টাঙ্গাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২


335 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টাঙ্গাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভরত লোকজনের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন।

তারা হলেন-শামীম (২৫) ও ফারুক (৩৮)। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গত মঙ্গলবার মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করার এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বুধবার রোমা ও বৃহস্পতিবার হাফিজুর নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করার ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনকে রিমান্ডে না নেয়া ও পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে কালিহাতী ও ঘাটাইল উপজেলার কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কালিহাতী থানায় আসলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছুড়ে। এসময় পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ বেধে যায়। লোকজন পুলিশের ওপর ইট পাটকেল ছুড়ে মারে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্ট ধাওয়া।  পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর গ্রামের ওছমান আলীর ছেলে শামীম ও কালিহাতী পৌর এলাকার কুষ্টিয়া গ্রামের সানু শেখের ছেলে ফারুক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয় অন্তত ২৫ জন। তাদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

কালিহাতী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ঘাটাইল উপজেলার কয়েকটি গ্রাম থেকে ২-৩ হাজার লোক দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে থানার দিকে আসতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে একজন এসআই ও দু’জন কনস্টেবল মারাত্মক আহত হন। বাধ্য হয়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। কিন্তু কেউ পুলিশের গুলিতে কেউ নিহত হয়নি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি ছিল, তাদেরই আঘাতে কেউ মারা গিয়ে থাকতে পারে। ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

তিনি আরো জানান, মা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় মূলহোতা হাফিজ উদ্দিন ও রোমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরও থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার জানান, ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।