ঝাউডাঙ্গা বাজারে প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করছে সুনীল ঘোষ


415 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঝাউডাঙ্গা বাজারে প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করছে সুনীল ঘোষ
জুলাই ১১, ২০১৫ সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

নাজমুল হক :
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী সুনীল কুমার ঘোষ খাস জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে জানার পর  ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ৫ জুলাই তারিখে খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করার নোটিশ দিলেও কোন কাজ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ভূমি অফিস ও বাজারের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে রাতে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে সুনীল। তবে সুনীল কুমার ঘোষ জানান, আমার পৈত্রিক জমিতে আমি পাকা ঘর নির্মাণ করছি। এখানে বাধা দেওয়ার কারো অধিকার নেই।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র ঝাউডাঙ্গা বাজার। এ বাজারে ঘিরে প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বাজারকে ঘিরে এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যপকভাবে সম্প্রসারণ হচ্ছে। বাজারে সোনালী ব্যাংকের বিপরীত পাশে কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের এক শতক খাস জমি রয়েছে। সরকারি খাস জমি নিজের দাবী করে গত ৫ জুলাই সকাল থেকে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করে ঝাউডাঙ্গার মৃত- অমুল্য চরণ ঘোষের পুত্র ব্যবসায়ী সুনীল কুমার ঘোষ। এ ঘটনা জানতে পেরে ৫ জুলাই স্থানীয় ঝাউডাঙ্গা ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে সুনীলকে তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা বিষয়টি সদর সহকারী কমিশার (ভূমি)কে লিখিতভাবে অবহিত করেন।
সূত্র আরো জানায়, ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশের পরেও থেমে থাকেনি কাজ। প্রতিদিন রাতে হচ্ছে কাজ। শনিবার  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিন দিয়ে ঘিরে গত কয়েকদিনে ঘরের চারপাশের দেওয়াল লিন্টন পর্যন্ত গাঁথা হয়েছে। ঘরের মধ্যে দেওয়াল গাঁথার জন্য ভারা (বাঁশ কাঠ দিয়ে পাটাতন) করা রয়েছে। ঘরের ভিতর স্তুপ স্তুত কাঠ ও বাঁশ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, স্থানীয় ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও বাজার কমিটির কয়েকজনকে ম্যানেজ করে সরকারি নিদের্শ অমান্য করে সুনীল কুমার ঘোষ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্মাণের শুরুতে কাজ বদ্ধ করে দিলেও এখন চারপাশের দেওয়াল তৈরি করা হয়েছে। আর এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের কোন ভূমিকাও দেখছে না স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মোবাইলে সুনীল কুমার ঘোষ জানান, এটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। আমার জমিতে আমি ঘর নির্মাণ করলে কারো অধিকার নেই বাধা দেওয়ার। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে বাজারের কয়েকজনের সাথে আমার কথা হয়েছে।
ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুনীল কুমার ঘোষ খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করায় আমি বন্ধ করে দিয়েছি। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি ব্যবস্থা না নিলে আমার কিছু করার নেই।