সাতক্ষীরা পল্লীমঙ্গল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য : ডোনেশন দাও, নিয়োগপত্র নাও !


396 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পল্লীমঙ্গল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য : ডোনেশন দাও, নিয়োগপত্র নাও !
মার্চ ১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
প্রথম হওয়ার পরেও শহরের পল্লীমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজের দাবীকৃত ডোনেশন না দেওয়ায় এক চাকুরি প্রার্থীকে যোগদান করানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) পদে চাকুরি পাওয়ার আশায় বিশ্বজিৎ কুমার গত দুই মাস ধরে দেনদরবার করেও সুফল পাচ্ছে না। অন্যদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরী মোহন প্রথম হওয়ার পরে চাকরির জন্য সুপারিশ করলেও আমলে নেয়নি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি। বিশ্বজিৎ কুমার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আলম সানু ডোনেশন দিয়ে নিয়োগপত্র নেওয়ার কথা জানান। তবে নিয়োগ কমিটি ঐ চাকুরি প্রার্থীকে কৌশলে স্কুলে ডেকে নিয়ে রিভিস করিয়ে সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর করে নেন।

সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা শহরের পল্লী মঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজের এস এস সি ভকেশনাল শাখায় সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান)সহ ৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়োগ পরীক্ষার জন্য গত বছর ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। সে সময় পাতানো নিয়োগের পায়তারা করায় প্রথম দফা নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২৯ ডিসেম্বরে পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। সেখানে ঐ পাতানো নিয়োগের তিনজনসহ কাকতালীয় ভাবে বিশ্বজিৎ কুমার প্রথম স্থান অধিকার করে। ফলে গাত্রদাহ শুরু হয় প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের। গত ৩১ ডিসেম্বর নিয়োগ পত্র নেওয়ার জন্য বিশ্বজিৎ কুমারকে প্রতিষ্ঠানে ডাকা হয়। সেখানে ঐ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এরিয়েন্স ক্লাবের কোচ শাহ আলম শানুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ডোনেশনের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা বিশ্বজিৎ কুমারকে একটি ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর ও নিয়োগপত্র রিসিভ করিয়ে নেন। গত ৫ জানুয়ারি যোগদানের তারিখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম তাকে যোগদান করান নি। এ বিষয়ে মুখ না খুলতে তাকে অশ্লীল ভাষায় গলিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রর্দশন করেন। ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ কুমার জানান, আমার কাছে ৫ লাখ টাকা ডোনেশন চাওয়া হয়েছে। আমি কিছু টাকা দিতে চেয়েছি কিন্তু তারা আমাকে যোগদান করাচ্ছে না। নিয়োগ কমিটি বলেছে, ডোনেশন দাও, নিয়োগ নাও।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকতা কিশোরী মোহন সরকার স্কুলের সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে ডোনেশন কম নেওয়ার কথা বললেও তারা রাজী হননি। উপরন্তু তারা একটি রেজুলেশন করে তাদের পছন্দের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে নিয়োগের পায়তারা করছে। বিশ্বজিৎ কুমার এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছে। তবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আলম শানুর মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম জানান, আমরা কারো কাছ থেকে ডোনেশন চাই নি। বিশ্বজিৎ যোগদান করেন নি। তবে তিনি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সাদা স্টাম্প দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। তবে যোগদান না করলে কেন অভিযোগ করেছেন প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়ে কলেজে এসে কথা বলার পরামর্শ প্রদান করেন। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন জানান, আমি কয়েকবার প্রথম স্থান পাওয়া প্রার্থীকে নেওয়ার সুপারিশ করেছি। কিন্তু তারা নিয়োগ দেয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমার কাছে তদন্ত দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।