ডুমুরিয়ার চুকনগরে এক গৃহবধু ও তার শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক।


446 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ডুমুরিয়ার চুকনগরে এক গৃহবধু ও তার শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক।
আগস্ট ৩১, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডুমুরিয়া  :
ডুমুরিয়ার চুকনগরে এক গৃহবধু ও তার শিশুকন্যার রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধুর স্বামী পলাতক। সোমবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায় মঠবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ উদ্দীন মোড়লের পুত্র মাহাববুর রহমান (২৭) ও তার স্ত্রী রেশমা বেগম (২২) সোমবার সকালে খাওয়া দাওয়া শেষে তাদের দেড় বছর বয়সী  একমাত্র শিশু কন্যা মারিয়াকে নিয়ে নিজের ঘরে বিশ্রাম করতে যায়। এসময় সিরাজ উদ্দীন ও তার স্ত্রী বাড়ির পার্শ্ববর্তী সবজি ক্ষেতে কাজ করছিল। বেলা ১১ টার দিকে পার্শ্ববর্তী আশরাফ গাজীর কন্যা স্বপ্না (১২) মারিয়াকে কোলে নেয়ার জন্যে ওই ঘরে ঢুকে। স্বপ্না ঘরে ঢোকার পর মাহবুব কোন কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় স্বপ্না রেশমা ও মারিয়াকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন সে মারিয়ার নাম ধরে ডাকাডাকি করে। কিন্তু সাড়া না পেয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কোলে তুলে নেয় স্বপ্না। তার পরও মারিয়া কোন সাড়া দিচ্ছেনা দেখে সে রেশমাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু রেশমারও কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রেশমার গায়ে হাত দিয়ে স্বপ্না ডাকাডাকি করে। তার পরও কোন সাড়া না পেয়ে সে চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে ডাক দেয়। এ সময় বাড়ির অন্যান্য লোকজন এসে রেশমা ও তার শিশুকন্যার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। এদিকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এলাকার হাজার হাজার মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিন) এস এম শফিউল্যাহ এবং ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এম মশিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরন করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায় লাশের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, বা সে যে বিষপান বা অন্য কোন ভাবে আত্মহত্যা করেছে কিনা তারও কোন প্রমান সুরতহাল রিপোর্টে উঠে আসেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এম মশিউর রহমান বলেন যেহেতু লাশের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং রেশমার স্বামী মাহাববুর রহমান ঘটনার পর পরই আত্মগোপন করেছে সেহেতু স্ত্রী ও একমাত্র শিশুকন্যাকে সে নিজেই শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছি আমরা তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর আমরা সঠিক কারন চিহ্নিত করতে পারব।