শুভযাত্রা।
বাড়ীর আঙ্গিনায় রাস্তার ধারেই ছোট একটি কুড়ে ঘর বেঁধে মুদি দোকান দেন পচা। সেখানে বেশ কয়েক বছর ব্যবসা পরিচালনা করেন। সেখানে নিজে নিজেই ইলেকট্রনিক সামগ্রি মেরামত করতে করতে এক পর্যায়ে সে ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি হয়ে ওঠেন। টর্চ লাইট থেকে শুরু করে টেলিভিশন মেরামত তার কাছে খুব সহজ কাজে পরিণত হয়। এরপর পচা বাড়ির আঙ্গিনা ছেড়ে উঠে আসেন মামুদকাটী বাজারে। সেখানে বর্তমানে একটি ভাড়া দোকানে তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুজন দত্ত পচা বলেন, ‘পঙ্গুত্ব আর প্রতিবন্ধি জীবন কারো কাঙ্খিত নয়। যদিও আমার জীবনের সাথে সেটা জড়িয়ে গেছে। প্রতিবন্ধি জীবনটাকে পুঁজি করে অভিশাপ্ত অন্ধকার গহীনে হারিয়ে যেতে চাই না, তাই তো আমার এ জীবনসংগ্রাম। সকলের কাছে সহযোগীতা নয় শুধু আশির্বাদ চাই।’