টাইগারদের দুশ্চিন্তার নাম ফিল্ডিং


52 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টাইগারদের দুশ্চিন্তার নাম ফিল্ডিং
জুন ১০, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

‘ইংলিশ পরীক্ষা’য় ফেল করার পর খাতাটা আর দেখার সময় হয়নি। রাতে হোটেলে ফিরেই ব্যাগ গোছানো, সকালে উঠে কার্ডিফ থেকে ব্রিস্টলের বাস ধরা। সব মিলিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের তিন মুখ (কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক) এক হয়নি। তবে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় সাদা চোখে একটি গলদ সবারই নজরে এসেছে- আর তা হলো ফিল্ডিং এবং ফিল্ডারদের শরীরী ভাষা। সেদিন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা একটু চড়াও হতেই গা ছেড়ে দেন ফিল্ডাররা। তিনশ’ ছিয়াশির মধ্যে অন্তত কুড়িটি রান গলে যায় ফিল্ডিংয়ের ভুলে। লংকার বিপক্ষে নামার আগে আপাতত ফিল্ডিংয়ের সেই ফুটোফাটাই সারানোর সময় পাচ্ছেন মাশরাফিরা। ‘সত্যি কথা বলতে কি, আপাতত এই ফিল্ডিং নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা যখন টপে থাকি তখন ফিল্ডিংও ভালো হয়। কিন্তু যখন খারাপ করতে থাকি, তখন এই ফিল্ডিংও কেমন যেন হয়ে যায়। ব্যাটিং কিংবা বোলিং নয়, অল্প সময়ের মধ্যে এ দিকটাই শুধু ঠিকঠাক করা যায় এবং আমরা সেটাই করব।’ সেদিন ম্যাচের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিজের এ ভাবনাটিই তুলে ধরেন সাকিব আল হাসান।

তবে সেদিন যাদের ফিল্ডিং বাজে হয়েছিল তারাও একটা যুক্তি দাঁড় করেছেন টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে। আর তা হলো, কার্ডিফের মাঠের আকার এবং সেখানকার প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হাওয়া। সেদিন মাঠে এতটাই ঠাণ্ডা হাওয়া ছিল যে, ফিল্ডিংয়ের সময় কাউকে কাউকে পকেটে হাত লুকিয়ে রাখতেও দেখা যায়! আকাশে ক্যাচ উঠলেও তা জাজমেন্ট করতে ভুল হয়ে যায় হাওয়ার কারণে। আপাতত এই যুক্তি মেনে নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু গড়িয়ে আসা বল গ্রিপ করতেও যাদের সমস্যা হচ্ছে, তাদের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। ট্রেনার মারিও ব্যাপারটি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তেরো থেকে চৌদ্দ ডিগ্রির ঠাণ্ডাতেই ক্রিকেটাররা গুটিয়ে যাচ্ছেন কেন? এই ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না তিনি। কেননা আয়ারল্যান্ডে এর চেয়েও বেশি ঠাণ্ডায় এই ক্রিকেটাররাই ভালো ফিল্ডিং করেছিলেন।

শুধু ফিল্ডিং নয়, দলের বোলিং শক্তি নিয়েও প্রতিপক্ষ মার্কস করছে। ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিনকে ধরে রাখছেন মাশরাফি। কিন্তু সাইফউদ্দিন তার কাঙ্ক্ষিত স্লোয়ার আর সুইং সব সময় পাচ্ছেন না। মুস্তাফিজও তার কাটারগুলো সব সময় দিতে পারছেন না। শুরুর বোলিং নিয়েই বেশ ডিফেন্সিভ থাকতে হচ্ছে মাশরাফিকে। দলের মধ্যে উইকেটটেকার বোলার বলতে একমাত্র সাকিবই রয়েছেন মাশরাফির হাতে। তাই শুরুতেই সাকিবকে ব্যবহার করতে হচ্ছে মাশরাফিকে। যে কারণে মাঝের ওভারগুলোতে মিরাজ আর মাশরাফি নিজে বোলিং করছেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের মাঠের আকার নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্পিনাররা। ‘কার্ডিফের মাঠটি একেক দিকে একেক রকম। কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে সহজেই বল তুলে দিয়ে ছক্কা হাঁকানো যায়। ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা কিন্তু সে সুযোগটিই নিয়েছেন। এ ধরনের মাঠে সাধারণত আমাদের নিয়মিত খেলার অভ্যাস সেই। তাই স্পিনারও ভয়ে ভয়ে বোলিং করেছে। এ ধরনের পিচে পেসারদের গতিই কেবল ব্যাটসম্যানদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। সেখানে আমাদের হাতে তেমন কোনো পেসারও নেই। আমাদের শক্তির জায়গাটিই স্পিনে। কিন্তু এই ছোট মাঠগুলোতে স্পিনাররা তাদের মতো করে সব সময় বোলিং করতে পারে না।’ খোলামেলা স্বীকারোক্তি সাকিবের। তবে ইংল্যান্ড ম্যাচের পর একটি ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। আর তা হলো, দলের সবচেয়ে দ্রুতগতির পেসার রুবেলকে একাদশে খেলানো। হয়তো পরের ম্যাচেই দেখা যাবে রুবেলকে। তবে ব্রিস্টলের যে আবহাওয়া বুলেটিন, তাতে ম্যাচের দিন পুরোটা সময় বৃষ্টি রয়েছে। তাই শুধু দলের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে নয়, ব্রিস্টলের আকাশের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে মাশরাফিদের।