জ্যাক ডরসির সাফল্যের ১০ সূত্র


342 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জ্যাক ডরসির সাফল্যের ১০ সূত্র
সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টুইটার ও স্কয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি। পড়ুন তাঁর সাফল্যের রহস্য

১.ভাবনা থেকে শুরু হোক

জ্যাক ডরসি মনে করেন, উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে অনেকেরই একটা ভুল ধারণা আছে। আমি নিজেই নিজের ‘বস’ হতে চাই, অতএব একটা ‘আইডিয়া’ খোঁজা শুরু করলাম…ব্যাপারটা এমন নয়। উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থেকে ‘আইডিয়ার’ জন্ম হয় না, বরং ‘আইডিয়া’ থেকেই একজন উদ্যোক্তার জন্ম হয়। ডরসি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন ভাবল, আমি একটা ব্যবসা করতে চাই, তা নয়। বরং ঘুম থেকে উঠে কেউ যদি ভাবে, অমুক বিষয়টায় আমার ভীষণ আগ্রহ, আমি যেকোনো মূল্যে এটা নিয়ে কাজ করতে চাই, তাহলেই একটা সফল ব্যবসার জন্ম হবে।’

২.প্রতিষ্ঠানে থাকুক স্বচ্ছতা

স্কয়ারের মূল কার্যালয়ে একটা নিয়ম সব সময় মানা হয়। যেকোনো মিটিংয়ের সারাংশ একজন টুকে নেন, এরপর সিদ্ধান্তগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মীকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য হলো; আমরা কী করছি, কেন করছি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—এসব ব্যাপারে যেন সবার সমান ধারণা থাকে। ডরসি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা আরও অনেক নতুন নতুন আইডিয়া পাই, ভিন্ন চোখে দেখার সুযোগ পাই। ফলে ভিন্নভাবে ভাবার সুযোগ হয়। প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীলতার চর্চা গড়ে ওঠে।’

৩.সঠিক সময়টা কাজে লাগান

টুইটারের ভাবনা প্রথম জ্যাক ডরসির মাথায় এসেছিল ২০০০ সালে। তখনো লেখার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার ধারণা জনপ্রিয়তা পায়নি। একজন আমেরিকান সে সময় গড়ে মাসে ৩৫টি খুদে বার্তা লিখত। ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যাক ডরসি বলেছেন, ‘তখনো বার্তা পাঠানোর জন্য মোবাইলের ব্যবহার ততটা জনপ্রিয় ছিল না, অতএব আমি ভাবনাটা বাস্তবায়নের জন্য ব্যস্ত হইনি।’ ২০০৬ সালের জরিপে দেখা গেল, আমেরিকানরা আরও বেশি ‘টেক্সট’নির্ভর হয়ে পড়ছে। তারা ফোনকলের চেয়ে বেশি খুদে বার্তা ব্যবহার করছে। জ্যাক ডরসি বুঝলেন, এটাই সময়! ২০০৬ সালের জুলাই মাসে যাত্রা শুরু করল টুইটার। এরপরের সাফল্যের গল্প সবার জানা।

৪.ক্যারিয়ার পথ সরলরেখার মতো নয়

টুইটারের যাত্রা শুরুর আগে ফ্যাশন স্কুলে জামার নকশা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ডরসি। ‘ইলাস্ট্রেটর’ হিসেবে ক্যারিয়ার মোটামুটি প্রতিষ্ঠিতই ছিল। তাহলে প্রোগ্রামিং আর এই নতুন ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হলেন কেন? ফোর্বস সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আগে যা করেছি, সেগুলো ছিল নিজেকে তৈরি করার প্রক্রিয়ামাত্র।’ ব্যবসায়ী হিসেবেই যে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চান, তা নয়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার স্বপ্ন তাঁর।

