টানা বর্ষনে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


170 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টানা বর্ষনে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
জুলাই ৩০, ২০২১ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি

পানি বন্দী শত শত পরিবার

আসাদুজ্জামান ::

গত দুই দিনের টানা ভারি বর্ষনে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসেগেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। তলিয়ে গেছে ১৭’শ হেক্টর সদ্য রোপা আমন বীজতলা। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদ ও নদীর বেড়িবাঁধেও দেখা দিয়েছে ফাটল। বুধবার ও বৃহস্পতিবার গত দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মৎস্য ঘেরের ক্ষতির পরিমান ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৯ হাজার টাকা। এদিকে, টানা বর্ষনে জেলার তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শত শত পরিবার।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা আলীনুর খান বাবুল জানান, পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। টানা বর্ষনে তলিয়ে গেছে পৌরসভার ইটাগাছা, কামাননগর, রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমোল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুটিরডাঙি ও কাটিয়া মাঠপাড়াসহ বিস্তির্ন এলাকা। তিনি আরো জানান, গুটি কয়েক লোক অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের করার কারনে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার পরিমানে কিছুটা কম।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মশিউর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর আয়তনের মোট ১৯ হাজার ৫৪৯ টি মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। যার ক্ষতির পরিমান ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫৩ কোটি ৪৯ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরর অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে জেলার ১৭’শ হেক্টর আমন বীজতলা তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, বৃষ্টি যদি আর না হয় তাহলে ফসলের আর তেমন কোন ক্ষতি হবেনা।

#