টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে না পেরে মৃত্যুর প্রহর গুনছে স্ত্রী


390 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে না পেরে মৃত্যুর প্রহর গুনছে স্ত্রী
মার্চ ২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
তিন বছর আগে পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে ইটভাটার শ্রমিকের কাজে যায় আব্দুল মালেক। সেখানে ভাটা মালিক বেঁধে মারপিট করে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আব্দুল মালেক। গত শুক্রবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে ভর্তি করা হয় শহরের খুলনা রোড এলাকার স্বপ্না ক্লিনিকে।

চারদিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সেখানে ২৪ হাজার টাকা নেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তারপর বলে এখানে চিকিৎসা সম্ভব নয়। এরপর ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। এসব কথা জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১নং ওয়ার্ডের ৪নং বেডের অসুস্থ আব্দুল মালেকের ভাই মনিরুল ইসলাম।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন আব্দুল মালেকের চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। এর মধ্যে বাড়িতে যে টাকা ছিলো আর ছাগল বিক্রি করে ক্লিনিকে ২৪ হাজার টাকা দিয়েছি। খরচ করার মত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

হাসপাতালে ভর্তি স্বামীর পাশে সাতক্ষীরার সদরের খানপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বিরুপায় হয়ে বসে আছেন। তিনি বলেন, আমাদের অভাবের সংসার। তিন ছেলে ওমর ফারুক (১৮) রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ে হিসেবে কাজ করে। মেঝো ছেলে ইকবল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। সেঝো ছেলে আফজাল চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ে মুন্নি পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, খুলনা বা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সাধ্য আমাদের নেই। আপনারা যদি কোন উপায় করতে পারেন করে দেন। আমার স্বামীকে আপনারা বাঁচান।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাসানুজ্জামান জানান, আব্দুল মালেকের চিকিৎসা সাতক্ষীরায় সম্ভব নয়। তার কিডনিতে পাথর, লিভারের সমস্যা, পেটের নাড়িগুলো জড়িয়ে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত খুলনা বা ঢাকায় নিতে হবে।

স্থানীয় শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, পরিবারটি খুব অসহায়। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার সংবাদটি আমার জানা নেই। চেষ্টা করবো সাহায্য সহযোগিতা করার।

এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন (০১৯২৩৩৯৯১৭৭) এই নাম্বরে। নাম্বারটি আব্দুল মালেকের মেঝো ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইকবল সরদারের। তাকে সুস্থ করতে হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। না হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয় এমনটাই জানিয়েছেন ডাক্তার।
##