ঢাকার কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি মতিয়ার সাতক্ষীরার তালার ওমরপুর গ্রামের নাসিরউদ্দীনের ছেলে


3282 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঢাকার কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি মতিয়ার সাতক্ষীরার তালার ওমরপুর গ্রামের নাসিরউদ্দীনের ছেলে
জুলাই ২৭, ২০১৬ জাতীয় তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান  :
ঢাকার কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি মতিয়ার রহমানের (২৪) পরিচয় মিলেছে। সে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের ওমরপুর (নতুন গাঁ)  গ্রামের নাসিরউদ্দীন সরদারের ছেলে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মতিয়ার রহমান নাসিরউদ্দীনের প্রথম স্ত্রী খায়রুন্নেসার গর্ভে জন্ম নেয়। চার বছর বয়সের সময় মতিয়ারের মা খায়রুন্নেসাকে তালাক দেন নাসিরউদ্দীন। সেই থেকে তার মা নানার বাড়ী ধানদিয়া অবস্থান নেন। তবে মতিয়ার রহমান তার মার কাছে না গিয়ে ওমরপুরে পিতার বাড়ীতে বেড়ে উঠতে থাকে। অপরদিকে মতিয়ারের মা জীবিকার সন্ধানে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরী নেন।

এগার/বার বছর বয়সে মতিয়ার তার মায়ের সাথে ঢাকায় চলে যায়। এরপর থেকে তার বাড়ীর সাথে তেমন একটা যোগাযোগ ছিলনা। বছর দুয়েক আগে সে একবার বাড়ীতে এসেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সে সময় বাড়িতে মাত্র দু‘দিন থেকেই সে আবার ঢাকায় চলে যায়। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে মাত্র চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল বলে জানা গেছে।

Tala Picture

কয়েক বছর আগে মতিয়ারের মা খায়রুন্নেসা গার্মেন্টেসের চাকরী ছেড়ে দিয়ে গ্রামের অর্থাৎ বাবা  কাটাখালি-ধানদিয়া গ্রামের তাবারক আলী গাজীর (মতিয়ারের নানার বাড়ি ধানদিয়ায়) বাড়ীতে অবস্থান নেন।
আর মতিয়ার রহমান বাড়ীতে না এসে ঢাকাতে অবস্থান করতেন । তবে সে ঢাকাতে কী করতো তা তার এলাকার মানুষ খোঁজ রাখে না।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, মতিয়ার অত্যন্ত গরীব পরিবারের সন্তান। দাদা থেকে প্রাপ্ত মাত্র ষোল শতক বসত বাড়ী ছাড়া তার বাবা চাচাদের আর কোন সহায় সম্পত্তি নেই। তাছাড়া তার বাবার একাধিক স্ত্রী আছে । অন্য দু‘সৎ মায়ের ঘরেও একটি করে সন্তান রয়েছে।

এদিকে, মতিয়ারের পিতা নাসিরউদ্দীন জানান, তিনি কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাবাড়ীয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ীতে বসে বুধবার রাত ৮ টার দিকে টেলিভিশনে  সংবাদ দেখে নিশ্চিত হয়েছেন কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গী মতিয়ার রহমান তার ছেলে। এর আগে সে জানতো না তার ছেলে নিহত হয়েছে।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো: আলতাফ হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, কল্যানপুরে নিহত জঙ্গি মতিয়ারের বাড়ি তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে এ-টি মোটমুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তার বাবাকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

######
——————————————————-
ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
——————————————————-

জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় বলে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নিহতরা হলেন – দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ (২৩), পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম (২৪), ঢাকার ধানমণ্ডির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), ঢাকার গুলশানের আকিফুজ্জামান খান (২৪), ঢাকার বসুন্ধরার সেজাদ রউফ অর্ক (২৪), সাতক্ষীরার মতিউর রহমান (২৪) এবং নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন (২২)।

Jongi-ed

এদের মধ্যে সেজাদ রউফ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ এই যুবক গুলশানে ক্যাফেতে হামলাকারী নিবরাজ ইসলামের বন্ধু ছিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে কল্যাণপুরের অভিযানে নয়জন নিহত হওয়ার পর রাতে তাদের ছবি (রক্তাক্ত লাশের ছবি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নির্দেশনা নেওয়ার অনুরোধ করা হল) প্রকাশ করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে সবার কাছে তথ্য চেয়েছিল পুলিশ।

ডিএমপি জানায়, প্রকাশিত লাশের ছবির প্রথমজন হলেন আব্দুল্লাহ। তিনি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার ব্ল্লভপুর গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে।

লাশের দ্বিতীয় ছবিটি আবু হাকিম নাইমের। তিনি পটুয়াখালীর কুয়াকাটার নুরুল ইসলামের ছেলে।

