ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস : ফি ৭০০ টাকা, দিনে রোগী দেখেন ১৪২জন, রোগীর পিছুনে সময় দেন ৩ মিনিট ৭৫ সেকেন্ড !


8595 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস : ফি ৭০০ টাকা, দিনে রোগী দেখেন ১৪২জন, রোগীর পিছুনে সময় দেন ৩ মিনিট ৭৫ সেকেন্ড !
মে ২৫, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

 

* সাতক্ষীরা থেকে প্রতিমাসে কুড়িয়ে নিয়ে যান ৪ লাখ টাকা।
* একদিনে রোগী দেখেন ১৫০ জন ।
* সাতক্ষীরা থেকে যা আয় করেন তার আয়কর দেন না।
* প্রতি ঘন্টায় রোগী দেখেন ১৬ জন।

॥ এম কামরুজ্জামান ॥
—————————–
ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস আজ শুক্রবার সাতক্ষীরায় একদিনে রোগী দেখেছেন ১৪২ জন। তার ফি ৭০০ টাকা। অর্থাৎ আজ তিনি আয় করেছেন ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা। আর পরীক্ষা-নিরিক্ষার নামে বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে কমিশন বাবদ আয় আরো কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। অথচ সাতক্ষীরা থেকে তার এই আয়ের বিপরীতে তিনি কোন আয়কর জমা দেন না বলে তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে।

আজ শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখেছেন ১৪২ জন। সেই হিসেবে প্রতি ঘন্টায় রোগী দেখেছেন ১৬ জন, প্রতি রোগীর পিছুনে তিনি সময় দিয়েছেন মাত্র ৩ মিনিট ৭৫ সেকেন্ড।এই হচ্ছে বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মানবসেবার চিত্র।

আজ শুক্রবার মনোরোগ ও ¯œায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাসের সাতক্ষীরাস্থ চেম্বারে গিয়ে দেখা গেছে রোগীর ভীড়ে সেখানে পা রাখার মতো জায়গা নেই। সেখানকার বাতাস রিতিমতো ভারী হয়ে উঠেছে।

জানাগেছে, ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস থাকেন খুলনাতে। প্রতি শুক্রবার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি ডা: মোখলেছুর রহমানের মালিকানাধীন সাতক্ষীরা জেলা শহরের নাজমুন ক্লিনিকের একটি কক্ষে বসে রোগী দেখেন। প্রতি শুক্রবার সাতক্ষীরাতে তার রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। আজ শুক্রবারও ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস সাতক্ষীরার নাজমুন ক্লিনিকে বসে রোগী দেখেছেন। সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত তিনি রোগী দেখেছেন ১৪২ জন। আর প্রতিরোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেন ৭০০ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র জানান, ডা: ধীরাজ মোহনকে দেখাতে আমি তার সাতক্ষীরাস্থ চেম্বারে যায়। সকালে একবার গিয়ে ফিরে এসেছি।বিকাল সাড়ে ৫ টায় গিয়ে দেখি ১২২ নং সিরিয়াল চলছে। তিনি জানান, আমি ডা: ধীরাজের চেম্বারে প্রবেশের মুহুত্বেই কি হয়েছে তা জানতে শুরু করেন ওই চিকিৎসক। চেয়ারে বসার আগেই প্রেসক্রিপশন লেখা শেষ। আমার দেহের মূল সমস্যা শুনাই আগেই তিনি আমার হাতে নাজমুন ক্লিনিক , সাতক্ষীরার ডক্টর’স হাসপাতাল ও ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পৃথক তিনটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে বলেন যান পরীক্ষা গুলো করিয়ে আনেন। ওই ছাত্র বলেন, ডা: ধীরাজ আমাকে সময় দিয়েছে সর্বোচ্ছ ৪ মিনিট। আমি আমার রোগের আসল বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারলাম না। ডা: ধীরাজ মোহন আমার কোন কথাই শুনতে চাইলো না। অথচ আমার কাছ থেকে ফি নিয়েছেন ৭০০/= টাকা।
এটা শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্রের ঘটনা নয়, প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে একই অবস্থা।

ডা: ধিরাজ মোহন বিশ্বাস সাতক্ষীরায় প্রতি শুক্রবার এসে আয় করেন প্রায় এক লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমাসে সাতক্ষীরাতে ৪ দিন এসে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যান। অথচ ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাস সাতক্ষীরার এই আয়ের বিপরীতে কোন আয়কর জমা দেন না বলে তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে। তার আয়কর ফাইলে সাতক্ষীরার আয়ের কথা উল্লেখও নেই।

আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিনে ১০ থেকে ১২ জনের বেশি রোগী দেখেন না। ফি নেন সর্বোচ্ছ ৫০০ টাকা। একটা রোগীর পিছুপে তিনি সময় দেন প্রায় ১ ঘন্টা। আর প্রয়োজন ছাড়া কোন পরীক্ষা-নিরিক্ষা দেন না।

এ ব্যাপারে ডা: ধীরাজ মোহন বিশ্বাসে সাথে কথা বললে তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আমি রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত আছি। সাতক্ষীরায় আজ কতো জন রোগী দেখলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলতে পারিনা। আমার সহকারী ভালো বলতে পারবে। সাতক্ষীরা থেকে প্রতিমাসে যে টাকা আয় করেন তার কোন আয়কর জমা দেন কি-না জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমার আইকর ফাইলে গিয়ে খোঁজ নেন। তার সহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আজ রোগীর সিরিয়াল ছিল ১৪২ জন।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা: তওহিদুর রহমান বলেন, একজ চিকিৎসক দিনে কতজন রোগী দেখতে পারবেন তার কোন সংখ্যা নেই। কিন্তু ১৪২ জন রোগী দেখলে ওই ডাক্তার তো নিজেই পাগল হয়ে যাওয়ার কথা। আমিও শুনেছি উনি প্রতিশুক্রবার সাতক্ষীরায় এসে না-কী শতাধিক রোগী দেখেন। এটা আসলে তার মানষিকতার ব্যাপার।