জেএসসি ও এসএসসিতে পাঁচটি বিষয় কমবে


438 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জেএসসি ও এসএসসিতে পাঁচটি বিষয় কমবে
মার্চ ২৭, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বেশকিছু পরিবর্তন আসছে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় মোট পাঁচটি বিষয়ের পরীক্ষা আর নেওয়া হবে না। জেএসসিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে এবং এসএসসিতে ২০১৯ সাল থেকে পরীক্ষার্থীরা যথাক্রমে তিনটি ও দুটি বিষয়ে কম পরীক্ষা দেবে। তবে এ বিষয়গুলো উঠিয়েও দেওয়া হচ্ছে না। স্কুলে বিষয়গুলো পড়ানো হবে। কোনো পাবলিক পরীক্ষায় বিষয়গুলো থাকবে না। এসব বিষয়ের পরীক্ষা স্কুলভিত্তিক নেওয়া হবে। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের কৃষি শিক্ষায় আরও দুটি বই বাড়ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জেএসসি ও এসএসসি পর্যায়ে পাঁচটি বিষয় কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কর্মকর্তারা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ১৩টি বিষয়ের পরিবর্তে ১০টি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। অর্থাৎ তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। বিষয়গুলো হচ্ছে- চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা। ২০১৯ সালের এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে এসব বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। ২২ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পাঠ্যক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। সভায় নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিও চূড়ান্ত করা হয়। গত নভেম্বরে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের কর্মশালায় দেওয়া মতামতের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমদ সমকালকে বলেন, বিষয় কমানো বা সংযোজন চলমান প্রক্রিয়া। কয়েক বছর অন্তর অন্তর এটি হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশের শিক্ষাবিদরা এ ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, জেএসসি ও জেডিসিতে উলি্লখিত তিনটি বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে ৫০ নম্বরের মধ্যে। এর মধ্যে শারীরিক শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলার ২০ নম্বর তত্ত্বীয় ও ৩০ নম্বর ব্যবহারিক হবে। আর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষায় ৩০ নম্বর তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ২০ নম্বর হবে। এসব বিষয়ে শ্রেণির কাজ ১৫ (মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা এবং ক্লাস উপস্থিতি পাঁচ নম্বর করে), শ্রেণি অভীক্ষা ২০ (এমসিকিউ ও রচনামূলক ১০ করে) এবং বাড়ির কাজ ও অনুসন্ধানমূলক কাজ (অ্যাসাইনমেন্ট ও অনুশীলন) ১৫ নম্বরের মধ্যে হবে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষার পরীক্ষা আগের মতোই ১০০ নম্বরে নেওয়া হবে। এগুলোও শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ এবং শ্রেণি অভীক্ষা হিসেবে ভাগ করা হবে। বর্তমানে যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে ২০১৯ সালে তাদের এই নিয়মে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষে নেওয়ার পরীক্ষার নম্বর শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রে তা উল্লেখ থাকবে। তবে ওই নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন হবে না।

পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আসছে: মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমান পাঠ্যবইয়ে থাকা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘নিরীহ বাঙালি’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দেনা-পাওনা’, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’, ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের ‘আমার সন্তান’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রাণ’, যতীন্দ্র মোহন বাগচীর ‘অন্ধ বধূ’, ফররুখ আহমেদের ‘বৃষ্টি’ বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে ড. মুহম্মদ শহীদল্লাহর ‘পল্লী সাহিত্য’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ ও ‘জুতা আবিষ্কার’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘প্রবাস বন্ধু’, হুমায়ূন আহমেদের ‘নিয়তি’, আবদুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ এবং সিকান্দার আবু জাফরের ‘আশা’। নবম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্রে ৩১টি গদ্য ও ৩২টি পদ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কবিতা, সাতটি প্রবন্ধ-আত্মকথা, পাঁচটি গল্প এবং তিনটি উপন্যাস-নাটক বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যবই পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের।

কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন দুটি বই: কৃষি ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে মাধ্যমিক স্তরে দুটি কৃষি শিক্ষা সহায়ক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করছে সরকার। এর মধ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি এবং নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি সহায়ক বই পড়তে হবে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে নবম পর্যন্ত প্রতি শ্রেণিতে পাঠ্যক্রমে একটি করে কৃষি শিক্ষা বই রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বই দুটির কন্টেন্ট প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন বই ছাপানো এবং সহায়ক পাঠ্যবই হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে পেঁৗছানোসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪টি করে বই পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নবম-দশম শ্রেণিতেও বই পড়তে হয় ১৪টি। মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তক কমানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনরাও পাঠ্যপুস্তক কমানোর সুপারিশ করেছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে আসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষিত বেকার যুবকরা যাতে কৃষি পেশাকে মর্যাদাপূর্ণ মনে করে, সেজন্য পাঠ্যপুস্তকে কৃষি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে কৃষির গুরুত্ব বোঝানোর নির্দেশ দেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশারফ হোসেন সমকালকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে বুঝাতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি পাঠ্যপুস্তক আমরা তৈরি করে দিয়েছি। বাকি কাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের বই অতিরিক্ত হয়ে গেছে বলে আমাদের কাছে প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে। নতুন করে আর কোনো পাঠ্যবই যোগ করা ঠিক হবে না। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সমীর কুমার বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে করছি বই দুটি সহায়ক পাঠ্যপুস্তক হিসেবেই পড়ানো হবে। আলোচনা করে বই দুটি জাতীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তকরণ, ছাপানো, বিতরণসহ পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কজ