তৃতীয় ছবিটি তাজ-উল-হক রাশিকের। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডির ১১/এ নম্বর সড়কের রবিউল হকের ছেলে।

চতুর্থ ছবিটি আকিফুজ্জামান খানের। তিনি গুলশানের ১০ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাড়ির সাইফুজ্জামান খানের ছেলে।

ষষ্ঠ ছবিটি সাজাদ রউফ অর্কের। তার বাবা তৌহিদ রউফের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ৬২ পার্ক রোড, বাসা নং-৩০৪, রোড নং-১০, ব্লক-সি, ফ্ল্যাট নং-০৯, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

সপ্তম ছবিটি মতিয়া রহমানের বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ওমরপুর গ্রামের নাসিরউদ্দিন সরদারের ছেলে।

অষ্টম ছবিটি জোবায়ের হোসেনের। তিনি নোয়াখালীর সুধারাম থানার পশ্চিম মাইজদীর আবদুল্লাহ মেম্বারের বাড়ির আব্দুল কাইউমের ছেলে।

কল্যাণপুরের অভিযান শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় ‘জঙ্গিদের’ লাশ

কল্যাণপুরের অভিযান শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় ‘জঙ্গিদের’ লাশ

নয়টি ছবির পঞ্চম ও নবম জন এখনও অশনাক্ত অবস্থায় রয়েছে। সবগুলো লাশই ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।

ছবি প্রকাশের পর অষ্টম ছবিটি নিজের সন্তান সাব্বিরুল হকের বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ফুলগাজীপাড়ার বরুমছড়া গ্রামের আজিজুল হক।

একই ছবি নোয়াখালীর জোবায়েরের বলে তার বাবাও দাবি করেন। ডিএমপি এখন অষ্টম ছবিটি জোবায়েরের বলে নিশ্চিত করল।

এদের মধ্যে সেজাদ ঢাকার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। তার আগে পড়তেন মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তেন গুলশানের ক্যাফেতে হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত নিবরাজ ইসলাম। তারা দুই বন্ধু শাহবাগ থানার একটি মামলার আসামি ছিলেন।

সেজাদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাসা বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি জানিয়ে তার বাবা তৌহিদ রাজধানীর ভাটারা থানায় জিডি করেছিলেন।

নিবরাজও ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে তার পরিবারের ভাষ্য। এরপর ১ জুলাই গুলশানের ক্যাফেতে নিহত হওয়ার পর জানা যায়, তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঝিনাইদহের একটি মেসে ছিলেন।

ওই মেসে নিবরাজের আরেক সঙ্গী আবীর রহমানও ছিলেন, যিনি ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় পুলিশের উপর হামলা চালানোর পর গুলিতে নিহত হন।

নিবরাজের মতো আবীরও নিখোঁজ ছিলেন কয়েক মাস ধরে। তাদের সঙ্গে ওই মেসে যে আটজন ছিলেন, তাদের মধ্যে সেজাদও ছিলেন বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।

কল্যাণপুরের এই বাড়ির পঞ্চম তলায় জঙ্গিরা আস্তানা গেঁড়েছিল

কল্যাণপুরের এই বাড়ির পঞ্চম তলায় জঙ্গিরা আস্তানা গেঁড়েছিল

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর র‌্যাব নিখোঁজ তরুণ-যুবকদের যে তালিকা দেয়, তাতে ২৪ বছর বয়সী সেজাদের নাম রয়েছে।

বুধবার মর্গে লাশ শনাক্তের জন্য তৌহিদ রউফ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে যান, তার সঙ্গে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তাও ছিলেন।

তবে দুপুরে লাশ দেখে ছেলেকে শনাক্ত করতে পারেননি তৌহিদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা লাশ দেখেছি। চেহারায় পুরোপুরি মিল নেই। ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন রয়েছে।”

নোয়াখালীর কাইউম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধিকে বলেন, তার ছেলে জোবায়ের নোয়াখালী সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত ২৫ মে থেকে তিনি নিখোঁজ হলে গত ১২ জুলাই থানায় জিডি করেন তিনি।

কাইউম জানান, তার ভাস্তে বাহাদুরের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ জোবায়ের।

ছেলেকে হারানোর জন্য জামায়াতের ‘রোকন’ বাহাদুরকে দায়ী করে কাইউম বলেন, “সে আমার ছেলেকে শিবিরের রাজনীতিতে নিয়ে গিয়েছিল। তার প্ররোচনায় আমার ছেলে জঙ্গি তৎপতায় জড়িয়ে পড়ে।”

এলাকাবাসী জানায়, সৌদি আরব ও আফগানিস্তান থেকে ফিরে বাহাদুর গত কয়েক বছর দরে জামায়াতে সক্রিয় হন। তার বাবা জয়নাল আবদিন চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা করা হয়।

অন্য যাদের নাম ডিএমপি দিয়েছে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।