ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাসহ বিরামহীন কার্যক্রমে ফিংড়ীর চেয়াম্যান


1714 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাসহ বিরামহীন কার্যক্রমে ফিংড়ীর চেয়াম্যান
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আবু ছালেক ::

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সহ বিরামহীন কার্যক্রমে ফিংড়ীর চেয়ারম্যান সামছুর রহমান। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বিরামহীনভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে চলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া, মহল্লা এমনকি প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে ও যাচ্ছেন। প্রতিটি গ্রামের সকল রাস্তার দু পাশের ঝোপ ঝাঁড় শ্রমিকদের দিয়ে পরিচ্ছন্ন করছেন। মশা নিধনের বিষ ছড়ানো হচ্ছে প্রতিটি অপরিচ্ছন্ন ও পানি জমা স্থানে। রাস্তা-ঘাটের ড্রেন, গর্ত, হাট-বাজার, আবর্জনার স্তুপ, ডোবা, নালা, স্কুল, কলেজ কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না এই কার্যক্রম থেকে। এবং এ বিষয় জনগণকে সচেতন মূলক দিক নির্দেশনাও দিচ্চ্ছেন প্রতিনিয়ত। জনগনের দোর গোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন জনসচেতনতায়, এ বিষয় চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে স্হানিয় সাংবাদিকদের জানান যতদিন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ না কমবে, মশার প্রকোপ না কমবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম চলতে থাকবে,,যার কারনে জনমনে ফিরে আসছে স্বস্তি। ডেঙ্গু জ্বর কি এনিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বলেন এডিস জাতীয় মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়। প্রাথমিকভাবে সনাক্ত হলে এ রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং চিকিৎসায় সেরে যায়। কিন্তু মারাত্মক ডেঙ্গু হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা না করালে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এডিস মশা চেনার উপায় কি এনিয়ে প্রশ্ন করলে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এডিস মশা দেখতে অনেকটা কিউলেক্স মশার মতো তবে গায়ে ডোরাকাটা দাগ আছে। এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে থাকতে ভালোবাসে। ফুলের টব, ভাঙ্গা হাড়ি পাতিল, কলস, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার,কৌটা, নারিকেল বা ডাবের খোসা ইত্যাদি যেখানে সচ্ছ পানি থাকে সেখানে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করে। এডিস মশা আলো-আঁধারিতে সকাল-সন্ধ্যা কামড়ায়। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪- ১০৫ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়। মাথাব্যথা, মাংসপেশি, চোখের পেছনে, পেটের ব্যথা এবংহাড়ে বিশেষ করে মেরুদন্ডে ব্যথা। অরুচি, বমি বমি ভাব, ও বমি করা, চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ, চোখে রক্তক্ষরণ, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা লালচে /কালো রঙের পায়খানা, দাঁতের মাড়ি,নাক,মুখ, ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পাত, রক্ত চাপ হ্রাস পাওয়া,নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া, ছটফট করা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে পড়া। শরীরে হামের মতো দানা দেখা দিতে পারে। মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ হতে রক্তক্ষরণ এবং পেটে ও ফুসফুসে পানি জমতে পারে। ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয় কি এনে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ডেঙ্গুজ্বর হলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। জ্বর যাতে না বাড়ে সে জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে খেতে পারেন। রোগীর মাথায় পানি দিন বা ভেজা কাপড় দিয়ে তা মুছে দিন। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল ও স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন।রোগ বৃদ্ধি পেলে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিন।ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আপনার বাড়ী,বাসা, অফিস, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাদ,ও আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করুন, ঝোপ-জঙ্গল সরকারি অথবা নিজ উদ্যোগে অতি শীঘ্রই পরিষ্কার করুন। ছাদ বাগানের টব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।ফুলেরটব, প্লাস্টিকের পাত্র,,ভাঙ্গা হাড়ি পাতিল ভাঙ্গা কলস, গাড়ির পরিতক্ত টায়ার, টিনের কৌটা, ড্রাম, নারিকেলবা বা ডাবের খোসা ফাস্ট ফুটের কনটেইনার, এয়ারকন্ডিশনার রেফ্রিজারেটরের তলায় পানি জমতে দেবেন না। যেসব স্থানে মশা জন্মায় সেই সব স্থানে পানি জমতে দেবেন না। বাড়ির ভেতর আশপাশ ও আঙ্গীনা পরিষ্কার রাখুন, দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন, তাহলে অবশ্যই ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাবে জনগন। নিজে সচেতন হন অপরকে সচেতন হওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাই এগিয়ে আসুন, নিজে বাচুন অপর কে বাচার সহযোগিতা করুন এটাই হোক আমাদের সকলের কাম্য।