টেক্সাসে একই পরিবারের ৬ লাশ উদ্ধার, পাবনার বাড়িতে শোকের মাতম


113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টেক্সাসে একই পরিবারের ৬ লাশ উদ্ধার, পাবনার বাড়িতে শোকের মাতম
এপ্রিল ৬, ২০২১ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনায় শোকে কাতর স্বজনরা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না তারা। নিহতদের লাশ পাবনায় এনে দাফনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার সকালে এই খবর জানাজানি হলে নিস্তব্ধতা নেমে আসে শহরের উপকন্ঠ দোহারপাড়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে। সকাল থেকেই নিহতদের স্বজন ও বন্ধুবান্ধব পাবনার গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমায়। নিহতের পরিবার এবং আত্মীয়রা সরকারের কাছে দাবি করেছেন অন্ততপক্ষে দেশের মাটিতে নিহতদের দাফন করা হোক।

নিহতের ছোট ভাই আবুল কালাম আজাদ হিরক সমকালকে বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বপরিবারে বসবাস করেন তার দুলাভাই তৌহিদুর রহমান ওরফে স্যাম তৌহিদ (৫৩)। তিনি আমেরিকার সিটি ব্যাংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম ওরফে নীলা তৌহিদ (৪৮) ও তার তিন সন্তান তানভীর তাওহীদ (২৩), মেয়ে ফারবিন তাওহীদ (২১) এবং ফারহান তাওহীদ (১৯) কে নিয়ে বসবাস করছিলেন। নীলার বৃদ্ধা মা আলতাফুন্নেচ্ছাও তাদের সঙ্গে টেক্সাসে ছিলেন। আলতাফুন্নেচ্ছা পাবনা আমেরিকা আসা যাওয়া করতেন। তার বড় ছেলে আতাউর রহমানও নিউইয়র্কে থাকেন। গত শুক্রবার রাতে পাবনায় আলতাফুন্নেচ্ছার ছেলেদের সঙ্গে কথা হয়। ১ এপ্রিল আলতাফুন্নেচ্ছার পাবনায় ফেরার কথা ছিল। করোনার কারণে সেই ফ্লাইট বাতিল হয়ে পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল দেশে আসার দিন ঠিক হয়। কিন্তু গত শুক্র অথবা শনিবার রাতে তারা নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পরিবারের দুই সন্তান অন্য সদস্যদের হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করতে পারেন।

তবে এ বিষয়ে আলতাফুনেচ্ছার বড় ছেলে ও নীলা তৌহিদের ভাই আরিফুর রহমান আলিফ সমকালকে বলেন, তার ভাগ্নেরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে না। এর পেছনে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তার ভাগ্নেরা মানসিক রোগী ছিলেন না। তারা ছিলেন প্রাণবন্ত। শুক্রবার রাতেও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো সমস্যা থাকলে মা তাদের জানাতেন।

নিহত আলতাফুনেচ্ছার ভাই আব্দুল হান্নান তালুকদার সমকালকে বলেন, আমরা চাই সরকার তাদের লাশগুলো দেশে এনে দিক। আমরা পাবনায় তাদের দাফন করতে চাই।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১টার দিকে টেক্সাসের অ্যালেন শহরের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে একটি বাড়ির এক কক্ষে একইসঙ্গে বাবা-মা ও ৩ সন্তানের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। একটু দূরেই পড়েছিল তাদের দাদির লাশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কিংবা তারা আত্মহত্যা করেছে।