টোল চার্ট ছাড়া শ্যামনগরে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ


506 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
টোল চার্ট ছাড়া শ্যামনগরে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ
মে ৩১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর:
উপজেলার সবচেয়ে বৃহত্তর বাজার হলো নকিপুর হাট বাজার। বাজার ইজারার জন্য ডাক দেয়া হলে সরকারী ডাকের উপরে কেউ ডাকেন নি এ বাজারটি । তবে মাসিক খাস কালেশনের মাধ্যমে নকিপুর বাজারের বই বিক্রেতা রোকন বাবু হাট বাজারের বর্তমানে টোল আদায় করছেন বলে সদরের তহশীলদার জানান। টোল আদায়ের পুর্ব শর্ত হলো বাজারের প্রধান ফটকে টোল চার্ট ঝুলিয়ে দিতে হবে।  টোল চার্ট ছাড়া খাজনা আদায় করা সম্পুর্ন অনিয়ম। সাধারন মানুষের হয়নি কমাতে উপজেলা পরিষদ থেকে বলা হয়েছে প্রত্যেক হাট বাজারে টোল চার্ট ঝুলানোর জন্য। শ্যামনগরের নকিপুর বাজারের পাশাপাশি নওয়াবেকী, নুরনগর, কাশিমাড়ী, ভেটখালী, হরিনগর সহ প্রায় সকল হাট বাজারে টোল চার্ট না ঝৃলিয়ে ইচ্ছামত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। সাধারন বা খুচরা ব্যাবসায়ীরা জানতেই পারেনা তাদের কাছ থেকে কোন জিনিষের জন্য কত টাকা খাজনা নেয়া হচ্ছে। ইচ্ছামত যার কাছ থেকে  যা পাচ্ছেন ইজারাদাররা  তার কাছ থেকে সে ভাবে আদায় করছেন। হাট বার সহ প্রতিদিন খাজনা আদায়ের নামে সাধারন মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

 

এ ভাবে তার অজান্তে জোর পুর্বক খাজনা নেয়া হলে সেটা অবশ্যই চাদার মধ্যে পড়ে থাকে। এ ধরনের চাদার হাত থেকে  সাধারন মানুষ বাচতে চায়। এক টোল আদায় কারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী যে রেট আছে আমরা অনেক জিনিষে খাজনা তার চেয়ে কম নিয়ে থাকী।আবার অনেক ক্ষেত্রে সরকারী রেটের চেয়ে ও বেশী নিয়ে থাকি। তবে চার্ট দিয়ে খাজনা আদায় করলে তেমন কোন সমস্যা হবে না। ১০০০/১৫০০ টাকা খরচে করে একটি চার্ট বিলবোড বাজারে ঝুলানো কোন বিষয় না। এ দিকে প্রত্যেক হাট বাজারের সভাপতি হলেন, সাধারন জনগনের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সাধারন ব্যবসায়ীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিই ওই হাট বাজারের সেক্রেটারি। হাট বাজারের সকল ব্যাবস্থাপনা দ্বায়িত্বে থাকেন ওই দু” জন ব্যক্তি। তবে হাট বাজার ইজারা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন, উপজেলা প্রসাশন। হাট বাজারের ইজারা দেয়ার সময় স্পষ্ট ভাবে বাজারের টোল আদায় সংক্রান্ত তথ্যাবলী ইজারাদারদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছেনা বলে মনে হয়। অথবা ইচ্ছে করে ইজারাদাররা সেটি মানছেননা।

 

এছাড়া আরো একাধিক শর্তাবলি অাছে হাট বাজার থেকে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে। বিশেষ শর্তের মধ্যে রয়েছে, হাট বাজার পরিস্কার রাখা, ময়লা আবর্জনা নিদিষ্ট স্থানে ফেলা। কোন শর্তই ইজারাদাররা মানছেন না। কিভাবে জোর করে মানুষের কাছ থেকে টোল আদায় করা যায়, সে দিকেই তাদের সারাক্ষন নজর। সামনে বর্ষা আর পবিত্র রমজান মাস তাই সকল পেশার সাধারন মানুষ প্রচন্ড দুগন্ধের কবল থেকে মুক্তি পেতে চায়।এ ছাড়া নিতীমালার মধ্য থেকে টোল আদায়ের দাবী ও তাদের। এ দিকে নকিপুরের হাট বাজার নিয়ে কথা হলে শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের তহশিলদার বলেন, নকিপুর বাজারটি রোকন বাবু ৩৩ লাখ টাকায় সরকারী রেটে ডেকে নিয়েছে। তবে এ টি মৌখিক খাস কালেশনের মাধ্যমে। তিনি হাট বাজারের অর্ধেক টাকা আমার কাছে দিয়েছে বাকী টাকা তিনি মাস ওয়ারী ভাগ করে পরিশোধ করবেন বলে তহশিলদার জানান। নায়েব সাহেবের টাকা পেলেই হলো আর ইজারাদারদের মোটা টাকা উঠাতেই হবে। এর মাঝখানে যে কিছু নিয়মনীতি আছে সেটা কেউ মানছেননা। টোল আদায়ের নামে যদি কেউ চাদাবাজী করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে চাদাবাজী ধারায় মামলা হবে। চাদা চাদাই, সেটা দশ টাকা হতে পারে আবার দশ হাজার টাকাও হতে পারে। আসুন নিয়মবহির্ভূত চাদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিশ্চয়  সাধারন মানুষের পাশে থেকে এর সঠিক সমাধান দিবেন। দীর্ঘদিন ধরে এধরনের হয়রানীর কবলে পড়ে সাধারন খুচরা ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। তাই প্রসাশনের কাছে জোর দাবী করেছেন, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে খাজনা আদায়ের নামে হয়রানী কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। এছাড়া সকল হাট বাজারের টোল চার্ট ঝুলানোর ব্যবস্থা করা।