জেলা পরিষদের সীমানা নির্ধারণে বিধিমালা জারি


510 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জেলা পরিষদের সীমানা নির্ধারণে বিধিমালা জারি
আগস্ট ১২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
আগামী ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচন করার প্রশাসনিক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার জেলা পরিষদের সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিধিমালা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকরা ১৫টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করে পরিষদের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করবেন। তবে এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ আইনকে অধ্যাদেশে পরিণত করার কাজ চলছে। শিগগিরই এটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

স্থানীয় সরকারের অন্যতম স্তর জেলা পরিষদে গত ৪২ বছরেও কোনো নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনের লক্ষ্যে জেলা পরিষদ আইনকে দ্রুত অধ্যাদেশে পরিণত করা হচ্ছে। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পাবে নির্বাচন কমিশন। অধ্যাদেশে বলা হচ্ছে, জেলা পরিষদের প্রতিটি ইউনিটের জন্য একজন করে মোট ১৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। তিনটি ইউনিট নিয়ে একটি সংরক্ষিত নারী আসন থাকবে, যেখানে পরোক্ষ ভোটে পাঁচজন নির্বাচিত হবেন। জেলা পরিষদের জন্য একজন নারী ও আরেকজন পুরুষ মোট দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক সমকালকে বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ চলছে।

এরই মধ্যে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে বিধিমালা জারি হয়েছে। আর জেলা পরিষদ আইন অধ্যাদেশ আকারে চূড়ান্ত করে তা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।’

বিধিমালা অনুযায়ী ওয়ার্ড গঠন :সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিধিমালায় ওয়ার্ড গঠনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশে ওয়ার্ড সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচনের জন্য পরস্পর সনি্নহিত ওয়ার্ডসমূহ যতদূর সম্ভব একত্রে রাখতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে। প্রতি ওয়ার্ডের নির্বাচকম লীর সংখ্যা যথাসম্ভব কাছাকাছি সংখ্যায় নির্ধারণ করতে হবে।

সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগের ১৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত করে কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হবে, তার প্রাথমিক তালিকা বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তালিকা প্রকাশের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা দাখিল করা যাবে। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় শুনানির মাধ্যমে আপত্তি ও পরামর্শ নিষ্পত্তি করবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিক তালিকা সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন করা যাবে।

সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা প্রত্যেক ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকা উল্লেখ করে ওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তিনটি ওয়ার্ডকে সমন্বিত করে একটি ওয়ার্ডের সীমানা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করবেন। প্রাথমিক তালিকা সম্পর্কে আপত্তি দাখিলের সময়সীমা পার হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রকাশিত তালিকা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

পরিষদ গঠনের গেজেট প্রকাশিত হয়নি :স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন সংশোধন করা হয়। শর্তসাপেক্ষে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধানও রাখা হয় সংশোধিত আইনটিতে। স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনের ১৯ ধারায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করবে সে তারিখ থেকে পরিষদ গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। আইনে নির্বাচনের জন্য আলাদা বিধি প্রণয়নের বিধানও রাখা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের জন্য বিধান বা প্রথমবার পরিষদের গঠনের গেজেট এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সংশোধিত আইনে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জেলা পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। জেলার অধিক্ষেত্রের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বর, পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলির, উপজেলার চেয়ারম্যান, সদস্য, নারী সদস্য সবার ভোটে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান রয়েছে বিদ্যমান আইনে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন ও কার্যকর করা হয়। এই সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’ এরই মধ্যে আইনের দ্বারা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদকে প্রশাসনিক ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। পৌরসভা/সিটি করপোরেশনও এর অন্তর্ভুক্ত।

সংবিধান ও আইন বিধিবিধানে স্থানীয় সরকারের সব স্তর জনপ্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে তা অকার্যকর রয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৮৮ সালে প্রথম জেলা পরিষদগুলোতে সংসদ সদস্যদের চেয়ারম্যান হিসেবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকার শাসনের অবসান হলে ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যানদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তার পর থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদের কার্যক্রম চলে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর দেশের (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) ৬১টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এসব প্রশাসকের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে মৃত্যুজনিত কারণে প্রশাসকের পদ শূন্য হলে সেসব স্থানে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।