ঢাকার বাসায় সাতক্ষীরার কাজের বুয়া আসমা খুন না আত্মহত্যা তানিয়ে ধোঁয়াশা


1209 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঢাকার বাসায় সাতক্ষীরার কাজের বুয়া  আসমা খুন না আত্মহত্যা তানিয়ে ধোঁয়াশা
জুলাই ১৪, ২০১৫ আশাশুনি জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে  কাজের বুয়া কিশোরী আসমা খাতুন রাজধানী ঢাকার  একটি বাসাবাড়িতে কি  খুন হয়েছে নাকি সে আত্মহত্যা করেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে । সোমবার কাজের বুয়া আসমা নিহত হয়।
তার পরিবারের অভিযোগ আসমাকে  ধর্ষনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ ঝুলিয়ে প্রচার দেওয়া হয়েছে সে আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হয় ।
আসমার বোন  সাতক্ষীরার রোমেছা খাতুন জানান, ঢাকার জুরাইনে কমিশনার রোডের নবায়ন গলির ১৩১৯/১ নম্বর বাড়িতে  থাকেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার  ফতেপুর গ্রামের আবদুস সাত্তার ও তার স্ত্রী । তাদের বাসায় কাজের মেয়ে হিসাবে গত পাঁচ বছর যাবত রয়েছে আশাশুনির টেকাকাশিপুর গ্রামের মোজাহার আলির মেয়ে আসমা খাতুন ( ১৩)। তিনি জানান ‘বাসার মালিক আবদুস সাত্তার তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রায়ই তার যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করতো । এ বিষয়ে সে সাড়া দিতে রাজী না হওয়ায়  তাকে মারধরও করা হতো। বিষয়টি সে সাত্তারের স্ত্রীকে জানালে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলতো ‘ যা বলে তাই শোন’। আসমা সম্প্রতি একথা সাতক্ষীরায় তার আত্মীয় স্বজনকে জানিয়েছিল’।
তিনি জানান ‘ঘটনার দিন সোমবার সকালে অথবা আগের রাতের কোনো এক সময়ে সাত্তার তার ওপর যৌন নির্যাতন করতে চাইলে সে বাধা দেয় ।এ সময় সাত্তার ধারালো ব্লেড দিয়ে তার হাতের রগ কেটে  দেয় । পরে তাকে হত্যা করে লাশ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে সাত্তার’ । পুলিশ ঘরের মধ্য থেকে ব্লেড ও রক্ত আলামত হিসাবে সংগ্রহ করেছে । সাত্তার ঢাকার লালমাটিয়ায় বায়ো ফার্মায় ও তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন যাত্রাবাড়িতে প্রিমিয়ার ডায়াগনিস্টক সেন্টারে রিসেপসনিস্ট পদে  চাকরি করেন। তিনি আরও জানান ‘গত পাঁচ বছরে আসমার বেতন বাবদ মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়েছে সাত্তার। তাকে বাড়িতে আসতে দিতো না মোটেও’। রোমেছা জানান তাদেরকে গ্রেফতার  করা হলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রোমেছা  আরও জানান ‘খাটের ওপর থেকে সিলিং ফ্যানের উচ্চতা এতোটাই কম যে সেখানে ঝুলে আত্মহত্যা করা অনেকটাই অবাস্তব । তা ছাড়া সাত্তার ও তার স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সে নিজেই যদি ব্লেড দিয়ে হাতের রগ কেটে থাকবে তাহলে রক্তাক্ত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে  ঝুলতে পারাটা সহজ নয়’। বিষয়টি আরও তদন্ত করার আহবান জানিয়েছেন আসমার বোন রোমেছা।