ডাকাতি শেষে চার নারী ধর্ষণ : বিনা অপরাধে জেল খাটছে তিন যুবক


376 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ডাকাতি শেষে চার নারী ধর্ষণ : বিনা অপরাধে জেল খাটছে তিন যুবক
মে ২৭, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি ও তিন গৃহবধূসহ চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় বিনা অপরাধে সাড়ে চার মাস ধরে জেল খাটছে তিন যুবক। তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছিল কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

যদিও এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অন্য চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কর্ণফুলী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার তিন যুবকের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে সে সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা। পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম এ তিন যুবক জেলে থাকায় তাদের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মামলার খরচ চালানোর সামর্থ্যও নেই অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর।

ওই তিনজন হলো- শাহ মীরপুর গ্রামের মো. সুমন ওরফে আবু, কামাল ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পী এবং শিকলবাহা গ্রামের মো. মাহমুদ ফারুকী। তাদের মধ্যে আবু রাজমিস্ত্রির কাজ করত, বাপ্পী ছিল মোটরকার চালক।

আবুর বাবা আহমদ মিয়া সমকালকে বলেন, ‘আমি পঙ্গু মানুষ। ভিক্ষা করে ছেলেকে বড় করেছি। রাজমিস্ত্রির কাজ করত সে। আমার নিরপরাধ ছেলে এখন জেল খাটছে।’ ‘টাকা-পয়সা না থাকায় ছেলেকে জেলে দেখতে যেতে পারছি না। ঘরভাড়া দিতে না পারায় নাতিসহ পুত্রবধূকে তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’ এ কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পীর মা খতিজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার ছেলে বাপ্পী গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাত। কিন্তু সে জেলে থাকায় ছোট ছেলে নিয়াজ (১৭) রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছে। মামলার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই।

এ প্রসঙ্গে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ও কর্ণফুলী থানার এসআই মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কথায় প্রভাবিত হয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মিডিয়ার চাপ থাকায় তাদের সংশ্লিষ্টতা খুব বেশি যাচাই করার সুযোগ হয়নি।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ মিরপুর গ্রামে একটি বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে বাড়ির চার নারীকে ধর্ষণ করে ডাকাতরা। চারজনের মধ্যে তিনজন প্রবাসী তিন ভাইয়ের স্ত্রী, অন্যজন তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ননদ।

এ ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসি করার অভিযোগের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নির্দেশে কর্ণফুলী থানা পুলিশ প্রায় পাঁচ দিন পর মামলা নেয়। ওই ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তড়িঘড়ি করে তিনজনকে গ্রেফতার করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

কারাবন্দি নিরপরাধ ব্যক্তিদের প্রতিবেশী আইনজীবী দিদারুল ইসলাম বলেন, পিবিআইর গ্রেফতার করা তিন আসামি আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, সেখানে আবু, বাপ্পী ও ফারুকীর নাম নেই। তারা নিরপরাধ। আমি একবার ওদের জামিন চেয়েছিলাম। তবে আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, সুবিচার পাওয়াটা এখন আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এখন পিবিআই যে তিনজনকে নিরপরাধ বলছে, তাদের জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। এ ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারি না।