৫.রুটিন অনুসরণ করুন

ছকে বাঁধা জীবন পছন্দ করেন জ্যাক ডরসি। প্রতিদিন সকালে দুটো সেদ্ধ ডিম আর একটুখানি ফল নাশতার টেবিলে থাকা যেমন তাঁর নিয়ম, তেমনি অফিসের কাজগুলোও একেবারে নিয়মে বেঁধে নিয়েছেন। সোমবার স্কয়ার এবং টুইটার পরিচালনাবিষয়ক সভা, মঙ্গলবারে পণ্য, প্রকৌশল, নকশাবিষয়ক আলোচনা, বুধবারে বিপণন ও যোগাযোগবিষয়ক সভা, বৃহস্পতিবারে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও ডেভেলপারদের সঙ্গে সময় কাটানো, শুক্রবারে প্রতিষ্ঠানের রীতিনীতিবিষয়ক আলোচনা—পুরো সপ্তাহের রুটিন তাঁর করাই আছে। তিনি স্রেফ রুটিন অনুসরণ করেন।

৬.সহজ ও সুন্দর

টুইটারে ২৮০ বর্ণের মধ্যে মনের কথা বর্ণনা করতে হয়। উদ্দেশ্য হলো, যে কথাটা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই যেন আপনি স্পষ্ট করে বলতে পারেন। বাড়তি কথা ছেঁটে ফেলার এটা একটা উপায়। ব্যক্তিগতভাবে জ্যাক ডরসিও এই নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, ‘যা আমি বলতে চাই বা যে কাজ করতে চাই, আমার নজর যেন শুধু সেদিকেই থাকে।’ আপনার কাছে টুইটারের অর্থ কী? মাত্র এক শব্দেই সেটা বলে দিতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা—‘যোগাযোগ’। অল্প কথাই তাঁর কাছে সহজ ও সুন্দর।

৭.ডায়েরি রাখুন

হাইস্কুল জীবন থেকেই নিজের অর্জন, ব্যর্থতা, কর্মকাণ্ডগুলো ডায়েরিতে টুকে রাখতেন জ্যাক ডরসি। তাঁর মতে, এটা তাঁর জীবনের সেরা কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। ডরসি বলেন, ‘নিজের উন্নতির দিকে লক্ষ রাখার জন্য এটা সবচেয়ে সহজ উপায়। কীভাবে আপনি, আপনার ব্যবসা, আপনার নেতৃত্বগুণ একটু একটু করে পরিণত হয়েছে, আপনি সেটা চোখের সামনে দেখতে পাবেন।’

৮.যোগাযোগ আর সহযোগিতাই মূল চাবি

ডরসি বলেন, আপনার প্রতিষ্ঠানের দুটো বিভাগ কিংবা দুটো মানুষ যদি পরস্পরের সঙ্গে কথা না বলে, মিলেমিশে কাজ না করে, তাহলে একটা ফাঁক থেকে যায়। এই ঘাটতির প্রতিফলন থাকবে আপনার পণ্যেও। অতএব সেটা গ্রাহকের দৃষ্টি এড়াবে না। ডরসির বক্তব্য, ‘পণ্যের নকশা বা সেবা প্রদানের কৌশলের ব্যাপারে আমরা যতটা সতর্ক, একই রকম গুরুত্ব পায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাও।’

৯.ছুটির সর্বোত্তম ব্যবহার করুন

অনেকে মনে করে, ছুটির দিনগুলোয় কাজ করা মানেই হলো আরেকটু এগিয়ে থাকা। কিন্তু অনেক সফল মানুষই বোধ হয় এ কথার সঙ্গে একমত নন। জ্যাক ডরসি বলেন, ‘শনিবার আমার ছুটির দিন। এই দিন আমি সব রকম দাপ্তরিক কাজ থেকে দূরে থাকি। রোববার থেকে আমার পুরো সপ্তাহের কাজের জন্য তৈরি হই।’ ছুটির দিনে যেমন পুরো দিনটা উপভোগ করেন, তেমনি কাজের বেলায় কোনো ছাড় দেন না ডরসি। সপ্তাহের ছয় দিন দুই প্রতিষ্ঠানে আট ঘণ্টা করে সময় দেন।

১০.দ্বিধা ঝেড়ে কাজে হাত দিন

টুইটারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলছিলেন জ্যাক ডরসি। ‘নতুন কোনো ভাবনা মাথায় এলে আপনার মাথায় অনেকগুলো “যদি” খেলা করবে। যদি এটা হয়, যদি ওটা হয়…এসব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে কাজে হাত দিন। যত দ্রুত আপনি কাজ শুরু করবেন, তত দ্রুতই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবেন।’

সূত্ন : অনলাইন