জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভোমরায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভোমরায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
আগস্ট ৯, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে। পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দামে। এরই মধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ বাজারে বাড়েনি শ্রমিকদের মজুরি। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা করছি। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ভোমরা স্থল বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অভি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জয়দেব ঘোষ জানান, দেশ অথনৈতিকভাবে দুর্বল। ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। ডলারের কারণে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, আর এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।

আনিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাসান আলী জানান, রোববার (৭ আগস্ট) পেয়াজ আমদানি হয়েছে ২৭ ট্রাক। সোমবার (৮ আগস্ট) পেয়াজ আমদানি হচ্ছে ১৫ ট্রাক। আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় ২২ টাকার পেয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ২৭-২৮ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি দরে কেজিতে ৫-৬ টাকা বেড়েছে। পণ্য পরিবহনে রাজধানী, চট্রগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ট্রাক প্রতি খরচ বেড়েছে চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। সাধারণ মানুষকে এখন বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি না বাড়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শ্রমিকরা। ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কাজে নিয়োজিত রয়েছেন তিন হাজার শ্রমিক। এসব শ্রমিকের পরিবারগুলোতে এখন দুর্দিন চলছে বলে জানান তারা।

ভোমরা বন্দরের শ্রমিক রুহুল আমিন জানান, শ্রমের বিনিময়ে আমাদের দৈনিক রোজগার হয় ২০০-৩০০ টাকা। এই টাকায় বাজারে গেলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা সম্ভব হয় না। সংসার চলছে না ঠিকমতো। আমরা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। একই দাবি জানান বন্দরের ট্রাকচালকরা।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্দরে। ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি না করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হন সে বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।

ভোমরা স্থল বন্দরের উপ পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, বন্দর দিয়ে দৈনিক ৩৫০ ট্রাক পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে আমদানি হয়। ভারতে রপ্তানি হয় ৫০ ট্রাক। দৈনিক রাজস্ব আদায় হয় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বর্তমানে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে দাম বাড়লে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

#